দৌলতপুরে ১৬ টাকার ইউরিয়া বিক্রয় হচ্ছে ২২ টাকায়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৫৫

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় সার সংকটের কথা বলে বাজারে নৈরাজ্য তৈরি করেছে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকদের নিকট থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওই চক্রটি। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন এই উপজেলার অন্তত চল্লিশ হাজার কৃষক।

এছাড়া কৃত্রিম সার সংকটের কারনে ফসলের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিগত দুই-তিনদিন ধরে স্থানীয় বাজার গুলোতে ঘুরে দেখা যায় সার সংকটের অজুহাতে চাষীদের লুটছে ওই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। অথচ উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তাদের সেদিকে নজর দিতে দেখা যায়নি।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। এবং চাহিদা অনুয়ায়ী উপ-বরাদ্ধসহ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন সারের বরাদ্ব দেয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সার কিনতে গেলে বিক্রেতারা বলছেন সার নেই। তবে দাম বেশি দিতে চাইলেই কেবল মিলছে সার। কিছু কিছু সাব-ডিলারের দোকানে সারের মূল্যতালিকা টাঙানো থাকলেও বেশিরভাগ দোকানে সরকার নির্ধারিত সার বিক্রয় মূল্য তালিকা টাঙানো  নেই। এমনকি ২০/২২টাকায় শেহালা, বোয়ালিয়া, কিশোরীনগর সহ বিভিন্ন এলাকার মুদি দোকানেও মিলছে সার। প্রতিবস্তা ইউরিয়া সরকার নির্ধারিত দাম ৮০০ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০টাকা, ১১০০ টাকার টি,এস,পি ১২০০ থেকে ১২৫০টাকা, ৭৫০টাকার এম,ও,পি ৯০০টাকা ও ৮০০ টাকার ড্যাপ বিক্রয় হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়।

এদিকে উপজেলা বাজারের সার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম কাজী এর নিকট থেকে কৃষক আমিনুল ইউরিয়া সার কিনতে গেলে প্রতিকেজি সার ১৬ টাকার পরিবর্তে ১৮ টাকা দাবী করলে কৃষক আমিনুল তার কথার প্রতিবাদ করে এবং সরকার নির্ধারিত ১৬ টাকা দাম দিতে চাইলে বিক্রেতা সার নাই বলে জানান। পরে তিনি প্রতিকেজি সার ১৮ টাকা দাম দিয়ে কিনতে বাধ্য হন। তবে, রশিদ চাইলে তাকে দেওয়া হয়নি বলে জানান ঐ কৃষক। তিনি আরো জানান, সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমনের ভরা মৌসুম ও পিয়াঁজ সহ বিভিন্ন সবজি আবাদে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা জানান, কতিপয় ডিলার-ব্যবসায়ী ও খুচরা সার বিক্রেতাদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মূলত তারাই সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইউরিয়া, টিএসসি, ডিএপিসহ সব ধরণের সারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতি বস্তা সারে ইচ্ছে মাফিক দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে। এভাবে প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেটটি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মিশন নিয়ে মাঠে রয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

বাজারে সার বেশি দামে বিক্রি হওয়ার বিষয়টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম কে জানালে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এ বিষয়ে তদারকি করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ফোনে কথা না বলে তার অফিসে দেখা করতে বলেন।।

তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার ও সার ব্যবসায়ীরা বলেন, বাফার গোডাউন থেকে চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই সারের এই সংকট তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের কোনো হাত নেই। এছাড়া সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কোনো বাড়তি টাকায় সার বিক্রি করা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তারা।

এদিকে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ১৪ জন বি,সি,আই,সির ডিলার থাকলেও হোগলবাড়িয়া, মথুরাপুর, আদাবাড়িয়া, ফিলিপনগর ছাড়া কোন ইউনিয়নে ডিলারদের কোন অস্তিত্ব খঁজে পাওয়া যায়নি।

একাধিক সুত্র জানিয়েছে, এসকল ডিলারগণ দৌলতপুর উপজেলার বাইরে অবস্থান করেন। প্রতিমাসে তাদের একজন প্রতিনিধি সারের বরাদ্ধপত্র নিয়ে যান। তার তারা বরাদ্ধকৃত সার কি করেন, কোথায় বিক্রয় করেন তা কেউ জানেন না বলে জানিয়েছে ঐ সুত্রটি।

এ ব্যাপারে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জাব্বার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সবেমাত্র এই উপজেলায় যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
 
এবিএন/জহুরুল হক/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm