শ্রীমঙ্গলের কাশবনে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভীড়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:৫৮

শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের টার্নিং পয়েন্টে ভুরভুরিয়া ছড়ার দু’পাশে বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে কাশবন দেখতে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে।

পর্যটক, দর্শনার্থী, ভ্রমণপিপাসু মানুষ প্রতিদিন বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে এখানে ভিড় করছেন। কাশবনের আকর্ষনে প্রতিদিনই ছুটে  আসছেন মানুষ এই কাশবনে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন এখানে।

কাশফুল এক ধরনের ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ। নদীর তীরে ফুলফোটা শ্বেতশুভ্র কাশবন দেখতে খুবই সুন্দর। এর আদিনিবাস রোমানিয়ায়।

শ্রীমঙ্গলের কাশবন। শহর থেকে দেড়-দুই কিলোমিটারের পথ। নান্দনিক সৌন্দর্যের আর দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ি ছড়ার দুইপাশে বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে এই কাশবনের অবস্হান। এটির নাম ভুরভুরিয়া ছড়া ( াহাড়ি নদী)। ছড়াটি বিশাল চা-বাগানকে দু' ভাগে ভাগ করে  রেখেছে। সবুজ-শ্যামল চা-বাগানের মাঝ দিয়ে ছড়াটি প্রবাহমান। অপুর্ব এক আরন্যক পরিবেশ যা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

শ্রীমঙ্গল শহরের জিরো পয়েন্ট চৌমোহনা থেকে এখানে আসতে নয়ন ভূলানো প্রাকৃতিক দৃশ্য আগতদের মুগ্ধ করে। শহর থেকে দৃষ্টিনন্দন এ কাশবনে আসতে পর্যটক, দর্শনার্থী আর ভ্রমনপিপাসুরা হন বিমোহিত। অপরুপ প্রাকৃতিক পরিবেশে চারদিকে পাহাড় টিলার ভাঁজে ভাঁজে চা-বাগান ঘেরা আর ভুরভুরিয়া ছড়ার দু'পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে কাশবনে আসতে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। শহর থেকে এখানে আসতে দু'পাশে দেখতে পাবেন শুধু চা-বাগান আর চা-বাগান। মাঝ দিয়ে পীচ ঢালা পথ। ভাগ্য ভাল হলে চা-বাগানে চা-কন্যাদের চা-পাতা চয়নের মনোরম দৃশ্যও চোখে পড়বে। আপনি এ সময় সেলফিও তুলে নিতে পারেন।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে আপনি পৌছে যেতে পারেন চা গবেষণা কেন্দ্রের টার্নিং পয়েন্টে। এখানে নেমেই আপনি ভুরভুরিয়া ছড়ার দু'পাশে সাদা ধবধবে কাশবনের দেখা পাবেন। পুরো এলাকাটি আপনি ঘুরে দেখতে পারেন। ছড়াটিতে পানি খুব কম। আপনি সহজেই ছড়া অতিক্রম করে হেঁটে চলে যেতে পারেন ওপারে। উপভোগ করতে পারেন কাশবনের অপার সৌন্দর্য।

সাদা কাশবনের চারদিকে দেখতে পাবেন সবুজ আর সবুজ। সবুজের সমারোহ। চারদিকে সবুজ চা-বাগানের মাঝে ভুরভুরিয়া ছড়া আর কাশবনের সৌন্দর্য পর্যটক, দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে আকর্ষনীয় এই কাশবন দেখতে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। চলছে সেলফি তোলার প্রতিযোগিতাও। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, তরুনীরা খোঁপায় কাশফুল গেঁথে সেলফি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছে।

চারদিকে চা-বাগান ঘেরা অদ্ভুত এক নির্জন আর নজরকাঁড়া স্নিগ্ধ পরিবেশ যে কাউকে মুহুূর্তে মন ভরিয়ে দেবে এতে কোন সন্দেহ নেই। মনোমুগ্ধকর পরিবেশে অবস্হিত এই কাশবন আর এখানকার প্রকৃতি যে এতো বিচিত্র হতে পারে তা এখানে না আসলে বুঝাই যাবে না।

এখন শরৎকাল। আশ্বিন মাসের এই সময়ে দেশের আনাচে-কানাচে,  নদীর তীরে, বালুচরে আর গ্রামাঞ্চলে শরতের শুভ্র আকাশের নীচে দুলে ওঠা কাশবনে কাশফুল দেখতে কার না ভাল লাগে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের শুভ্রতা এমনটি শুধু শরৎ কালেই দেখা যায়। প্রকৃতি তখন যেন তার রুপ পাল্টে নতুন রঙ ধারন করে। এমনি সময়ে সব বয়সের মানুষের পদচারনায় মুখরিত থাকছে কাশবন।

এবিএন/আতাউর রহমান/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ