রাজবাড়ীতে স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০১৯, ১৭:১৫

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামে বোরকা পরে এক স্কুলছাত্রীর (১৬) গায়ে কেরোসিন  তেল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ (০৮ জুন) শনিবার রাজবাড়ী সদর থানায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা ফজলুর রহমান বাদী হয়ে শিল্পী বেগমসহ অজ্ঞাত চার চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে গত ৬জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। দগ্ধ কিশোরী খানখানাপুর তমিজউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

    স্কুল ছাত্রীর মা নাসিমা বেগম বলেন, ৫জুন (বুধবার) ঈদের দিন স্থানীয় প্রতিবেশী শিল্পী বেগম আমার মেয়ের সাথে  অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন কথা বলে আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এতে আমার মেয়ে চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায়। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বাড়িতে দুই বোন বসে জাম খাচ্ছিল, আমি তখন ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম। এসময় ছোট মেয়ের চিৎকারে আমার ঘুম ভেঙে যায়।

বড় মেয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই বোরকা পড়া দুজন লোক তাকে তুলে নিয়ে গেছে বলে ছোট মেয়ে জানায়। তখন আমিও চিৎকার করতে থাকি। এতে আসে পাশের লোকজন এগিয়ে এলে অনেক খোঁজাখুজির পর ঘরের পিছনের পাটক্ষেত থেকে বড় মেয়েকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই।

ওই স্কুলছাত্রীর বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মো. সোহেল ব্যাপারী জানান, গত শুক্রবার রাতে নিরাপত্তাহীনতায় থেকে এ ঘটনাটি আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করি। এর কিছুক্ষণ পর রাজবাড়ী সদর থানার ওসি পুলিশ পাঠিয়ে থানায় ডেকে নিয়ে বিস্তারিত জেনে আমাকে মামলা দায়েরের করার জন্য বলেন।

আহত স্কুলছাত্রীর সাথে এবিষয়ে বললে সে জানায়, পাশের গ্রামের রাজু নামে এক ছেলে আমাকে পছন্দ করে। এই পছন্দের কথা স্থানীয় বাসিন্দা শিল্পী বেগম জানতেন আর এটাকে কেন্দ্র করেই তিনি আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি বিষয়টি মাকে জানালে বৃহস্পতিবার শিল্পী আক্রোশে ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে আমার জামায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রতিবেশী সাথী সরকার জানান, চিৎকার চেঁচামেচিতে আমরাও এগিয়ে গিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করি। তার মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গায়ের জামা কাপড় ছেড়া ছিল।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, এঘটনাটার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোহ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে জানতে পারি পরে ঐ স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছি। পরে তারা থানরায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১১/ তারিখ ০৮/০৬-২০১৯/ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এনছের আলী। আসামীদের ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। পরির্দশন শেষে তিনি বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় শিল্পী বেগমসহ অজ্ঞাত চার ব্যক্তির নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্পর্শকাতর এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দুটি দল মাঠে কাজ করছে এবং আসামি ধরার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।


এবিএন/খন্দকার রবিউল ইসলাম/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ