শরণখোলায় জেলেদের চাল কম দেয়ার অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩২

বাগেরহাটের শরণখোলায় জেলেদের বিশেষ বরাদ্দের চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ তদন্ত করেছেন জেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ সচিব) দেব প্রসাদ পাল রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউএনও’র কার্যালয়ে বসে  সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন। এর আগে প্রতিদন্ধী দুই পক্ষ মিছিল সমাবেশ করলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।

জানাগেছে, চলতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার কারনে সরকার ইউনিয়ন পরিষদের মাধমে জেলেদের জনপ্রতি ৪৬ কেজি চাল বিশেষ বরাদ্দ দেয়।

গত ২৩ আগষ্ট রায়েন্দা ইউনিয়নে ওই চাল বিতরনের সময় উপজেলা যুব লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা জেলেদের কয়েক বস্তা চাল পরিমাপ করে কম দেয়ার অভিযোগ করেন। এসময় জেলেদের করেকটি বস্তা তিনি থানায় জমা করেন। পরে জেলেদের পক্ষে আমিনুর চাপরাশী, খলিল জোমাদ্দার, শাহাবুদ্দিন চাপরাশী, জামাল আকন জেলা প্রশাসক বরাবরে  ৭/৮ কেজি করে চাল কম দেয়ার লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন থেকে তদন্তে আসার নোটিশ দিলে সকাল ১০টায় আজমল হোসেন মুক্তা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অভিযোগকারী জেলেদের নিয়ে মিছিল ও প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন। এসময় উপজেল্ াযুব লীগের আহবায়ক রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলনও কর্মী সমর্থকদের নিয়ে পাল্টা মিছিল করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।

এব্যপারে শরণখোলা থানার অফিসার ইন চার্জ এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী  অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিত্বে জেলা প্রশাসন থেকে তদন্ত করা হয়েছে। ওই তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিত্বে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিন্ধান্ত নিবেন।  

জানতে চাইলে রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, জেলেদের কোন চাল কম দেয়া হয়নি। আমার প্রতিদন্ধি চেয়ারম্যান প্রার্থী আজমল হোসেন মুক্তা জনপ্রিয়তায় না পেরে তিনি ও তার লোকজন দিয়ে ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। আজমল হোসেন মুক্তা বলেন, এব্যাপারে সঠিক তদন্ত হলে চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন ফেঁসে যাবেন।

এব্যপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ সচিব) দেব প্রসাদ পাল বলেন, তদন্তে উভয় পক্ষের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। ওই বক্তব্য অনুযায়ী রিপোর্ট দেয়ার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন।
 

এবিএন/নজরুল ইসলাম/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ