চিতলমারীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা, নারী ও শিশুসহ আহত ৫

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২০, ১১:১০

বাগেরহাটের চিতলমারীতে এক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রভাবশালীরা হামলায় শিকার ওই পরিবারের আহত সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফলে দু’দিন পার হতে চললেও আহতরা চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না।

গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে এমটাই জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার ওই পরিবারের সদস্যরা।

পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা হরবিলাস পোদ্দার কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান, উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের উত্তর খলিশাখালি মৌজায় ১নং খতিয়ানে এসএ ১৭২নং দাগে বাবুগঞ্জ বাজারে তার ১৮ শতক জমি রয়েছে। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।

সম্প্রতি গায়ের জোরে স্থানীয় প্রভাবশালী ইলিয়াস শেখ রাতারাতি একটি ঘর তুলে দখল নেয়। এরপর থেকে সে আরও জাগয়া দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

ওসি থানার এসআই সঞ্জয় দেকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এসআই সঞ্জয় দে একটি সমাধান দেন। এর জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৮টার দিকে প্রভাবশালী ইলিয়াস শেখ ও বেল্লাল শেখের নেতেৃত্বে আড়–য়াবর্নী গ্রামের ১৫/২০ লোক তাদের পরিবারের উপরে বর্বরোচিত হামলা চালায়।

হামলায় তার স্ত্রী সবিতা পোদ্দার, মেয়ে আখি স্বর্ণকার, ছেলে উজ্বল পোদ্দার, নাতি রাহুল স্বর্ণকার ও ঠেকাতে এসে প্রতিবেশী ও কলেজ শিক্ষক প্রদীপ মন্ডল আহত হন।

আহতর পর ওই প্রভাবশালীরা অবরুদ্ধ করে রাখায় তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ও থানায় অভিযোগ দিতে পারছে না।
প্রতিবেশী ও শিক্ষক প্রদীপ মন্ডল বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর নির্যাতন দেখে সইতে না পেরে মানবিক কারনে আমি ঠেকাতে যাই। দখলবাজ ওই সন্ত্রাসীরা আমাকে পিটিয়েও আহত করেছে।

ইলিয়াস শেখ হামলার ঘটনা অস্বীকার করে জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সাথে তাদের ঝগড়াঝাটি হয়েছে। তাছাড়া ও জায়গা তিনি হাশেম নামে এক ব্যাক্তির কাছ থেকে ক্রয় করেছেন।

এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার এসআই সঞ্জয় দে জানান, মুক্তিযোদ্ধা ওই পরিবারের উপর হামলার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত ওই পরিবারটি লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মারুফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলার কথা শুনে তাৎক্ষণিত পুলিশ পাঠানো হয়।

বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।   

এবিএন/এস এস সাগর/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ