খলনায়কদের পুরস্কৃত করে মোস্তাক-জিয়া জাতির সাথে বেঈমানী করেছে : ড. ইফতেখার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৪০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ৭১‘র পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নশ্চাৎ করার জন্য বারবার বর্বর নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে কলঙ্কের ঘৃণিত অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। এ অধ্যায়গুলো মানবসভ্যতাকে ক্ষত বিক্ষত করেছে।

এসব অঘটনের যারা খলনায়ক তাদের বশংবদরা আড়াল থেকে ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক অপরাজনীতির কলকাটি নাড়ছে। তাই এদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে বাঙালি জাতিসত্তার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।

তিনি গতকাল শুক্রবার বিকেলে জেলা শিশু একাডেমী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ৩রা নভেম্বর ও জাতীয় চারনেতা হত্যা এবং ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সেনার কর্মকর্তা সৈনিক হত্যার বিরুদ্ধে ঘৃণার আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ৭৫‘র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে কথিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের বাংলাদেশের ইতিহাসে উল্টোযাত্রা ঘটেছে। ঐ সময়টি ছিল ৭১‘র মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি, আশফালন ও উত্থানের একটি কালো অধ্যায়।

ঐ সময়ে খন্দকার মোস্তাক ও জিয়াউর রহমান মানবতা বিরোধী অপকর্মের খলনায়কদের পুরস্কৃত করে জাতির সাথে বেঈমানী করেছে। এ বেঈমানীর জন্য তাদের প্রাপ্য শাস্তি আমরা দিতে পারিনি। এটাই আমাদের জন্য আক্ষেপের বিষয়। এই আক্ষেপের দায়মুক্তি গোচাতে মোস্তাক-জিয়াসহ অন্যান্য খলনায়কদের মরণোত্তর বিচার আজ সময়ের দাবি।

মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশী বিষ ও বৃক্ষের চারা রোপন করে গেছেন। তিনি প্রকৃতপক্ষেই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রবেশকারী পাকিস্তানি এজেন্ড। তিনি দৃশ্যমান চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের চেয়েও ভয়ঙ্কর ও বর্বর কুশীলব। সিপাহী বিপ্লবের নামে কলঙ্কৃত ঘটনায় শুধু মুক্তিযোদ্ধাদেরই হত্যা করেন নি। একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিকে হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তাই ইতিহাসের পাতায় মীরজাফর, বিভীষণের চেয়েও জিয়াউর রহমান জঘন্যতম। সভাপতির ভাষণে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সহ-সভাপতি এম.এ. মান্নান শিমুল বলেন, ৭৫‘র কালোরাত্রির পর ইতিহাস বিকৃতি মধ্য দিয়ে প্রজন্ম পরম্পরায় যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে তার মধ্য দিয়ে একটি জাতি সকল শুভ ও মঙ্গলময় সম্ভাবনা নির্ভাপিত হয়ে যায়। দীর্ঘ ২১ বছর পর আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা জনরায়ে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের সম্ভাবনার দীপশিখা প্রজ্জলিত করেছেন। এই দীপশিখাকে অনির্বাণ রাখার জন্য নতুন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রজন্মকে শানিত করবে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ৩রা নভেম্বর ও জাতীয় চারনেতা হত্যা এবং ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা সৈনিক হত্যার বিরুদ্ধে ঘৃণার আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ, তরুণ আইনজীবী ও যুবসংগঠক সৈয়দ খোরশেদ আলম হেলাল, সাবেক ছাত্রনেতা ওয়াহিদুল আলম শিমুল, চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভি.পি এড. নজরুল ইসলাম, এড. টিপু শীল জয়দেব, নগর ছাত্রলীগের সদস্য এম.আই. শহীদ সংস্কৃতিকর্মী নজরুল ইসলাম মোস্তাফিজ, মোহাম্মদ মাসুদ, পলাশ কুমার দেব, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

আলোচনা সভার শুরুতেই চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য প্রয়াত জননেতা মাঈন উদ্দিন খান বাদল এম.পি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।    


এবিএন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ