শ্রীমঙ্গলের পর্যটকদের জন্য ‘এসকেডি আমার বাড়ি’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৪:১৭

শীত এসে গেছে। ছেলেমেয়েদের পরীক্ষাও শেষ। শহুরে ইট-পাথরের আর কোলাহলময় জীবন থেকে কোথায় বেড়িয়ে আসার এখনি সময়। কোথায় বেড়াবেন ভাবছেন? চলে আসুন শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে অবস্থিত এসকেডি আমার বাড়িতে।

অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা, পাহাড়ী ছড়া ও টিলা বেষ্টিত নির্জন পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে ভালোই লাগবে। পাশেই আছে চা-বাগান। হাটা পথে ৫ মিনিটের পথ। শহরের কোলাহলমুক্ত, নির্জন, নিরিবিলি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত এসকেডি আমার বাড়িতে অবকাশযাপন করে আপনি হবেন মুগ্ধ।

নান্দনিক সৌন্দর্যের এই তিন তারকা মানের রিসোর্টটি শহর থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দূরে রাধানগরে অবস্থিত। এটি একটি দৃষ্টিনন্দন অবকাশযাপন কেন্দ্র পর্যটক ও অতিথিদের জন্য। এখানকার আতিথেয়তায় আপনি হবেন বিমোহিত।

অত্যাধুনিক লিফট সম্বলিত ৬ তলা এই ভবনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রয়েছে অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট ও নরমাল লিফট। ৪২টি কক্ষে ৮৩ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে আমার বাড়িতে। তাছাড়া ব্রেকফাস্ট, গাড়ি পার্কিং, ওয়াইফাই, সুইমিং পুল প্রভৃতি থাকছে আপনার জন্য একদম ফ্রি। আরোও ফ্রি রয়েছে ইনডোর গেইম যেমন- দাবা ও টেবিল টেনিস প্রভৃতি। এ ছাড়াও বাচ্চাদের জন্য রয়েছে ফ্রি কিডস জোন। এ ছাড়াও ডাক্তার, গাইড ও ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা আছে। আপনার চাহিদা মতো আমার বাড়ি কর্তৃপক্ষ এসব ব্যবস্থা ও সরবরাহ করবে।

প্রতিটি কক্ষে রয়েছে ঠান্ডা ও গরম জলের ব্যবস্থা। শাওয়ার জেল, টুথ ব্রাশ, টুথ পেষ্ট, সাবান, চিরুনি, খাবার পানি প্রভৃতি আপনাকে ফ্রি সরবরাহ করা হবে। রয়েছে বারবিকিউ এর ব্যবস্থা। আছে সুন্দর একটি লাইব্রেরী। প্রয়োজন মতো আপনি লাইব্রেরিতে যেতে পারবেন।

হোটেলটিতে রয়েছে একটি কনফারেন্স রুম। যেকোন সভা, সেমিনার, কর্মশালা, ট্রেনিং ও সম্মেলন করার জন্য অত্যন্ত সুন্দর একটি কক্ষ। এখানে আপনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা আপনার চাহিদা মতো মণিপুরী নৃত্যসহ নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠির নৃত্য বা তাদের কালচারাল প্রোগ্রাম উপভোগ করতে পারবেন। আগত অতিথি ও পর্যটকদের জন্য রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন ও অপূর্ব সৌন্দর্যের সুইমিং পুল। পর্যটকরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন একদম বিনামূল্যে। সুইমিং পুলে বাচ্চাদের জন্য রয়েছে আলাদা জোন।

আমার বাড়িতে রয়েছে সার্বক্ষনিক খাবারের ব্যবস্থা। আপনি অর্ডার করলে কর্তৃপক্ষ আপনার চাহিদা মতো খাবার সরবরাহ ও পরিবেশন করবে। এখানে যেকোন খাবার যেমন- চাইনিজ, থাই, ইন্ডিয়ান ও দেশী খাবার পাওয়া যায়। এখানে ৮০ জন একসাথে বসে খাবার জন্য একটি চমকপ্রদ রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

এ প্রতিনিধির সাথে আমার বাড়ির সত্ত্বাধিকারী সজল কুমার দাশের কথা হয় আজ সকালে। 

সজল দাশ বলেন ব্যবসায়িক মনোভাব নয়, তিনি শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতার কারনে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকা-েও নিরবে নিভৃতে কাজ করে চলেছেন তিনি। শিশু সাহিত্যে এক উজ্জ্বল নাম সজল কুমার দাশ। তার প্রকাশিত অনেকগুলো গ্রন্থের মধ্যে ‘কিশোর মুক্তিযোদ্ধার গল্প’ সজল দাশের একটি চমৎকার কিশোর উপন্যাস।

এসকেডি আমার বাড়ির পরিচালক সোমা দাশ বলেন হানিমুনের জন্য তিনি কেক ও বেড ডেকোরেশন ফ্রি করে দেন। বিভিন্ন ধরনের উৎসব ও বিশেষ দিনগুলোতে উৎসব উদযাপিত হয় সাড়ম্বরে। প্রমোদ ভ্রমনেরও ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।


তিনি আরোও বলেন তিনদিকে পাহাড়ীছড়া ও পাহাড়ীটিলার সংলগ্ন স্থানে আমার বাড়ির অবস্থান। অদ্ভুত এক নির্জন পরিবেশ। পাহাড়ী ছড়ায় বয়ে যাওয়া পানির কুল কুল শব্দ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। তারা হন মুগ্ধ। মাত্র ৫ মিনিটের হাটা পথে আপনি উপভোগ করতে পারেন উচু-নিচু টিলায় ঢেউ খেলানো সবুজ শ্যামল চা-বাগান। নিজ কক্ষে শুয়ে শুয়ে আপনি অবলোকন করতে পারবেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলের অপার সৌন্দর্য।

এবিএন/আতাউর রহমান কাজল/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ