রেলে এই প্রথম ২৯ সিরিজের ভস্মীভূত ইঞ্জিন সচল করলো পার্বতীপুরের কারখানাটি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:৩৬

দেশে প্রথম বারের মতো ভস্মীভূত একটি রেল ইঞ্জিনকে সচল করেছে পার্বতীপুরের রেলওয়ে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার শ্রমিকেরা। ২৯৩৩ নম্বরের সচল হওয়া এই ইঞ্জিনটি গতকাল বুধবার বেলা ২টায় কেন্দ্রীয় কারখানা থেকে বের করে (আউট টার্ন) পার্বতীপুর লোকো সেডে হস্তান্তর করা হয়েছে।  

রেল সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে দেশে এম আই- ১৫ শ্রেণির ১১টি ইঞ্জিন আমদানী করা হয়। জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায় এ ইঞ্জিনগুলো দক্ষিন কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানীর তৈরী।  ইঞ্জিনগুলো দিয়ে দেশের বিভিন্ন যায়গায় মিটারগেজ রেলপথে ট্রেন পরিচালিত হয়ে আসছে।
সূত্র  উল্লেখ করে, ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর ২৯৩৩ নম্বর ইঞ্জিনটি দূর্ঘটনায় পড়ে। ওইদিন ঢাকা-সিলেট রেলপথে আন্তঃনগর পারাবত ট্রেনের সাথে যুক্ত ছিলো এ ইঞ্জিনটি। ট্রেনটি হবিগঞ্জের মাধবপুর নোয়াপাড়া রেলস্টেশনে লাইনচ্যুত হয়। দূর্ঘটনায় পতিত রেল  ইঞ্জিনের নিচের অংশে জালানী ট্যাংকারে আগুন লেগে যায় । এতে ইঞ্জিনের ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্রাংশসহ পুরো ইঞ্জিনটি পুরে ড্যামেজ হয়ে যায়। পুড়ে যাওয়া ইঞ্জিনটি উদ্ধার করে পাহাড়তলী ডিজেল সপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই ইঞ্জিনটি কোনভাবে মেরামত করা সম্ভব না হওয়ায় ২০১৯ সালের ১৫ মে ভারী মেরামতের জন্য পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় পাঠানো হয়।

পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার ডাব্লিউএম  (মেরামত) মোঃ ময়েন উদ্দীন সরদার জানান, গত ১৩ ফেব্রুয়ারী সচল হওয়া ইঞ্জিনটি পার্বতীপুর-দিনাজপুরের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো ( ট্রায়াল রান) হয়। তিনি বলেন, গত ৮মাসে ২৩৩জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টা চালিয়ে এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় ভস্মীভূত এবং পুরোপুরি অচল হওয়া ইঞ্জিন ভারী মেরামত করে ( জেনারেল ওভার হোলিং) সচল করতে আমরা সমর্থ হই।

তিনি বলেন, ইঞ্জিনটি মেরামত করতে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে। এরমক একটি ইঞ্জিন বিদেশ থেকে আমদানী করতে বৈদেশিক মূদ্রায় সাড়ে ৩৩ কোটি টাকা খরচ হয় এখন। এতে ৩০ কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রার সাশ্রয় হয়েছে বলে তিনি জানান। কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার এই কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিকে বলেন, ইঞ্জিনটি সচল করতে যে সকল যন্ত্রাংশের প্রয়োজন পড়েছে তার বেশিরভাগ স্থানীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৯৯২ সালে কেন্দ্রীয় এ লোকোমোটিভ কারাখানাটি স্থাপিত হয়। চলতি ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত এ কারখানায় ৪৫৭টি ইঞ্জিনের ভারী মেরামত শেষে রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ রেলপথের চাটমোহর রেলস্টেশনে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের পুড়ে যাওয়া ইঞ্জিনটিরও (২৯২০) ভারী মেরামত চলছে বর্তমানে এ কারখানায়। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহা-পরিচালক  (রোলিং স্টক) মোঃ মঞ্জুর উল আলম চৌধুরী সম্পূর্নভাবে ভস্মীভূত হওয়া ইঞ্জিনটি পুনরায় সচল হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,  সচল হওয়া এ ইঞ্জিনটি খুব শিঘ্রই রেলওয়ের চট্রগ্রাম ডিভিশনে পাঠানো হবে।
 

এবিএন/এম এ জলিল সরকার/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ