রবির সেই শিক্ষিকার বক্তব্য ছাড়াই প্রতিবেদন জমা দিলেন তদন্ত কমিটি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৭:২৪

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে (রবি) শিক্ষার্থীদের চুল কাটার ঘটনায় অবশেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বক্তব্য ছাড়াই রবির রেজিন্ট্রার সোরহাব আলীর কাছে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এ কমিটির প্রধান রবির রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রবির সংগঠিত ঘটনা তদন্তের জন্য এক সপ্তাহের সময় দিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যে বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে রবির প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কাজ শেষ হয়। অভিযুক্ত শিক্ষিকা বাতেনের সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তিনি একাধিকবার ই-মেইলে সময়ের আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ সপ্তাহ সময় দেয়া হলেও তিনি তদন্ত কমিটির সামনে আসেননি। বৃহস্পতিবার দুপুরে তদন্ত কমিটির সামনে আসার কথা ছিল অভিযূক্ত শিক্ষিকার। বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করে তিনি না আসায় এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে সিন্ডিকেট মিটিংয়ের কথা রয়েছে। এ মিটিংয়ে তদন্ত প্রতিবেদন উত্থাপন করা হবে এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তেই অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে পরের দিন রাতে তুহিন নামে এক শিক্ষার্থী ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে রবির প্রধান ফটকে তাল ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষিকার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে রবির ক্যাম্পাসে অনশন শুরু করে।

এ অচলাবস্থা নিরসনে ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে রবির সিন্ডিকেটে জরুরি মিটিংয়ের সিদ্ধান্তে ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত, রবির সব পরীক্ষা স্থগিত এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ জন্য ঘোষণা করা হয়। ওইদিন রাতে রবি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্তে শিক্ষিকা লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে ৫ সদস্যে বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করলেও শিক্ষার্থীরা ভিসিসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ২ অক্টোবর দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে অবরুদ্ধ প্রশাসনিক ভবন খুলে দেয়া হয়। এদিকে এ তদন্ত কমিটি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এবিএন/এস.এম তফিজ উদ্দিন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm