ঈদে ব্যস্ততা বাড়লেও করোনাভাইরাসের চিন্তিত কামার পল্লীর মানুষেরা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২০, ১৭:৫৩ | আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ১৮:০২

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদ উল আযহাকে সামনে রেখে কামার পট্টিতে দিন দিন বাড়ছে ব্যস্ততা। গতবারের তুলনায় এবার অর্ধেকে নেমে এসেছে কাজ ও বিক্রি। ঈদুল আজহা এলেই কোরবানির পশুর মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করে এবং বাড়তি আয় হয় কামার শিল্পীদের। গতবারের চেয়ে এবার বিক্রি তুলনামুলক কম। সংসার চালানোই দায় দাড়িয়েছে কামার শিল্পীদের। অনেক কামার তাদের পেশা বদলানোর চেষ্টা করছে বা করেছে। কারণ হিসেবে করোনা দুর্যোগকে দায়ী করছেন তারা। 

ভাঁতির ফাসফুস আর হাঁতুড়ি পেটার টুং টাং শব্দে মুখর এখন কামারশালাগুলো। হাপরে আগুনের শিখা আর  হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে তৈরি হচ্ছে দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। কামাররা লোহা পুড়িয়ে লাল করে হাতুড়ি দ্বারা পিটিয়ে ছুরি, দা, বটি ও চাপাতি তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে থাকে। গ্রাম থেকে শহর, সবখানেই কামারদের এই ব্যস্ততা লক্ষনীয়। স্থায়ী কামারের দোকানের পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন হাট-বাজারে বসেছে অস্থায়ী কামারের দোকানও। 

সরেজমিন কামারপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আজহা আসন্ন হওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। কেউ দা, ছুরি, বঁটিসহ মাংস কাটার জন্য নানা ধরনের সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আবার কেউ কেউ সেগুলোকে ধারালো করছেন। আবার কেউ কেউ তা ধুয়ে মুছে বিক্রির জন্য আকর্ষণীয় করছেন। এ অবস্থার মধ্যে সাধারণ মানুষও আসছেন পুরনো সরঞ্জাম চকচকে কিংবা ধারালো করতে। এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নতুন করেই তৈরি করে নিচ্ছেন দা, ছুরি ও বটি।  যার ফলে রাত-বিরাত বেড়েই চলছে কামারদের ব্যস্ততা। রাণীরবন্দরে কামারপল্লীতে আসা ক্রেতা ওবায়দুর রহমান, আনিছুর রহমান, নুরুল আলম বলেন, প্রতিবছরই কোরবানি দিচ্ছি। আগের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো শান দিতে এসেছি। অন্য সময়ের থেকে বর্তমানে কামাররা দাম একটু বেশি নিচ্ছেন। তবুও আমরা মেনে নিচ্ছি।

চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীরবন্দরে কামারপল্লীর আশিষ চন্দ্র রায়, রবীন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, বংশপরম্পরায় আমরা কামার পেশার সাথে জড়িত। বছরের বেশির ভাগ সময়ই আমাদের অলস সময় কাটাতে হয়।পুরো বছরের মধ্যে কেবল কোরবানি ঈদেই একটু ভালো কাজ হয়। গত বছর কোরবানির পশু কাটতে ছোট বড় চাকু, ছোরা ও চাপাতির দাম বেশি ছিল। তবে এবছর প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে এখনও তেমন কাজ হচ্ছে না। যা হয় তাতে পুষিয়ে উঠা যায় না। নতুন জিনিস খুব কম লোকই কিনছেন। সবাই পুরাতন দা, ছুরি ও বটি শান দিয়ে নিচ্ছেন। তারা আরো জানান, এবার কাজের অর্ডার খুব কম। প্রতিদিন সকাল হতে রাত অবধি সরঞ্জাম তৈরির কাজ করছি। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় সেগুলো অবিক্রীত থাকছে। একই কথা বলেন অন্যান্যরা। তাদের দাবি, কামারপল্লীতে ব্যস্ততা বাড়লেও করোনা দুর্যোগে কমেছে সরঞ্জাম বেচাকেনা। এ কারণে হাসি নেই কামারদের মুখে। 

 

এবিএন/মো. রফিকুল ইসলাম /অসীম রায়/জসিম 


 

এই বিভাগের আরো সংবাদ