মাদারীপুরে স্কুল ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত পুলিশ প্রত্যাহার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০১৯, ১৯:৪০

মাদারীপুর পৌরসভার টিবি ক্লিনিক সড়কে এক স্কুল ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মোক্তার হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) বদরুল আলম মোল্লাকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্যাতিত স্কুল ছাত্রীকে গতকাল রবিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 মাদারীপুর পৌরশহরের টিবি ক্লিনিক সড়কে এক স্কুল ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ উঠে মোক্তার হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে পুলিশ দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং অভিযুক্ত মোক্তার হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন দীর্ঘ দিন থেকে শহরের টিবি ক্লিনিক সড়কে ভাড়া থাকেন। কয়েক দিন আগে মোক্তারের গর্ভবতী স্ত্রী গ্রামের বাড়ি চলে যায়। এই সুযোগে রবিবার রাতে শহরের টিভি ক্লিনিক সড়কের প্রতিবেশী এক স্কুল ছাত্রী ঘরে ডেকে নেয়। এসময় দরজা বন্ধ করে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন স্কুল ছাত্রীকে পেছনের ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেয়। এতে করে স্কুল ছাত্রীর গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

 নির্যাতিত স্কুল ছাত্রী বলেন, ‘মোক্তার হোসেন আমাকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে আমার সাথে খারাপ কাজ করেছে। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলে আমাকে সে ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেয়। এতে আমার পায়ের হার ভেঙ্গে গেছে। এর আগে সে আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে।’

এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘক্ষণ ঘরের মধ্যে ওই মেয়েকে নিয়ে থাকায় আমাদের সন্দেহ হয় । পরে আমরা বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে সে মেয়েটিকে ফেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেয়। এতে মেয়েটি গুরুতর আহত হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে শুধু শুধু স্থানীয়রা ঘরের বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই মেয়ে সাথে আমার কিছু হয়নি। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে আপনি পুলিশ সুপার বা ওসির সাহায্য নেননি কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

এব্যাপারে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শশাঙ্ক ঘোষ জানান, ধর্ষণের অভিযোগে একটি মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, এই ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
 

এবিএন/সাব্বির হোসাইন আজিজ/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ