বেতনা নদীর বেদনা

  এম এ রায়হান, শার্শা, যশোর প্রতিনিধি

২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৫:০১ | অনলাইন সংস্করণ

বেতনা নদী বা বেতনা-কোদালিয়া নদী : বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী।এই নদী ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৯১ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৫৫ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" কর্তৃক বেতনা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৬৪।

উৎপত্তি ও প্রবাহ    
এই নদীর উৎপত্তি ভৈরব নদের শাখা হিসেবে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে; কিন্তু এই উৎসমুখ এখন বিচ্ছিন্ন। মহেশপুরে কতগুলো বিল থেকে পানি নিয়ে এই নদী ভারতে প্রবেশ করেছে। আবার যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে নাভারন হয়ে সাতক্ষীরা জেলায় প্রবেশ করেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এই নদীর অপর নাম কোদালিয়া। এই নদী সাতক্ষীরা জেলায় মরিচ্চাপ নদীর সাথে মিলে খোলপেটুয়া নদী নাম ধারণ করেছে। এর পরে নদীটি কালিয়া নদী নামে পরিচিত। কালিয়া নদীর শাখা নদীর নাম দালুয়া নদী। বেতনা নদী সুন্দরবন অংশে অর্পণগাছিয়া নদী নামে পরিচিত। অতঃপর এই একই নদী মালঞ্চ নামে পরিচিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।

বেদনাঃ এটি একটি ঐতিহাসিক নদী। যার ১৯১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং গড় প্রস্থ ৫৫ মিটার হওয়া সত্ত্বেও নদীটি আজ মৃত প্রায়। আজ থেকে প্রায় ত্রিশ বছর পূর্বে নদীটি ছিল অনন্ত যৌবনা। প্রতিদিন দুইবার করে তার বুকে জোয়ার -ভাটা প্রবাহিত হতো। কিন্তু আজ তার এই অসহায় মৃতপ্রায় অবস্থা দেখার কেউ নেই। গত  দশ বছর  যাবৎ তার বুকে বাঁধ দিয়ে করা হয়েছে কৃত্তিম ভাবে মৎস্য চাষ। বিশেষ করে শার্শা উপজেলায় যতটুকু অংশ পড়েছে তার পুরোটাই কচুড়িপানায় ভরে আছে। বিগত কয়েক বছর পূর্বে শার্শা উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে দখলদারদের হাত থেকে নদীটি মুক্ত হলেও তার প্রবাহমান স্রোত ফিরে পায় নাই। যার ফলে নদীটি আজ কচুড়িপানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। বর্ষার ভরা মৌসুমেও তার বুকে কচুড়িপানায় পরিপূর্ণ ছিল এখনও আছে। ফলে নদী পথে কোন প্রকার নৌযান চলাচল করতে পারে না। 

এমতাবস্থায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসীর আবেদন নদীটির দ্রুত খনন ও কচুড়িপানা পরিষ্কার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হউক।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ