বরিশালের চাঁদপুরা ইউপি’তে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩৫

বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের ৬ নং ও ৮ নং ওয়ার্ডে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই ডিলারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ডিলার মোঃ শাহীন হাওলাদার এর বিরুদ্ধে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণের অনিয়মে প্রতিবাদ করায় শাহিনের বাবা সেলিম কর্তৃক ভুক্তভোগীগের লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ডিলার শাহীন ওজনের চাল কম দেওয়ায় তাদের উপর বিক্ষুব্ধ হয়েদুই ডিলারের বিরুদ্ধে উঠেন ভুক্তভোগীরা। পরে ডিলারের অনিয়মের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক জন ব্যক্তি প্রতিবাদ করলে তার বাবা সেলিম প্রতিবাদকারীদের ধাক্কা দিয়ে স্থান ত্যাগ করার হুমকি দেয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সাংবাদকর্মীরা গিয়ে সত্যতা দেখতে পান। পরে তারা বিতরন করা চাল মিটারে ওজন দিয়ে দেখতে পান ৩০ কেজি চালের পরিবর্তে ২৭/২৮ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। ৬ নং ওয়ার্ডে ৫৪৩ জনকে ১০ টাকা কেজি চালে কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম দিনই প্রায় ৩ শ’ জনের মাঝে চাল বিতরন করা হয়। চাল নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি ওজনে চাল কম পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তবে ভুক্তভোগীরা আরো বলেন, চাল বিতরনের সময় কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা (ট্যাগ অফিসার) ফজলুর রহমান এর উপস্থিতিতেই আমাদের চাল কম দিয়েছে ডিলার। আমরা প্রতিবাদ করলেও দায়িত্বে থাকা অফিসার তিনি ডিলারের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেননি।

চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করার তার বাবা কর্তৃক ভুক্তভোগীদের লাঞ্চিত করার বিষয়ে ডিলার মোঃ শাহীন হাওলাদার’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বস্তায় চাল কম পাই আমরা। তাই ৩০ কেজি চালের পরির্বতে ২৯ কেজি চাল দিচ্ছি। এবং আমার বাবার হাতে কোন ব্যাক্তি লাঞ্চিত হয়নি। ৬ নং ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ফজলুর রহমান বলেন আমি উপস্থিতিতে কাউকে চাল কম দেওয়া হয়নি। তবে আমি বাহিরে চা খেতে যাওয়ার সময় কম দিয়েছে কি না তা বলতে পারি না। অন্যদিকে চাঁদপুরা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে ডিলার শাহিন মুন্সির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিলার শাহিন মুন্সির আওতায় ৫৪৪ টি কার্ড রয়েছে।

এর মধ্যে গতকাল শেষের দিন চাল বিতরন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গরীব অসহায় ব্যক্তিদের জন্য সরকার কতৃক ১০ টাকা কেজি চাল বিতরনের কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তবে কিছু দূর্নীতি বাজ কর্মকতার ও প্রভাবশালী ডিলারের অনিয়মের কারনে সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তারা আরো বলেন, ৩০০ টাকায় ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ৩০ কেজি চালের পরির্বতে আমরা ২৭/২৮ কেজি চাল পাচ্ছি। তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মারধর অথবা লাঞ্চিত হতে হচ্ছে। তাই অনেক গরীব অসহায় ব্যক্তি তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করেই ২৭ কেজি চাল নিয়ে নিরর্ভে বাড়ি চলে যায়। তবে অসহায় মানুষ গুলো পাশে নেই  চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা।

ভুক্তভোগী অম্বিয়া সহ  স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের একাধিক লোক অভিযোগ করেন, তাদের ২৬-২৭ কেজি করে চাল দেন। অথচ ৩০ কেজির দাম রাখেন। প্রতিবাদ করলেও কোন উপকার হয়না। অথচ তাদের হাতে লাঞ্চিত হতে হচ্ছে। চাল বিতরনে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ডিলার শাহীন মুন্সি বলেন, ভাই ৫০ কেজি চালের বস্তায় আমরা চাল পাই ৪৫ কেজির একটু বেশি। যা খাদ্য কর্মকতারাও জানে। তাই ৩০ কেজির চালে সবাইকেই একটু কম দেই।

৮নং ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার নিত্য গোপাল দাস’র উপস্থিতিতে সবাইকে ওজনে চাল কম দেওয়া হয়েছে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই চাল দেওয়ার নিয়ম ৩০ কেজি। তবে বস্তায় চাল কম থাকার কারনে মনে হয় একটু কম দেওয়া হচ্ছে। আমি ডিলারের সাথে কথা বলবো বলে ফোনটি কেটে দেন।

এবিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান বলেন, বিষয়টির সম্পর্কে এখনও আমাকে কেউ অবগত করেনি। তবে আমার কাছে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ডিলাল ও দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।
 

এবিএন/আরিফ হোসেন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm