বোয়ালমারীতে প্রতিপক্ষের বাধায় জমিতেই নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯, ১৭:০৩

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীতে বিবদমান দুই পক্ষের বিরোধের জেরে বোয়ালমারী পৌরসভার আমগ্রাম মৌজায় ৪০ শতাংশ জমির ধান ঝরে জমিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবত রেলওয়ের নিকট থেকে বন্দবস্ত নিয়ে ওই জমি চাষাবাদ করে আসছেন আমগ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী মোসা. সূর্য্য খাতুন। বর্তমানে সূর্য্য খাতুনের ছেলে আয়ুব মীর ওই জমি দেখাশুনা করেন। সম্প্রতি ১৩ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে ধান কাটায় বাধা দেয় কামারগ্রামের বাসিন্দা হাবিব মৃধা।

মো. আইয়ুব আলী মীর জানান, গত ৫০ বছর ধরে রেলের ১ একর ৮ শতাংশ জমি আমরা বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে বন্দবস্ত নিয়ে চাষ করে আসছি। এ বছর প্রথমে কিছু জমির ধানও কাটা হয়। শুধু ৪০ শতাংশ জমির ধান কাঁচা থাকায় রেখে দেই। সম্প্রতি হাবিব মৃধা ১৩ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে ধান কাটায় বাধা দেয় এবং জমি দখল করার চেষ্টা করে। রেলওয়ের যে ডিসিয়ারের বলে হাবিব মৃধা মালিকানা দাবি করছে তা মূলত কামারগ্রাম মৌজায়। অথচ আমার বন্দবস্ত নেয়া জমি আমগ্রাম মৌজায়।

এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে জমির মালিকানা নিষ্পত্তির আগে আমার জিম্মায় ধান কেটে রাখতে বলে। কিন্তু ধান কাটতে গেলে আবারও বাধ সাধে হাবিব মৃধা ও তার লোকজন। ফলে ধান না কাটতে পারায় পাকা ধান জমিতেই বিনষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে হাবিব মৃধার সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি রেলওয়ের নিকট থেকে ১৩ শতাংশ জমি বন্দবস্ত নিয়েছি। ভুলবশত আমগ্রাম মৌজার স্থলে কামারগ্রাম মৌজা লেখা হয়েছে। পরবর্তীতে এটি সংশোধন করা হবে।

সালিশকারক ৫নং ওয়ার্ড কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক কালাম মেম্বর বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আয়ুব মীরকে ধান কাটতে বাধা দিয়েছে হাবিব মৃধা। হাবিব মৃধার জমির কাগজের নির্দিষ্ট চৌহদ্দি এবং মৌজা কোন টায় আইয়ুব মীরের বন্দবস্তকৃত জমির সাথে মিল নেই।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার এসআই নারান চন্দ্র জানান, ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে আইয়ুব মীরকে ধান কেটে রাখার জন্য বলেছিলাম কিন্তু অপরপক্ষ জমি থেকে ধান কাটতে দেয়নি। দ্রুত বিষয়টি মিমাংসা করা হবে বলে তিনি জানান।


এবিএন/কে এম রুবেল/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ