পবিপ্রবিতে অস্ত্র হাতে সেলফি: গভীর রাতে হলে তল্লাশি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০১৮, ১১:৫৬

পবিপ্রবি, ০৫ জুন, এবিনিউজ : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে অস্ত্র হাতে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ  ছবি নিয়ে পোস্টারিং করা হয়েছে ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, বিভিন্ন হলসহ পুরো ক্যাম্পাস এ পোস্টারে ছেয়ে গেছে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দুইটি আবাসিক হলে অভিযান চালিয়ে কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অভিযান চলাকালে কোনো সাংবাদিককে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ছবি তুলতে দেওয়া হয়নি।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অস্ত্রধারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে তোলপাড় চলছে। মঙ্গলবার সকালের দিকে পোস্টারিংয়ের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয়ে যায় নানা ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ আবার এ পোস্টার ছিঁড়েও ফেলেন। তবে 'সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস চাই'- এ স্লোগান নিয়ে লাগানো এ পোস্টারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে এ পোস্টারের ছবি নিয়ে রয়েছে নানা কথা। অনেকেই বলছেন, এ ছবিটি সদ্য তোলা নয়। এটা পুরনো ছবি। তবে, ছবিতে যারা অস্ত্র হাতে রয়েছেন, তারা ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসী এবং তারা এই অস্ত্র নিয়ে ক'দিন আগে রুমে রুমে হামলা করেছিলেন।

 

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে এখনও পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।


অন্যদিকে শুক্রবার ভোররাতে পটুয়াখালী এবং বরিশাল অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত 'তদন্ত কমিটি'র কার্যক্রম শুরুতেই থমকে গেছে। কমিটির আহ্বায়ক কৃষি অনুষদের ক্যামিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ব্যস্ততার কারণে কমিটির দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন কাউকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রক্টরিয়াল টিম ও আবাসিক হলের প্রভোস্টরা এম.কেরামত আলী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের বিভিন্ন কক্ষে অভিযান চালিয়ে থেকে বেশ কয়েকটি রামদা, লোহার পাইপ ও রড উদ্ধার করে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রড উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।এ ব্যাপারে বিশ্বদ্যিালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি আবাসিক হলে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি চিকন রড ও টুকরো করা বেডস্ট্যান্ড উদ্ধার করছে। কোনো ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি। এমনটি হলে অবশ্যই পুলিশের সহযোগিতা নেয়া হতো।’

 

পবিপ্রবির কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. রিয়াজুল হাসান বলেন, 'পোস্টারটি সদ্য তোলা কিংবা আগের কি-না সেটা জানি না। তবে, পোস্টারে যাদের ছবি রয়েছে তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজ। এরাই সেদিন রাতে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।'

শিক্ষার্থী আ ন ম শফিউল্লাহ অভি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না করলে ক্যাম্পাসে বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। হামলা, মারধর, ভাংচুর, টাকা, ল্যাপটপ লুটপাটের পরও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা ধৈর্য ধরে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখার জন্য। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে তো ক্যাম্পাসে কিছু একটা ঘটবে তা নিশ্চিত। আর যে ছবিটা দিয়ে পোস্টার ছাপা হয়েছে সেটা পুরনো বটে; কিন্তু এইসব অস্ত্র নিয়েই সেদিন তারা হামলা করেছিল এবং এইসব অস্ত্র ওই হলে ওদের কাছে রয়েছে।'


বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর আ.ক.ম মোস্তফা জামান জানান, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন মোটামুটি শান্ত রয়েছে। তবে কে বা কারা অস্ত্র হাতে কিছু ব্যক্তির ছবি নিয়ে ক্যাম্পাসে পোস্টারিং করিয়েছে। একাডেমিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবনসহ সর্বত্র এ পোস্টার লাগানো হয়েছে। এ নিয়েও কিছু উত্তেজনা রয়েছে। কিছু কিছু পোস্টার কারা যেন আবার ছিঁড়েও ফেলেছে। কেউ কেউ বলছেন এ ছবিটি ওদের আগের পুরনো ছবি।

প্রসঙ্গত, আঞ্চলিকতার আধিপত্য নিয়ে গত শুক্রবার ভোররাতে পটুয়াখালী এবং বরিশাল অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে ওই হলের অন্তত ৩২টি কক্ষ ভাংচুর করা হয় এবং উভয় গ্রুপের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম সাগরের অবস্থা সংকটাপন্ন।

 

এবিএন/জি এম শান্ত/জসিম/নির্ঝর

এই বিভাগের আরো সংবাদ