কিশোরগঞ্জে হাওরের পানিতে পড়ে দুই পর্যটকের মৃত্যু

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২০, ০০:৫৭

কিশোরগঞ্জের নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার হাওর পর্যটন এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে এক পর্যটকের মৃত্যু এবং বাজিতপুরের হাওরে নৌ-দুর্ঘটনায় অপর এক পর্যটকের ডুবে গেছেন। তাকে আর উদ্ধার করা যায়নি।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নিকলী বেড়িবাঁধ পর্যটন এলাকায় এবং শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বাজিতপুর উপজেলার পাটুলী ঘাট এলাকার হাওরে এ দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এদের মধ্যে নিকলীর বেড়িবাঁধ পর্যটন এলাকার হাওর থেকে মেহেদী হাসান (১৭) এক পর্যটকের লাশ উদ্ধার করতে সমর্থ হলেও বাজিতপুর হাওরে নৌ-দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হাসান আহমেদ নামে পর্যটকের উদ্ধার কাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে।

নিকলী থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকার ভ্রমণ বিলাসী ১০ বাইকার তরুণ কিশোরগঞ্জের নিকলী বেড়িবাঁধ পর্যটন এলাকায় আসেন। তাদের মধ্যে ৩ তরুণ টায়ারের টিউব নিয়ে জলকেলি করতে হাওরের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।

জানা গেছে, স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এদের মধ্যে দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সমর্থ হলেও দীর্ঘ দুই ঘণ্টা তল্লাশির পর মেহেদী হাসান নামের অপর তরুণকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত মেহেদী নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামের অধিবাসী বলে জানিয়েছেন নিকলী থানার ওসি মো. শামছুল আলম সিদ্দিকী।

অপরদিকে, ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর ও সাভারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২০০৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে ওঠা ফেসবুক গ্রুপের কয়েক শ’ সদস্য বাইকার মোটর সাইকেল নিয়ে শুক্রবার দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার হুমাইপুর ইউনিয়নের পাটুলী ঘাটে আসেন। এখান থেকে ইটনা, মিটামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওর পরিভ্রমণের জন্য একটি বিশাল পাথরবাহী বাক্লহেড স্টিল বডি নৌকা ভাড়া নিয়ে মোটরসাইকেলসহ ওঠেন।

তারা এসব হাওর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরের ভাসান পানিতে নৌকা এবং মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে রাত ১২টার দিকে ওই নৌকা যোগেই ফিরে আসছিলেন। পাটুলী ঘাটের কাছাকাছি আসলে তাদের বহনকারী বিশাল আকৃতির নৌকাটি বিদ্যুৎ তারের খুঁটির সঙ্গে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা খায়। এ সময় অনেক পর্যটক ও মোটরবাইক সিটকে গভীর পানিতে পড়ে যায়।

এ সময় অন্যান্য সকলে সাঁতরে তীরে উঠে আসলেও হাসান আহমেদ (৩২) নিখোঁজ থাকে। স্থানীয় লোকজনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং শনিবার বিকাল পর্যন্ত তার সন্ধান না পাওয়ায় উদ্ধার কাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে তার লাশ অনেক দূরে চলে গেছে। নিখোঁজ হাসান আহমেদ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার কুটাকিয়া গ্রামের নূরুল আমিনের ছেলে।

উল্লেখ্য, করোনার শুরু থেকেই হাওরে প্রবেশে কঠোর রয়েছে প্রশাসন। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতও রয়েছে যাতে কেউ হাওরে প্রবেশ করতে না পারে। তারপরও দেখা যায় প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাওরে প্রবেশ করছে এবং মাঝেমধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ