কমলগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত করায় ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করল গ্রামবাসী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৩৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী শাকিলা আক্তারকে নিয়মিত উত্যক্ত করার প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা মারধর করল একই গ্রামের বাসিন্দা কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুমন মিয়া। 

নিজের বোনকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় এক সপ্তাহ আগে ছাত্রলীগ নেতা সুমন ও তার সহযোগীরা ছাত্রীর ভাই শওকত খানকে উপজেলা সদরে প্রহার করেছিল। এর জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার ১০ সেপ্টেম্বর সকালে গ্রামবাসীরা উত্যক্তকারী ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করেছে। এ নিয়ে মাধবপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে পাল্টা হামলার আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রামবাসীরা।

স্কুলছাত্রীর ভাই শওকত খান অভিযোগ করে বলেন তার বোন কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। সে স্কুলে আসা ও যাওয়ার পথে কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুমন মিয়া ও তার সহযোগীরা উত্যক্ত করে। এজন্য তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। ফলে গত সপ্তাহে উপজেলা সদরের আতিক মেকানিকের দোকানের সামনে পেয়ে সুমন ও তার সহযোগী মঈন উদ্দীন তাকে প্রহার করেছিল। 

এজন্য গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বনগাঁও গ্রামে সুমনকে ডেকে গ্রামবাসীরা তাকে (শওকতকে) প্রহার সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে সুমন গ্রামবাসীর সাথে উত্যপ্ত বাক্য বিনিময় করলে গ্রামবাসীরা তাকে মারধর করেছে। জবাবে ঘন্টা খানেক পর সুমনের সহযোগীরা তার (শওকতের) দুই আত্মীয়কে প্রহার করেছে। সাথে সাথে হুমকি দিয়ে গেছে শক্তহাতে আবারও তারা হামলা চালাবে। 

শওকত আরও বলেন উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিবের সমর্থক বলে তার প্রভাবে সুমনের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে পারে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধবপুর ইউনিয়নের দুজন জনপ্রতিনিধি বলেন ছাত্রলীগ নেতা সুমনও সহযোগীরা চাঁদাবাজি, হামলা, লুটপাট ও মেয়েদের নিয়মিত উত্যক্ত করে থাকে। এমনকি মাধবপুর চা বাগান লেকে আগত মেয়ে পর্যটকদের তারা নানাভাবে নাজেহালসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে।

গ্রামবাসীর হাতে মারধর ও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে কয়েক দফা তার মুঠোফোনে চেষ্টা করলেও সুমন মিয়ার ফোন বন্ধ পাওযা যায়। তবে কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন পূর্ব বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে শওকতের নেতৃত্বে গ্রামের কিছু লোক সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে। তাছাড়া সুমনের উপর অন্যান্য অভিযোগ সঠিক নয় বলেও উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক জানান।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন সকালে মাধবপুরে একটি ঘটনা ঘটেছে শুনেছেন। তবে কেউ থানায় কোন অভিযোগও করেনি। তার পরও পুলিশ সতর্কতার সাথে বিষয়টি দেখছে বলে তিনি জানান।

এবিএন/প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ/গালিব/জসিম
 
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ