পানগুছির অব্যহত ভাঙ্গনে বদলে যাচ্ছে মোড়েলগঞ্জের মানচিত্র

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:১৬

পানগুছি নদীর ভাঙ্গনে দিন দিন বদলে যাচ্ছে উপকূলীয় উপজেলা বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের মানচিত্র।  প্রতিদিন ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। বসতবাড়িসহ বহু প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ঘাট চলে গেছে নদীগর্ভে।

গত ৪০ বছরে পানগুছি নদীর আয়তন তিনগুন বেড়েছে।  এখন নদীটি প্রশস্ত এক কিলোমিটারের বেশী। সাড়ে ৩ লাখ লোকের বসতি এখানে। দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই এই নদীর তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার পোল্ডার নং ৩৫/২।

 কিন্তু দীর্ঘ ৫০ বছরেও সেই স্বপ্নের বেড়িবাঁধের দেখা মেলেনি।  বিভিন্ন সময় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসি আন্দোলন, মানববন্ধন করেছেন।  মন্ত্রী, এমপি ও পাউবোর কর্মকর্তারা পরিদর্শনও করেছেন বহুবার। বেড়িবাঁধের দাবিতে ডিও লেটার দিয়েছেন এমপি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় আবারো মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসি। গাবতলা, কাঠালতলা ও খাউলিয়া গ্রামের দুই শতাধিক নারী পুরুষ ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করেন। মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী ও পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও এতে যোগ দেন। ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ও টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে।

 কয়েক বছর ধরে পানগুছি নদীর ভাঙ্গনে ওই তিনটি গ্রামের কমপক্ষে ৪শ’ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। গত রবিবার গাবতলা গ্রামের ২৫ একর জমি ধসে গেছে নদীতে। গত ৪০ বছরে শুধু উপজেলা সদর থেকে নদীগর্ভে চলে গেছে, খাদ্যগুদাম, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, টেলিফোন অফিস, আব্দুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এসিলাহা উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ভবন, ডাকবাংলো, বারইখালী ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ কোয়াটার, আনছার ময়দান, বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,

 পোষ্ট অফিস, স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের অফিস, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, থানা জামে মসজিদ, সার্বজনীন হরিসভা মন্দির, শ্মশানঘাটসহ বহু প্রতিষ্ঠান ও রাস্তা ঘাট। বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে গাবতলা, কাঠালতলা, বারইখালী, ফেরিঘাট, কুমারখালী, সন্নাসী, শ্রেণিখালী, ঘষিয়াখালী, সোনাখালী, ফুলহাতাসহ ২০টি গ্রাম। গত বছরের জুলাই মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই সময় তিনি গাবতলা হতে পশুরবুনিয়া অভিমুখে আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জন্য ডিও লেটার দেন। ডিও লেটারে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতার পূর্বে বেড়িবাঁধ নির্মানের লক্ষ্যে পোল্ডার নং-৩৫/২ নামে একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছিল যা অদ্যাবধি বাস্তবায়িত হয়নি’।

ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী বলেন, কয়েক শ’ পরিবার তাদের মাথা গোজার ঠাই হারিয়ে ছিন্নমূলে পরিনত হয়েছে।  গত রবিবার ধসে গেছে ২৫ একর জমি। পৌর শহর রক্ষার্থে এ পর্যন্ত মাত্র ১ কিলোমিটার পায়লিং হয়েছে।  খরস্রোতা পানগুছির ভাঙ্গন থেকে মোরেলগঞ্জ পৌর শহরসহ ২০টি গ্রাম রক্ষা করতে প্রয়োজন টেকসই বেড়িবাঁধ ।  দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে চলছে শুধু পরিদর্শন ও চিঠি চালাচালি। কাজের কিছু হয়নি।

 

এবিএন/এস এস সাগর/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ