আজকের শিরোনাম :

ভোলার দুই পৌরসভায় হ্যাটট্রিক জয়ের আশায় আ.লীগ, প্রচারে বাধার অভিযোগ বিএনপির

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫২

চতুর্থ ধাপে পৌরসভা নির্বাচনে ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় তৃতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হতে হ্যাটট্রিক জয়ের আশায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। তবে মাঠে সেরকম দেখা মিলছে না বিএনপি প্রার্থীদের। আগামী ৩০ জানুয়ারি এই দুই পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে ভোলার ২টি পৌরসভায় ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন ৫ মেয়র প্রার্থী। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৯ জন, সংরিক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। ২টি পৌরসভার ১৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ৭১৬ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৩৯৫ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ৩২১ জন। এখানে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম ও বিএনপির মনিরুজ্জামান কবির। এছাড়া ৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩১ জন, সংরিক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫ জন ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। কাউন্সিলর পদে ৭নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তাজউদ্দিন আহমেদ। এই পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

অপরদিকে, দৌলতখান পৌরসভায় মোট ভোটার ১২ হাজার ৬০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৭০৮ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ৮৯৮ জন। এখানে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন তালুকদার ও বিএনপির আনোয়ার হোসেন কাকন। এছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৮ জন, সংরিক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৮ জন ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। এই পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সরিজমিনে দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকা বিভিন্ন প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় গত ১০ বছরে রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, শহরের রাস্তার দু’পাশে ফুটপাত নির্মাণ, দৃষ্টিনন্দন খেয়াঘাট নির্মাণ, সৌন্দর্য বর্ধনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সরকার দলীয় সমর্থন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান পৌরসভার মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। দিনরাত নিজের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প সভা আর উঠান বৈঠকের পাশাপাশি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মীদের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন এ প্রার্থী।

অপরদিকে, বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী মোঃ মনিরুজ্জামান কবিরকে নিজের পক্ষে প্রচার প্রচারণায় তেমন মাঠে দেখা যাচ্ছে না। দলের হাইকমান্ডের চাপে নির্বাচনের মাঠে কিছু নেতাকর্মী কবিরের পক্ষে আইওয়াশ প্রচারণায় নামেন। তবে ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থীর অভিযোগ, নেতাকর্মীরা প্রচার প্রচারণায় আসতে পারছেনা। তাদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করছে। তবে মাঠে দেখা না গেলেও বিএনপির প্রচারণা মোবাইল আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জামান কবির অভিযোগ করে বলেন, এই নির্বাচন একটা প্রহসনের নির্বাচন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নাই। আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি শুধুমাত্র গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। তবে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলেও জানান বিএনপির এই প্রার্থী। 

এদিকে, দৌলতখান পৌরসভা নির্বচনের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বিএনপি দলীয় প্রার্থী আনোয়ার হোসেন কাকনের অভিযোগ তারা প্রচার প্রচারণায় বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোঃ জাকির হোসেন তালুকদার বলছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিএনপি আমলে তাদের নেতা-কর্মীরা যে নির্যাতন-নিপিড়ন চালিয়েছে তার প্রতিউত্তর পাওয়ার আতঙ্ক থেকে তারা এসব কথা বলছে। তবে তারা দুজনেই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আলা উদ্দিন আল মামুন জানান, নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য প্রর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্র প্রর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার, র‌্যাব, বিজিবির পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করবে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্র একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। নির্বাচনি এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখার জন্য প্রতিটি পৌরসভায় ৩ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর বাইরেও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনি এলাকায় আইশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

আগামী ৩০ জানুয়ারি এই দুই পৌরসভার ২৩ হাজার ৩২২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ