কোটচাঁদপুরের জালালপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারের পদত্যাগ 

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২০, ১৬:৩৭

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :  চাকুরীতে যোগদানের ২২ দিন পর পদত্যাগ করলেন এক মাদ্রাসার সুপার। ভয়ভীতি,হুমকি,ধামকী ও পুলিশের হয়রানির কারণে পদত্যাগ করতে হয়েছে এমন অভিযোগ ওই সুপারের। এ ঘটনাটি ঘটেছে কোটচাঁদপুরের জালালপুর দাখিল মাদ্রাসায়।গেল জুন মাসের দিকে জালালপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার নিয়োগ দেয়া হবে এমন বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় পত্রিকায়। এর ভিত্তিতে ওই পদে চাকুরী পাবার জন্য ৭ জন আবেদন করেন। 

যার মধ্যে রয়েছেন দেলোয়ার হোসেন,হাবিবুর রহমান,নুরুন্নবী,মুহাঃ ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ,মোঃ ইমরান হোসেন,মোঃ ইসমাইল হোসেন,মুহাম্মদ আল মারুফ। এদের মধ্যে নুরুন্নবী ও ইমরান হোসেন বাদে, বাকিরা অংশ গ্রহন করেন নিয়োগ পরিক্ষায়। পরিক্ষা নেয়া হয় গেল ২৬-০৬-২০২০ তারিখে কোটচাঁদপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে। এ সময় নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন ওই মাদ্রাসার সভাপতি ওবাইদুল হক বল্টু,ভারপ্রাপ্ত সুপাররেন্টটেন্ট সদস্য সচিব আবদুর সাত্তার,মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন,সরকারের প্রতিনিধি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রতন মিয়া,বিদ্যুৎসাহী সদস্য মোঃ শমশের মিয়া। 

পরিক্ষায় সব থেকে বেশি নাম্বার পান হাবিবুর রহমান। এর পেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি গেল ০৩-০৭-২০২০ তারিখে তাকে নিয়োগ দেন। হাবিবুর রহমান নিয়োগ পত্র পেয়ে গেল ০৪-০৭-২০২০ তারিখে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন সুপার পদে। উল্লেখ্য ওই বোডে আরো তিন জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী,পরিছন্নতা কর্মী ও আয়া। কথা হয় হাবিবুর রহমানের সঙ্গে,তিনি বলেন,ওই প্রতিষ্ঠানে যোগদানের আগে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। 

তবে যোগদানের পর থেকে আসতে থাকে হুমকী,ধামকী। করা হয় পুলিশি হয়রানি। বাদ্য হয়ে আমি গেল ২৬-০৭-২০২০ তারিখে ওই থেকে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছি। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ওবাইদুল হক বলেন,গেল ২৬-০৬-২০২০ তারিখে সুপার সহ চার জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করা ওই বোডে। সে অনুযায়ী আমি তাদেরকে গেল ০৩-০৭-২০২০ তারিখে নিয়োগ পত্র প্রদান করি। 

তারা প্রতিষ্ঠানে যোগদানও করেন। এদের মধ্যে সুপার হাবিবুর রহমানের পত্রত্যাগ পত্র হাতে পায় গেল ২৬-০৭-২০২০ তারিখে। কি কারনে পদত্যাগ করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,তাকে কারা হুমকী,ধামকী দিয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ দিয়ে হয়রানিও করছেন। এ কারনে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রতন মিয়া জানান,হাবিবুর রহমান পদত্যাগ করেছেন আমি শুনেছি প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত সুপার মুহাম্মদ আল মারুফের কাছ থেকে। তিনি বলেন আগে যেখানে হাবিবুর রহমান চাকুরী করতেন, ওই খানে বেতন বেশি ছিল এ কারনে তিনি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগ করানো হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,এটা আমি বলতে পারব না। এটা জানতে হলে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শুনতে হবে। আর এটা আমার জানা নেই। উপজেলা নিবার্হী অফিসার আসাদুজ্জামান রিপন বলেন,আমি গেল ২১ তারিখে কোটচাঁদপুরে যোগদান করেছি। এ ঘটনা আমার জানা নাই। তবে আমি খোজ খবর নিয়ে দেখছি কি ঘটেছে।

 

এবিএন/সুব্র সরকার/জসিম/অসীম রায় 


 

এই বিভাগের আরো সংবাদ