পাঁচবিবিতে স্বামীর নির্যাতনে নিহত গৃহবধূকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২০, ১৪:০৬

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে স্বামীর নির্যাতনে মৃত্যু গৃহবধূ সুমাইয়াকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাঁচবিবি পৌরসভার বালিঘাটা বাজারের বাসিন্দা জয়পুরহাট-১ আসনের প্রথম এমপি মরহুম ডা. সাইদুর রহমানে পুত্র রবিউল আলম লিটুর প্রথম কন্যা সুমাইয়া আক্তারকে আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের রামনগর (নওয়ানা) গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র জনি এর সঙ্গে ৭ বছর পূর্বে বিবাহ হয়।

শ্বশুর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগে জানা গেছে যায়, বিবাহের পর থেকেই সৌদি প্রবাসী শ্বশুর লিটুর পরিবার থেকে বিভিন্নভাবে কায়দা-কৌশলে জনি অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় পাঁচবিবি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে কাদের পাড়ায় শ্বশুরের অন্য একটি বাড়িতে থাকার সুযোগ গ্রহণ করে এবং বালিঘাটা বাজারে শশুড়ের অর্থে একটি কাপড়ের দোকান দিয়েছে। এরপরেও সুমাইয়াকে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো স্বামী জনি।

গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যা রাত থেকে জনি সুমাইয়াকে ওয়ালে মাথা ধাক্কা দেওয়া সহ বিভিন্ন ভাবে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে।

এর এক পর্যায়ে সুমাইয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্বয়ন কক্ষের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়ার নাটক বানিয়ে প্রথমে ভাড়াটিয়া পরিবার পরে শ্বশুর পরিবারকে মোবাইলে খবর দেয়।

সুমাইয়ার বাবার পরিবারের সহযোগিতায় প্রথমে জয়পুরহাট পরে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১২.২০ মি. মৃত্যুবরণ করেন। হাসপাতালের মৃত্যু সনদে মাথায় আঘাতের তথ্য পাওয়া গেছে। সুমাইয়ার স্বামী জনির ব্যবহৃত নাম্বারে বার বার কল করলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে।

সুমাইয়ার হত্যার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী পাঁচবিবি থানার এস,আই অসিত কুমারের নিকট ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগটি গভীরভাবে তদন্ত চলেছে।

এবিএন/সজল কুমার দাস/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ