উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ৫ম দিনের মতো আন্দোলন চলছে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫৩ | আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫৪

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বাবিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ৫ম দিনের মতো আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর রাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হলেও তা উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে আন্দোলনের মুখে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী হল ছাড়েননি। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

আজ সোমবারও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। ভিসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ভিসির নানা অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ঝড়, বৃষ্টি বা অন্য যতো ধরনের বাধাই আসুক না কেন তারা তা উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। যতক্ষণ না দুর্নীতিবাজ উপাচার্যের পদত্যাগ করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এদিকে শনিবার হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে নিলে হলের বিদ্যুৎ, পানি বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ দিনই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ূন কবীর পদত্যাগ করেন। পরে এ হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তাদের তদন্ত করে তারা আগামী ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ক্যাম্পাস উত্তাল থাকায় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে রবিবার জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সম্প্রতি ছুটি চলে যাওয়ায় প্রক্টরের দায়িত্বে থাকা ড. বশির উদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছেন তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ আন্দোলনে হাতে গোনা কয়েক শিক্ষকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা।

ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আন্দোলনে সরগরম থাকায় ক্যাম্পাসের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। 

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভিতরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে পুলিশ ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়াসহ আরও কয়েকটি দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নিলেও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ