গাইবান্ধায় ভুয়া সরকারি চাকুরীর প্রতারণায় নিঃস্ব এক যুবক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২০, ১৪:২৬

গাইবান্ধায় ভুয়া সরকারি চাকুরীর আশায় কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন সঞ্জয় চন্দ্র শীল নামে এক বেকার যুবক।

ওই যুবক এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে সামাজিক, পারিবারিক এবং আর্থিকভাবে মানবেতার জীবনযাপন করছেন।

সঞ্জয় চন্দ্র রংপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ বছর মেয়াদী প্যারা মেডিকেল কোর্স সম্পন্ন করেন। চাকুরীর আশায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে থাকে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের চকবরুল গ্রামের সুকুমার চন্দ্রের ছেলে সঞ্জয় চন্দ্র শীল জানান, ২০১৮ সালে গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অফিসার শফিকুল উদ্দিনের সাথে পরিচয় হয় তার।

পরবর্তীতে পরিচয়ের সুবাদে শফিকুল উদ্দিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সঞ্জয়ের হাতে তুলে দেয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কিছু শর্তসহ কয়েকটি পদে নিয়োগ দেয়া হবে উল্লেখ থাকে। সঞ্জয়কে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক পরিদর্শক পদে পরীক্ষা দিতে বলে ওই কর্মকর্তা।

লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন সঞ্জয়। এরপর শুরু হয় প্রতারণার ফাঁদ। তখন শফিকুল উদ্দিন বলেন এভাবে হবে না অন্য উপায়ে তোমাকে কাজ করতে হবে। এ সুযোগ হাত ছাড়া করো না সঞ্জয়। ওই কর্মকর্তার প্রস্তাবে প্রথমে ৮ লক্ষ টাকা পরে আবার ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পরিবার পরিকল্পণা অধিদপ্তরের পরিদর্শক পদে নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র হাতে পায়। তখন এলাকা সকলেই জানলো সঞ্জয়ের চাকুরীর কথা।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর তারিখে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ৩৪নং উপ-স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পণা কেন্দ্রে যোগদান করে সঞ্জয়। যোগদানের পর দুই মাসের বেতনও পায় সে। সবকিছু বাস্তব সত্য-কিন্তু সত্য নয়। নিয়োগপত্র ও বেতন পাওয়ার পর অবিশ্বাস করবে কে? তারপর জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো পরিদর্শন (অডিট) করতে গিয়ে গত ১০ মার্চ ২০১৯ সালে প্রশাসনের হাতে আটক হয় সঞ্জয়। ওই সময় তার সাথে আরো ৬জন প্রশাসনের হাতে আটক হয়। তারপর জানতে পারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যোগদানপত্র, সবকিছুই ভুয়া ছিল।

সঞ্জয় আরো বলেন, বিশ্বাস অর্জনের জন্য আমিসহ প্রত্যেক প্রার্থীর আঙ্গুলের ছাঁপ নেয় প্রতারকচক্র। এক সাথে ৬ জনকে যোগদানপত্র দেয়ার ঘটনা ঘটে। আমিসহ ওই ৬ জনও আটকের পর বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে বের হয়।

আটককৃত ৬ জন জামিনে এসে আমার নিকট তাদের মামলার যাবতীয় খরচাদি দাবী করে আসছেন। এখন পরিবারের লোকজন ছাড়াও সমাজের লোকজনের কাছে হেয়প্রতিপন্নসহ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সঞ্জয়। এভাবে তার সাজানো-গোছানো জীবনটা তছনছসহ তার পরিবারটাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে প্রতারকচক্র। এখন পর্যন্ত মূলহোতারা ধরাছোয়ার বাহিরে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তার আকুল আবেদন তদন্ত সাপেক্ষে প্রতারণা চক্রের মূলহোতাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সত্য ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

এবিএন/আরিফ উদ্দিন/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ