ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ভুটানকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দল

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ দিন ধরে পানি নেই

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯, ১৮:১৪

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জরুরী প্রয়োজনের পানির অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীদের অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনেরা পানি সরবরাহ না থাকার জন্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা, কর্তব্যে অবহেলা ও উদাসিনতাকে দায়ী করেছেন। হাসপাতালে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কোন কার্যকর উদ্যেগ না গ্রহন করায় রোগী ও তাদের স্বজনেরা চরম ক্ষুব্ধ। পানি না পেয়ে প্রতিদিনই হাসাপাতালের চিকিৎসক, সেবক সেবিকার সাথে রোগী ও তাদের স্বজনদের বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে, গত ২ জুন সোনাগাজী হাসপাতালে পানি সরবরাহের একমাত্র জেনোরেটরটি বিকল হয়ে যায়। মেরামত করতে না পেরে ওই দিনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরাতন একটি জেনোরেটর দিয়ে হাসপাতালে পানি সরবরাহের চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়। সেই থেকে হাসপাতালে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

আজ বুধবার সকালে ও দুপুরে দুইবার সরজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনেরা হাসপাতালের অভ্যন্তরে স্থাপিত নলকুপ থেকে কলস,মগ ও প্লাস্টিকের বোতলে ভরে পানি ব্যবহারের জন্য ওয়ার্ডে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে পানি নিয়ে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

হাসপাতালের দোতলায় মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎিসাধীন রোগীরা জানান, পানি সরবরাহ না থাকায় সব কিছুতে সমস্যা হচ্ছে। খাওয়া,গোসল ও টয়লেটে ব্যাবহারের জন্য পানি বাহির থেকে এনে ব্যাবহার করতে হচ্ছে। পানির অভাবে টয়লেপ পরিস্কার করতে না পারায় ওয়ার্ডে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ব্যাবহারের জন্য পানি টানতে টানতে অনেক রোগী ও তাদের স্বজন কোমরে ব্যাথায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে।

পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী আাবুল কালাম ও ইউপি সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর ছিদ্দিক গেরিলা জানায়, তারা ৫ ধরে হাসপাতালে রয়েছেন, পানি সরবরাহ না থাকায় বাহির থেকে পানি এনে ব্যাবহার করতে হচ্ছে। পানি সরবরাহ করার জন্য চিকিৎসকদের কাছে অনুরোধ জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা। অপর রোগী মুক্তিযোদ্ধা আহচান উল্লাহ জানান, তিনি ৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পানি  ছাড়া চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।চিকিৎকদের দ্রুত পানি সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানালে উল্টো তারা ধমকের শুরে হাসপাতাল থেকে চলে যাওযার জন্য বলে।

 তিনি আরো জানান, পানি সরবরাহের জন্য অনুরোধ করলে চিকিৎসকরা বলেন তাদের মেকানিক নেই। তার দাবী হাসপাতালের মেকানিক না থাকলে ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা প্রশাসনের মেকানিক রয়েছে, তাদের সাহায্য নিয়ে হাসপাতালের বিকল হয়ে যাওয়া জেনোরেটর মেরামত করে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে কিন্তু এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছেনা। তাদের দায়িত্বহীনতা ও উদাসিনতার কারনে রোগীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তিনি হাসপাতালে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে স্থানীয় এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালে কর্তব্যরত কয়েকজন সেবিকা জানান, পানি সরবরাহ না থাকায় রোগীরা চরম কষ্টে আছে, এমনকি আমরাও কষ্ট করছি কিন্তু কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে আছে। আমাদেরকে রোগীদের সাথে প্রায় বাকবিতন্ডায় জড়াতে হচ্ছে। এক কথায় রোগীরা ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে আছে, যেকোন সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক নুরুল আলমের মুঠোফোনে একাধীকভার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরমান হোসেন জানান, জেনোরেটর নষ্ট থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সিভিল সার্জন স্যারের সাথে কথা হয়েছে, তিনি আশ্বাস দিয়েছেন কয়েক দিনের মধ্যে নতুন জেনোরেটর স্থাপন করে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
 

এবিএন/আবুল হোসেন রিপন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ