ক্ষেতলালে বালাই নাশক প্রয়োগে ১০ একর ফসল নষ্টের অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:১৯

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে  ইম্পাহানি এগ্রো লিমিটেড কোম্পানীর  প্রতিনিধির  পরামর্শ গ্রহন করে বায়োডার্মা নামক প্রাকৃতিক জৈব ছত্রাক নাশক ঔষধ আলুর জমিতে প্রয়োগ করে  ১০ একর  আলুর ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, মাটির ঘর বাজারের মেসার্স এম ডি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাশেদুজ্জামান দুলাল নামের এক কীটনাশক ডিলারের নিকট থেকে ছত্রাকনাশক ক্রয় করে উপজেলার কৃষ্ণনগর ফকির পাড়া গ্রামের ২৭ জন কৃষক তাদের আলুর জমিতে প্রয়োগ করেন। এতে প্রায় ১০ একর আলু ফসল নষ্ট হয়েছে। গাছের পাতা,শাখা প্রশাখা পুড়ে ঝলসে ও পচে গিয়েছে।কৃষকরা বলছেন তাদের প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির হয়েছে।

এর আগে ইস্পাহানি এগ্রো লিমেটেড কোম্পানীর প্রতিনিধি সবুর খান লিমন ও ডিলার রাশেদুজ্জামান দুলাল ওই এলাকার শতাধিক কৃষককে একত্রিত করে আলু গাছের পচন রোগ থেকে রক্ষা করার জন্য বায়োডার্মা নামক পাউডার সপ্তাহে দুইবার আলু গাছের উপরে স্প্রে করার জন্য পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক ওই এলাকার প্রায় ২৭ জন আলুচাষি  ইস্পাহানি এগ্রো লিমেটেড কোম্পানীর সীল ব্যবহৃত বায়োডার্মা নামক পাউডার কিনে আলুগাছের উপরে স্প্রে করার ২/৩ দিন পর আলু গাছের পাতা,শাখা প্রশাখা পুড়ে ঝলশে ও পচে গিয়ে শুকিয়ে যেতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যে অধিকাংশ গাছ ও গাছের পাতা শুকিয়ে মরে যায়। একারনে গত ২৮ জানুয়ারী  ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরন দাবীসহ ওই কোম্পানীর প্রতিনিধি ও ডিলারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন।

ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের নিকট থেকে জানতে পারি,  ইস্পাহানি এগ্রো লিমেটেড কোম্পানীর প্রতিনিধি বায়োডার্মা নামক পাউডার ব্যবহারের বিভ্রান্তিকর পরামর্শ দেয় সেই মোতাবেক কৃষক আলুর জমিতে স্প্রে করেন। পরবর্তীতে লেডব্লাইড রোগে আক্রান্ত হয়ে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে  কৃষি অফিসারকে সরজমিন তদন্ত করার  নির্দেশ দেই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় ৩০ জানুয়ারী ডিলার রাশেদুজ্জামান দুলালকে ভ্রাম্যমান আদালতে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং রাশেদুজ্জামান দুলালকে ওই ইস্পাহানি এগ্রো লিমেটেড কোম্পানীর প্রতিনিধিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মুখোমুখি করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ডিলার রাশেদুজ্জামান দুলাল ও কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”

ডিলার রাশেদুজ্জামান দুলাল বলেন, “আমি ইস্পাহানি কোম্পানির বীজ ডিলার কিন্তু ইস্পাহানি এগ্রো লিমেটেড কোম্পানীর কিটনাশক ডিলার নই। ওই কোম্পানির প্রতিনিধি সবুর খান লিমন কৃষকদের মাঝে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন সেই প্রেক্ষিতে আমার দোকান থেকে কৃষক জোর করে ওই ঔষধ কিনে নিজেরাই স্ব -ইচ্ছায় জমিতে স্প্রে করে।”

ইস্পাহানি এগ্রো লিমেটেড কোম্পানীর প্রতিনিধি সবুর খান লিমন জানান, “আমাদের বায়োডার্মা প্রাকৃতিক জৈব বালাই নাশক এটা জমিতে ব্যবহারের ৭ দিন আগে বা পরে অন্য কোন ছত্রাক নাশক ব্যবহার করলে সঠিক ভাবে কাজ করবে না। কৃষক নিয়ম না মেনে ব্যবহার করাই এ ক্ষতি হয়েছে।”   


এবিএন/মিজানুর রহমান/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ