জগন্নাথপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:৩৭

জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের কালাম্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।  বিদ্যালয়ে ১২৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ১ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। সহকারী শিক্ষিকা শিমতা রানী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। 

ভবনের সংকটের বিষয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও ভূমি সংকটের কারণে কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। 

সরজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায় ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত উপজেলা সদর থেকে ২০ কি. মি. দূরে কালম্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১০ শতক ভূমির উপর অবস্থিত। বিদ্যালয়ে একটি টিন সেড ভবনে  ৪টি কক্ষের মধ্যে ৩টি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। ১টি কক্ষকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু কর্ণার স্থাপন করতে ব্যবহার করা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাশ রুম। প্রয়োজনীয় ভবন না থাকায় প্রথম শ্রেণীর কক্ষে এক সাথে প্রাক-প্রাথমিক শাখার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। একজন শিক্ষক ডেপুটিশনে নিয়োগ দেওয়ায় দুজন শিক্ষক দিয়েই কোন রকম পাঠদান চলছে। 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিমতা রাণী বলেন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাঠদানসহ অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম আমাকেই সম্পন্ন করতে হচ্ছে। ভূমি সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। স্কুল কমিটির সভাপতি মো. মাছুম আলী জানান আমাদের বিদ্যালয়ের ভূমি সংকটের কারণে ভবনের নির্মাণ করা যাচ্ছে না। স্কুলের এই সমস্যার কথা এক লন্ডন প্রবাসীকে জানানোর পর তিনি স্বেচ্ছায় তার মালিকানা ভূমি স্কুলের জন্য দান করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আমরা স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ভূমি দানের বিষয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরীর কাজ করছি। স্কুলে ভূমি দান করার ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি। 

কালাম্বরপুর গ্রামের বাসিন্ধা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মহিবুর রহমান জানান স্কুলের ভূমির সমস্যার বিষয় আমার নিকটাত্মীয় যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজী মো. ওয়াছিদ খান ও তার সহধর্মিনী মোছা. ফাতেমা বেগমের সাথে আলোচনা করলে তাদের মালিকানা ভূমি স্কুলের নামে দানপত্র করার ব্যবস্থা করতে আমার নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করেন। ভূমিটি স্কুলের নামে দানপত্র করে দিতে আমি সরকার ও প্রশাসনের  সহযোগিতা কামনা করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবদীন বলেন ভবন ও শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে। আর কেউ যদি সেচ্ছায় স্কুলের নামে ভূমি দান করতে চায় তা হলে আমার পক্ষ থেকে সব ধরনের  সহযোগিতা করা হবে।

এবিএন/রিয়াজ রহমান/গালিব/জসিম
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ