নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবি

অনশনে ১৩ শিক্ষার্থী অসুস্থ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:২৫

সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবিতে আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১৩ জন শিক্ষার্থী। গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে এখনো অনশনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অনশন কর্মসূচির মুখপাত্র উৎপল বিশ্বাস।

পূজার দিন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) অনশনের দ্বিতীয় দিনে অন্তত ১৩ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুরে জগন্নাথ হল সংসদের সহসভাপতি উৎপল বিশ্বাস এবং জগন্নাথ হল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাসের নেতৃত্বে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অনশনে বসেন শিক্ষার্থীরা। অনশনরত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। গতকাল রাতে তীব্র শীতের মধ্যেও রাজুর পাদদেশে অবস্থান করেছিলেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা।

এ দিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী, এজিএস সাদ্দাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল সংসদ, টিএসসির সংগঠনগুলোসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার বিকালে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে ঢাবি উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিক বিচার-বিবেচনা করে সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে।

ইসিকে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা জাতি থেকে আসেনি। এটি বানানো। যদি আইন-আদালতের কোনো ঝামেলা না থাকে, তাহলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিকটি বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনের উচিত, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা।

হিন্দু শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনশনকারীদের সঙ্গে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে ধ্রুব নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশকে ইসি প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন না করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী রাজপথে নামবে। ইসির এই সিদ্ধান্তকে ধিক্কার জানাই।

মাজেদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ইসির এমন সিদ্ধান্তের জন্য রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন কর্মসূচিতে অর্ধশত শিক্ষার্থী যুক্ত হয়েছে। হিন্দু ভাইদের পাশে আমরা মুসলিম শিক্ষার্থীরাও রাজপথে রয়েছি। এটি প্রমাণ করে আমরা একটা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র।

অনশন কর্মসূচির মুখপাত্র উৎপল বিশ্বাস জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি চলমান থাকবে। তিনি বলেন, শাহবাগ ঘেরাও কর্মসূচির পর অনশনের দ্বিতীয় দিন আজ। তবে এখনো ইসির পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ