কাপাসিয়ায় প্রধান শিক্ষকের প্রচেষ্টায় বদলে গেলো স্কুলের পরিবেশ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৫৪

প্রধান শিক্ষকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আর প্রচেষ্টায় বদলে গেছে কাপাসিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ। শিক্ষার পরিবেশের উন্নতির সঙ্গে মান উন্নয়ন হয়েছে শিক্ষার্থীদের। উপজেলার অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ভিন্ন রূপে পরিচিতি পেয়েছে বিদ্যালয়টি। 

টোক ইউনিয়নের ১৭নং উজলীদিঘীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন নিজের ব্যতিক্রম পরিকল্পনার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করেছে বিদ্যালয়টি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পুরো বিদ্যালয়টি সাজানো হয়েছে লাল সবুজের পতাকা রঙে। প্রতিটি শ্রেণীকক্ষের দেয়াল, দরজা, জানালায় শিক্ষণীয় বাণী ও আকর্ষণীয় ছবি দ্বারা সজ্জিত। বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে ’বিনিময় স্টোর’। যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জামা কাপড় জমা রাখে এবং যার প্রয়োজন তারা এখান থেকে তা সংগ্রহ করে ব্যবহার করে। প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে করেছে ’মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু কর্ণার’। এই কর্ণারে রয়েছে ১৭৭১ সালের বিভিন্ন দুর্লভ ছবি। শিক্ষার্থীদের বই পড়ার আগ্রহ বৃদ্ধি করার জন্য বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে রয়েছে ’বুক কর্ণার’। 

শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন জানান স্কুলে ৩১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এর মধ্যে ৫০ জন এতিম শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ ফ্রি পড়ানো হচ্ছে। তাদেরকে স্কুল থেকে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ। পাঠ্য বইয়ের বাহিরেও গল্পের বই পড়ার উপরে শিশুদের নেয়া হয় বিশেষ পরীক্ষা। প্রতি বছর ভিন্ন রূপে শিক্ষার্থদের অভিভাবকে উপস্থিত রেখে পালন করা হয় ’মা দিবস’।  

তিনি আরো জানান ২০০০ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করছে। ওই সময় এলাকায় সাক্ষরতার হার ছিল ২৫%। সরকারি চাকরীজীবী ছিল মাত্র ২ জন। ২০ বছরের সাক্ষরতা দাঁড়িয়েছে ৬৫%। মমতাজ উদ্দিন বলেন এখন আমার অনেক ছাত্র-ছাত্রী সরকারি চাকরি করে। 

গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন আমি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। শিক্ষক মমতাজ উদ্দিনের এমন উদ্যোগ প্রশংশনীয়। শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষে তিনি কাজ করছেন। নিঃসন্দেহে উপজেলার একটি ব্যতিক্রম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটি। 

এবিএন/নূরুল আমীন সিকদার/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ