রাজধানীজুড়ে করোনার থাবা, বাড়ছে সংক্রমণ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২০, ১৮:২৭

করোনাভাইরাস সংক্রমণের চিহ্নিত পাঁচটি ক্লাস্টারের (একটি জায়গায় কম দূরত্বের মধ্যে অনেক রোগী) দুটি রাজধানী ঢাকায়। কিন্তু রাজধানীর ওই দুটি এলাকাতেই কেবল সংক্রমণ সীমিত নেই। এখন প্রায় পুরো রাজধানীতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত রাজধানীর ৪৬টি এলাকায় সংক্রমণ পাওয়া গেছে। দেশে চিহ্নিত মোট রোগীর ৫৬ শতাংশই রাজধানীর বাসিন্দা।

ঢাকা মহানগরীর বাইরে ঢাকা জেলাসহ মোট ২২টি জেলায় সংক্রমণ ধরা পড়েছে। গতকাল পর্যন্ত মোট ২১৮ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২৩ জন (৫৬ দশমিক ৪২ শতাংশ) ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দা। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) দেওয়া তথ্যে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানীর যেসব জায়গায় রোগী শনাক্ত হচ্ছে, সেখানে সীমিত পরিসরে ভবন বা গলি লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হচ্ছে। গত রাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত ৫৪টি জায়গায় এ ধরনের লকডাউন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। রাজধানীর বাইরে গতকাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার, নরসিংদী ও টাঙ্গাইল—এই ছয়টি জেলা পুরো লকডাউন করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় নতুন আক্রান্ত পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে লকডাউন করছে প্রশাসন। কোথাও কোথাও এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে লকডাউন করছেন। কিন্তু সব জায়গায় লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর করা যাচ্ছে না বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গতকাল নতুন শনাক্ত ৫৪ জনের মধ্যে ৩৯ জনই রাজধানীর বাসিন্দা। গত রোববার পর্যন্ত রাজধানীর ২৯টি এলাকায় সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ছিল ৪২টি এলাকায়। গতকাল সংক্রমিত এলাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬-এ। রাজধানীর মিরপুর ও পুরান ঢাকা অঞ্চলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরার মতো অভিজাত এলাকাগুলোতেও সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

মোট আক্রান্তের ৫৬ শতাংশ রাজধানীর বাসিন্দা। ৪৬টি এলাকায় রোগী চিহ্নিত। মিরপুর ও পুরান ঢাকায় বেশি।
মিরপুরে শনাক্ত ২৭ জন বৃহত্তর মিরপুরে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন ১৭ জন। গতকাল নতুন করে ওই অঞ্চলের ১০ জনের মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট ২৭ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে বৃহত্তর মিরপুরে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, কোনো এলাকা বা ভবন লকডাউন ঘোষণা করা মানে কেউ সেখান থেকে বের হতে পারবেন না এবং বাইরে থেকে কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না। কারও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দরকার হলে প্রয়োজন সাপেক্ষে একজন বের হতে পারবেন। প্রয়োজন শেষ হওয়ামাত্র তিনি আবার আবাসস্থলে ফিরে যাবেন।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ