সিরাজগঞ্জে কম দামে চামড়া ক্রয় করছেন ব্যবসায়ীরা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০১৯, ২৩:৫৮

ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশু কোরবানির পর সিরাজগঞ্জে বিভিন্ন আড়তে চামড়া বেচাকেনা শুরু হয়েছে। আড়তগুলোতে উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। তবে চামড়ার মূল্য রয়েছে একেবারে কম। গত বছরের থেকে এ বছর আরও কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে চামড়া। মাদরাসা ও এতিম খানার লোকেরা চামড়া নিয়ে এসে বিপাকে পড়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গরিব অসহায় সাধারণ মানুষ।

সোমবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে সরেজমিনে সিরাজগঞ্জ শহরের রেল ষ্টেশন বাজার চামড়ার আড়তগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক  ও স্থানীয়রা নামমাত্র দামে গরু ও ছাগলের চামড়া বিক্রি করছে। গত বছর বড় গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। যা এ বছর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়া ৩০ থেকে ৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। জেলার কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। যাতে উঠছে না ভ্যান ভাড়াও।

সন্ধ্যার আগে আড়তে চামড়া বিক্রি করতে আসা মাদরাসা শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান জানান, চামড়ার দাম খুবই কম। তাই লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আড়তদাররা তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনছেন না। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কম বলে তারা চুপ করে বসে আছেন। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রি করতে না পারলে অনেক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

আড়তদার সাইদুল ইসলাম ও জাকির হোসেন জানান, সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম অনুযায়ী, কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া লবণ দেওয়ার পরে ৯০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা বলছে ব্যাংক লোন দিচ্ছে না সরকার। তাই  চামড়া ক্রয় করছে না ট্যানারি মালিকরা।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজী ইসাহাক হোসেন বলেন, সরকার চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করেছে তাতে বিক্রেতারা  সঠিক দাম পাওয়ার কথা। কিন্ত চামড়ার দাম এ বছর কম হওয়ার সাথে জড়িত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গরিব অসহায় সাধারণ মানুষ। এক কথায় এতিমদের হক মেরে খাচ্ছে এক ধরনের অসাধু চামড়া ব্যবসায়ীরা।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ