শেরপুরে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক সুবিধা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯, ১১:৩০

বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের রাস্তাঘাট একটু বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা যেন নতুন কিছু নয়। শেরপুর পৌরসভাটি বগুড়া জেলার ১ নম্বার পৌরসভা হলেও এখনো সেকেলেই রয়ে গেছে এখানকার ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। এখানে নেই ময়লা ফেলার নির্ধারিত কোন স্থান। তাই বৃষ্টি হলেই দেখা দেয় অকাল বন্যা। ঠোংগা দিয়ে নৌকা বানিয়ে ছোটাছুটি করতে হয় এদিক ওদিক। একটু বৃষ্টি হলেই পানির সাথে মিশে যাচ্ছে ময়লা আবর্জনা ও শুকরের মল। এই নোংরা পানি মসজিদে যাওয়ার পথে মুসল্লিদের এবং স্কুল কলেজে যাওয়া শিক্ষার্থীদের শরীরে লেগে তাদেরকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি পাতেই এমন চিত্র যেন নিত্যদিনে সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় উক্ত পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণের। ভোগান্তি যেন কমছেই না এই ৩ ওয়ার্ডবাসীর।

জানা যায় শেরপুর পৌরসভা বগুড়া জেলার এক নম্বর পৌরসভা হলেও পানি নিষ্কাশন বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে। আজও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই পৌরসভায়। তাই তো একটুখানি বৃষ্টি হলেই রাস্তার উপরে উঠে হাটু পানি।

সরেজমিনে দেখা যায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মার্কেটের পিছনের রাস্তার উপরে বৃষ্টির পানি জমে যায়। বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে থাকলে সেই পানি পরিণত হয় বন্যায়। একই চিত্র দেখা যায় ৯নং ওয়ার্ডের খন্দকার পাড়ার মাজার রোড এলাকা ও ৭নং ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোড ক্লিনিক এলাকায়। কিছু কিছু এলাকায় মাস্টারড্রেন নির্মিত হলেও নিয়ম না মেনে এসব মাস্টার ড্রেন করায় যেন তা কোন কাজেই আসছেনা। দিনকে দিন এই সকল সমস্যা সমাধানের চাইতে আরো যেন প্রকট আকার ধারণ করছে। তাই ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না এই পৌরসভার জনগণের।

এ ব্যাপারে শেরশাহ নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল আলম, ডক্টরস কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম পলাশ বলেন আমরা ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্যামকে অনেকবার বলেছি মার্কেটের রাস্তায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে। এ জন্য তাকে ৪ হাজার ১ শত টাকাও দিয়েছি। একটি পাইপ দিয়ে রাস্তার পশ্চিম পাশ থেকে পূর্ব পাশে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলেও সেটি আর কোন কাজে আসছেনা।

এ ব্যাপারে শেরপুর প্লাজার মালিক রাহুল আলম লিমন ও রেজওয়ানুর আলম রাজন বলেন এই সমস্যা সমাধানে আমরা অনেকদিন আগে মেয়র বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত দিয়েছিলাম। তাতেও কোন কাজ হয়নি। আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে রাস্তায় কিছু বালু ফেলেছিলাম শুনছি তার বিলও নাকি পৌরসভা থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তা পাইনি। জানিনা এ ভোগান্তি কবে শেষ হবে। 

এ ব্যাপারে শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ আব্দুস সাত্তার বলেন পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মাস্টার ড্রেনের কাজ চলছে। ড্রেনের কাজ শেষ হলেই এই দুর্ভোগ আর থাকবেনা আশা করি। মাস্টার ড্রেনের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সকলকেই সহযোগিতা করতে হবে।

এবিএন/শহিদুল ইসলাম শাওন/গালিব/জসিম


 
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ