চিতলমারীতে দোকানপাট খোলায় বাড়ছে শঙ্কা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২০, ১৪:৫৮

বাগেরহাটের চিতলমারীতে মরণঘাতি করোনা ভাইরাস নিয়ে বর্তমান সাধারণ মানুষদের মাথা ব্যাথা না থাকলেও সচেতন মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হয়েছে। খোলা হয়েছে দোকানপাট। বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। এতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই এই শঙ্কা। কারণ সরকার ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ মানুষ স্বাস্থ্য বিধির কোনো শর্তই মানতে চাচ্ছে না। তাই ছুটতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এতকিছুর পরও উপজেলা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের শ্রম পন্ডশ্রমে পরিণত হবে কিনা তা নিয়ে জনমনে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের দেয়া নির্দেশনা মেনে গত ২৬ মার্চ থেকে চিতলমারী উপজেলার দোকান মালিকরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। শুধু খোলা রাখা হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ওষুধের দোকান। প্রথমদিকে কঠোরতা এবং মানুষের সচেতনতা লক্ষ্য করা গেলেও সাধারন মানুষ এখন অপ্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হতে শুরু করেছে। তার উপর গত ১০ মে থেকে খুলে দেয়া হয়েছে দোকানপাট। তাই হাটবাজারে ভিড় বাড়ছে। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে উপজেলার অধিকাংশ মানুষ। তাই বাধ্য হয়ে ছুটতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

চিতলমারী সদর বাজারের ব্যবসায়ী সুবল কর্মকার, আজিজ সওদাগর, বিশ্বনাথ মন্ডল, ভীম দাস, মোঃ নজরুল মীর, তুহিন মন্ডলসহ অনেকে বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয় নিয়ে জীবিকার তাগিদে দোকান খুলতে হচ্ছে। এছাড়া আর উপায় কি। সরকারের দেয়া সব শর্ত মেনে আমরা বেচাকেনা করছি। দীর্ঘ দেড় মাস উপজেলার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা লোকসানের মুখে পড়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা কেনাবেচা করছি। যাতে লোকসান কিছুটা তি কাটিয়ে উঠতে পারি।’

কিন্তু সচেতন মহলের অনেকেই জানান, ভিড় বাড়লে সামাজিক দূরত্ব মানা কঠিন হবে। সীমিত সময়ের জন্য দোকান খোলা থাকায় ক্রেতাদের তাড়াহুড়া থাকবে। ফলে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাছাড়া বাজারের বেশির ভাগ ব্যবসায়ি সরকারি কোন নির্দেশনা মানছেন না।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মারুফুল আলম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল শর্ত মেনে ১০ মে থেকে এ উপজেলার দোকানপাট খোলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখানকার দোকান মালিকদের সরকারের দেয়া শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে দোকানগুলোতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বেচাকেনা করা, মুখে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোভস পরতে হবে। সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা বানিজ্য করতে হবে।

এছাড়া সার্বিক তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। করোনার প্রকোপ ঠেকাতে দিনরাত কাজ করলে প্রশাসন। তাই কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মামুন হাসান মিলন জানান, এপ্রিল থেকে এ উপজেলায় করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। এ পর্যন্ত এখানে এক নারী ও দুই পুরুষসহ মোট ৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। তারা কেউই চিতলমাতে বসে করোনায় আক্রান্ত হননি। তারা সবাই উপজেলার বাইরে থেকে বাড়ীতে ফেরেন। এদের মধ্যে ফরিদপুর থেকে আসা পাটরপাড়া গ্রামের মোয়াজ্জিম করোনামুক্ত হয়েছেন এবং ঢাকা থেকে আসা চিংগুড়ি গ্রামের স্বামী ও স্ত্রী হোম আইসোলেশনে চিৎসাধীন রয়েছেন।

এবিএন/এস এস সাগর/গালিব/জসিম
 

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ