পানিতে ভাসছে কুড়িগ্রামে সাড়ে ৪শ গ্রাম

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২০, ২১:৪২

কুড়িগ্রামে দ্বিতীয় দফায় বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে নদ-নদীগুলোতে অস্বাভাবিক হারে পানি বাড়ায় উপচে ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর ৪টি পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এরফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ৯ উপজেলার ৫৬ টি ইউনিয়নের ৪৪৮ টি গ্রাম এখন বানের পানিতে ভাসছে। পানি ঢুকে হাজার হাজার বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ২২ হাজার পরিবারের ৯০ হাজার মানুষ।

নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে দ্রুত। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে এই নদীর অববাহিকার সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা নানকার, নন্দদুলালের ভিটা, চর বড়াইবাড়ী, মধ্যকুমোরপুর, জগমোহনের চর, সাতভিটা ও টেংনারভিটা গ্রাম বানের পানিতে ভাসছে। গ্রামগুলোর সব বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে।

এ অবস্থায় শুধু নানকার গ্রাম থেকে কলার গাছের ভেলা বানিয়ে তাতে ছাগল ভেড়া তুলে অর্ধ শতাধিক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছে। আর পানিবন্দী পরিবারগুলো খাদ্য আর বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান, ধরলা নদীর পানি উপচে ছড়িয়ে পড়ায় তার ইউনিয়নের ২২ টি গ্রাম এখন বানের পানিতে ভাসছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাই সরকার জানান, এ পর্যন্ত জেলার ৯ উপজেলার ৫৬ টি ইউনিয়নের ৪৪৮ গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ৯০ হাজারের মতো মানুষ পানবন্দী হয়ে পড়েছেন। এই বন্যার্তদের সহায়তায় সোমবার ৯ উপজেলায় ১৬০ মে.টন চাল, শুকনা খাবার বাবদ ৪ লাখ টাকা, শিশু খাদ্য বাবদ ২ লাখ টাকা এবং পশু খাদ্য বাবদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, কখনও ভারি আবার কখনও হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। সেইসাথে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নদ-নদীগুলোতে অস্বাভাবিক হারে পানি বেড়ে উপচে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

তিনি আরও জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় ধরলা নদীর ফেরীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ