চিতলমারীতে বাড়ছে বিষমুক্ত পানের চাহিদা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০১৯, ১৪:২৫

বাগেরহাটের চিতলমারীতে পান চাষের মাধ্যমে ভাগ্য বদলে খুশি চাষিরা। অনেক চাষিই এখন পান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। বিশেষ করে এ উপজেলার বিষমুক্ত পানের কদর দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই পান চাষিদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড শক্ত ও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষকদের পান চাষের উপর প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে শুরু করেছেন। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় দেড় যুগ আগে লবণ পানির প্রকোপে এ অঞ্চলের বিলগুলোতে তেমন কোন ফসল ফলত না। তখন থেকে কৃষকেরা চাষ ব্যবস্থা পাল্টে চিংড়ি ঘেরে মাছ চাষ শুরু করেন। 

প্রথম দিকে সাফল্য পেলেও গত কয়েক বছর ধরে চিংড়ি চাষে ধসের কারণে চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে সর্বশান্ত হয়ে পড়েন। সেই থেকে অনেকে চাষি বিকল্প ফসল চাষের পরিকল্পনা করেন। শুরু হয় পরীক্ষামূলক পান চাষ। বর্তমানে এ চাষে অনেক চাষিই সাফল্য অর্জন করেছেন। তাই পান চাষে ভাগ্য বদলে খুশি এ উপজেলার পান চাষিরা।

চিতলমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিবপুর, বড়বাড়িয়া, কলাতলা, হিজলা ও চরবানিয়ারী ইউনিয়নের অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। এ অঞ্চলের মাটি পান চাষের জন্য উপযোগী। এখানে মোট পান বরাজের সংখ্যা ৪৫০টি এবং ৩২০ জন পান চাষি রয়েছেন। প্রায় ৭৫ একর জমিতে সাথিসহ বিভিন্ন জাতের পান চাষ হচ্ছে। সেই সাথে দিন দিন পান বরজের সংখ্যা বাড়ছে। 

উপজেলার চরলাটিমা গ্রামের পান চাষি সুজিত কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি তার বাড়ির পিছনে ৩৮ শতক জমিতে সাথি জাতের বিশমুক্ত পান চাষ করেছেন। এতে তার খরচ পড়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। তিনি এ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার পান বিক্রি করেছেন এবং সামনে আরও পান বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী। 

একই গ্রামের বিষমুক্ত পান চাষি বিকাশ চন্দ্র মন্ডল জানান, তিনি প্রায় ৫০ শত জমিতে এই বিষমুক্ত প্রযুক্তিতে পান চাষ করেছেন। বিষমুক্ত পানের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। এলাকার মানুষ এখন পান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তাছাড়া স্থানীয় কৃষি অফিসের নিমাই চাঁদ মহন্ত ও সরোজ কুমার বাগচিসহ অন্যান্য লোকজন তাদের নিয়মিত সহযোগিতা করছেন।    

পান চাষি মিঠুন ঘরামী, পঞ্চানন মজুমদার, অবনী মন্ডল, খগেন্দ্র ঘরামী, সদানন্দ ঘরামী, বলাই ঘরামী, উপেন্দ্র বালা, গৌর বাড়ৈ, অখিল নাগ, নিখিল নাগ, বলরাম বাড়ৈ, শচীন বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, মোসলেম আলী ও সুবাস মজুমদার জানান, পান চাষ তাদের অর্থনৈতিক সাফল্য দেখিয়েছে। বদলে গেছে ভাগ্য। তাই তারা পান চাষ করে মহাখুশি। 

তারা আরও জানান, এক একর জমিতে প্রথম বারে পান চাষে ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু পান তোলা যায় ৭ বছর ধরে। কৃষকদের জন্য এটি একটি লাভজনক চাষ। 

চিতলমারী উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার জানান, বাংলাদেশের উৎপাদিত পান ওমান, কাতার ও সৌদি আরবসহ ১০-১৫টি দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। সেখানে বিষমুক্ত পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেই দিকটাকে বিবেচনা করে চিতলমারীতে শুরু করা হয়েছে বিষমুক্ত পান চাষ। এ জন্য স্থানীয় চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। চাষিরাও এতে সাড়া দিয়েছেন এবং তারা লাভবান হচ্ছেন। 

এবিএন/এস এস সাগর/গালিব/জসিম

       
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ