দেশের বড় শহরগুলোতে পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২০, ২১:৩০

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধ জীবন যাত্রায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 

শুক্রবার কমিটির প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লার সভাপতিত্বে ক‌মি‌টির ১৪তম অনলাইন সভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট স্থাপন না করার সুপারিশ করে পরামর্শক কমিটি এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পশু কেনা বেচার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য জায়গায় সংক্রমণ প্রতিরোধ নীতিমালা পালন সাপেক্ষে কোরবানি পশুর হাট বসানো যেতে পারে বলে বলা হয়েছে।

কোরবানি পশুর হাট স্থাপন ও পশু জবাই এর ক্ষেত্রে নিচের নিয়মসমূহ অনুসরণ প্রয়োজন বলে মনে করে কমিটি-

- কোরবানির পশুর হাট শহরের অভ্যন্তরে স্থাপন না করা ।

- কোরবানি পশুর হাট খোলা ময়দানে হতে হবে, যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।

- বয়স্ক ব্যক্তি (৫০ বয়সোর্ধ্ব) এবং অসুস্থ ব্যক্তি পশুর হাটে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

- পশুর হাটে প্রবেশ ও বাহির এর পৃথক রাস্তা থাকতে হবে।

- পশুর হাটে আগমনকারী সকল ব্যক্তির মাস্ক পরিধান করা বাধ্যতামূলক।

- কোরবানি পশু জবাই বাড়িতে না করে শহরের বাহিরে সিটি কর্পোরেশনের দ্বারা নির্ধারিত স্থানে করতে হবে। 

- অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে বাড়ির বাহিরে কোরবানি দেয়া সম্ভব হলে, তা করার জন্য উৎসাহিত করা।

এছাড়া,  কোভিড-১৯ সংক্রমণ বিস্তার প্রতিরোধ এর ঈদের ছুটির সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম থেকে অন্যান্য স্থানে যাতায়াত বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।

বাকি সুপারিশগুলো হলো-

১. কভিড-১৯ পরীক্ষার সংখ্যা ও মানোন্নয়নের জন্য পরীক্ষাগারের সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা বেশি প্রয়োজন। অটো-এক্সট্র্যাকশন মেশিনের সহযোগিতায় পরীক্ষাগারে কভিড-১৯ পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব। বিভিন্ন পর্যায় থেকে দক্ষ জনশক্তিকে কভিড-১৯ পরীক্ষাগারে নিয়োগ দেয়া। পরীক্ষার জন্য নমুনা দেয়া থেকে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত সময় কমানো প্রয়োজন। 

অ্যান্টিজেন বেজড কভিড-১৯ পরীক্ষার অনুমতির জন্য ঔষধ প্রশাসনকে পরামর্শ দেয়া হয়। বেসরকারিভাবে এই কার্যক্রম না করার মতামত দেয়া হয় ।

২. বিভিন্ন হাসপাতালে কভিড-১৯ আক্রান্ত ও কভিড-১৯ আক্রান্ত নন এমন প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ইউনিট গঠন।

৩. প্রবীণরা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি এবং বিভিন্ন কারণে তারা কভিড পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের স্থানে যেতে সক্ষম হচ্ছেন না, যার ফলে প্রবীণদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় তাদের সহজভাবে অথবা বিশেষভাবে কোভিড-১৯ পরীক্ষার, সম্ভব হলে বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

৪. সরকারিভাবে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ক্রয় প্রক্রিয়াধীন, এমতাবস্থায় জাতীয় কারিগরি জাতীয় পরামর্শ কমিটির পক্ষ থেকে উক্ত ক্রয় প্রক্রিয়ায় সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক মূল্যে ক্রয় নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।

৫. কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের হয়রানি কমিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খালি শয্যার তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন দেয়া এবং নির্দিষ্ট হাসপাতালের সামনে ডিসপ্লে করার পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়াও আন্ত:হাসপাতাল নেটওয়ার্কিং এ একটি হাসপাতাল অপর হাসপাতালের খালি শয্যার তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থার কথা বলা হয়।  

৬. বাংলাদেশে কভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন প্রস্তুতের বিষয়টিকে জাতীয় কারিগরি পরামর্শ কমিটি স্বাগত জানায়। তবে ভ্যাকসিন প্রস্তুত অথবা আবিষ্কারে অবশ্যই সরকার, বিএমআরসি ও ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করে করতে হবে বলে বলা হয়।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ