ভালুকায় প্লে শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ : আতঙ্কে পরিবার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৪৮

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আশকা গ্রামে প্লে শ্রেণীর সিএনজি চালকের ৬বছরের এক মেয়েকে শাক তুলে দেয়ার নাম করে আল আমীন নামে এক লম্পট ধর্ষণ করে এবং প্রকাশ করলে প্রাণ নাশের হুমকী দেয়। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক পলাতক রয়েছে।

ধর্ষক আল আমীন উপজেলার মিরকা গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে। ঘটনাটি স্থানীয় ভাবে আপস মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য বুধবার মিরকা গ্রামে সালিশ বসানোর প্রস্তাব দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বেলা ১১টার সময়।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,আশকা গ্রামের সিএনজি চালক কামাল মিয়ার মেয়ে মেধা সিঁড়ি আইডিয়াল স্কুলের প্লে শ্রেণীর ছাত্রী তার প্রতিবেশী অপর এক মেয়ে ও সহপার্টি হাসানকে নিয়ে বাড়ি পাশে শাক তোলতে যায়। এ সময় আল আমীন তিন শিশুকে বেশি শাক তুলে দেয়ার লোভ দেখিয়ে তাদেরকে কামাড়িয়াভিটা জঙ্গলে নিয়ে তিন শিশুকেই উলঙ্গ করে। প্রথমে কামালের মেয়েকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করার সময় শিশুটি জোরে ডাক চিৎকার শুরু করে।

এ সময় আল আমীন তাদেরকে ভয় দেখায় এবং খুনের হুমকী দেয়। শিশুরা বাড়িতে এসে ভয়ে কিছু বলেনি। বিকালে শরীরে নি¤œাংশে ব্যথা শুরু হলে সব ঘটনা তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে খুলে বলে।

ভিকটিমের বাবা স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তি ও ৬নং ভালুকা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আশকা গ্রামের ইউপি সদস্য আফাজ উদ্দিনকে ঘটনাটি জানালে তিনি তাদেরকে আশ্বস্ত করেন মিরকা গ্রামের ইউপি সদস্যকে নিয়ে মঙ্গলবার মিরকা গ্রামে বসে ঘটনাটি আপস মীমাংসা করে দিবে। ভিকটিমের পরিবার আতঙ্কের মাঝে বসবাস করছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে ভিকটিম ও আশপাশের লোকজনের বক্তব্য শুনার পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোনে অবগত করা হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আল আমীনকে গত কয়েক বছরে একই ভাবে মিরকা গ্রামের বাবুল মিয়ার স্কুল পড়–য়া মেয়েকে, হিটু মিয়ার মেয়েকে ও হামিদ মিয়ার মেয়েকে শ্লীলতাহানীর করার অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে জুতা পেটা পর্যন্ত করা হয়।

ভিকটিমের বাবা কামাল মিয়া জানান, আমার মেয়ের সাথে আল আমীন খারাপ কাজ করেছে। আমি দরিদ্্র মানুষ আমার দ্বারা মামলার চলানো সম্ভব না। যে কারণে আমি থানায় মামলা চালাতে আগ্রহি না।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভালুকা মডেল থানা ওসি তদন্ত মাজাহারুল ইসলাম বলেন, আমিসহ এপর্যন্ত ভিকটিমের বাড়িতে দুই বার গিয়েছি কিন্তু ভিকটিমের পরিবারের লোকজন মামলা করতে আগ্রহ নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল জানান,আমি বিষয়টি ওসিকে জানিয়েছি। কোনো ইউপি সদস্য যদি এ জাতীয় মামলা নিস্পত্তি করে দেয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য আমি ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি।

 
এবিএন/জাহিদুল ইসলাম/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ