প্রিমিয়ার ব্যাংক : একুশ পেরিয়ে বাইশে...

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৬:৫২

যে কোনো দেশের অর্থনীতির মূল ব্লাড লাইন হচ্ছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বেসরকারি খাতের অন্যতম ব্যাংক দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডও এ দেশের অর্থনীতিতে একইভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। তৃতীয় প্রজন্মের শীর্ষ এই ব্যাংকটি শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নেই ভূমিকা রাখছে না; দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দারিদ্র্য নিরসন ও তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র ও হত দরিদ্রদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেও পালন করছে প্রশংসনীয় ভূমিকা।

এর পেছনে মূল কারণ, এই ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক এমপি ডা. এইচ. বি. এম. ইকবাল। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে প্রতিনিয়ত যে দর্শন চিন্তা আলোড়িত হয় তা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, একটি সুখী সমৃদ্ধ স্বনির্ভর ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর প্রতিটি বক্তৃতায় গরিব-দুঃখী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলেছেন, সুখী সমৃদ্ধ স্বনির্ভর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। সে আলোকেই তিনি রাষ্ট্রের মূল নীতিতে এসব সংযোজন করেছেন। তিনি জানান, এই আদর্শিক চিন্তা চেতনার ফসলই হচ্ছে প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড। এ ব্যাংকটি শুধু শিল্প-বাণিজ্যের উন্নয়নেই বিনিয়োগ করছে না, হতদরিদ্রদেরও বিনা সুদ/স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করছে যা বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক সুফল বয়ে আনছে।
তৃতীয় প্রজন্মের এ ব্যাংকটির শাখার সংখ্যা ১২০টি। বলতে গেলে এ ব্যাংকটি অন্যসব ব্যাংকগুলোর চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম। কারণ এ ব্যাংকটি শুধু মুনাফা অর্জনকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না, দারিদ্র্য বিমোচনেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও ভূমিকা।

যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার প্রধান শর্ত হচ্ছে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব। দূরদর্শী ও দক্ষ নেতৃত্ব ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানই এগুতে পারে না। সে দিক থেকে প্রিমিয়ার ব্যাংকে রয়েছে দক্ষ ও অভিজ্ঞ পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন দেশখ্যাত ব্যাংকার, অর্থনীতি বিশ্লেষক মুহাম্মদ আলী, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও’র দায়িত্বে রয়েছেন আলোকিত ব্যাংকার ব্যক্তিত্ব এম. রিয়াজুল করিম, এফসিএমএ। তাদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানব সম্পদের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের গ্রাহক সেবা ও প্রোডাক্টে বৈচিত্র্য আনায় অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে।

প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড দেশের প্রথাগত প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। আজ থেকে কয়েক বছর আগে এ ব্যাংকটি অন্য দশটি ব্যাংকের মতো প্রথাগত ব্যাংকিং পরিচালনা করতো। ব্যাংকটি এ ধারায় অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এইচ. বি. এম. ইকবালের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রিমিয়ার ব্যাংক এখন গণমানুষের কাছে পৌঁছেছে। বিশেষ করে কুটির, ক্ষুদ্র, মাঝারি, কৃষি ও নারী উদ্যোক্তাসহ ব্যাপক সংখ্যক প্রাহককে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনার জন্যে এ ব্যাংকটি কাজ করছে।

শুধু তাই নয়, গত তিন বছর ধরে প্রচলিত ধারার চেয়ে বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেলকে গুরুত্ব প্রদান করছে। ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল অ্যাপস চসড়হবু। এই অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাহকরা ভালো সার্ভিস পাচ্ছেন।
বিকল্প চ্যানেল হিসেবে এটিএম বুথ, এজেন্ট ব্যাংকিং, উপশাখা চালু করেছে। নাম্বার অব অ্যাকাউন্টস এর পরিমানও এখন বেশি বেশি হচ্ছে। আরএমজি খাতে ব্যাপক অবদান রাখছে। আমদানি-রপ্তানিতে এ ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি অন্যান্য অনেক ব্যাংকের চেয়েই ভালো।

দেশের গার্মেন্টস শিল্প খাতে প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ ব্যাংকে ২৬০টিরও অধিক রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের হিসাব রয়েছে। এ থেকে উপলব্ধি করা যায়, দেশের গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নে এ ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ ছাড়া শিল্প বাণিজ্যের অন্যান্য খাতেও এ ব্যাংকটি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে।

এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. এইচ. বি. এম. ইকবালের উপলব্ধি হচ্ছে, আজকের যে শিশু, সে-ই আগামী দিনের নাগরিক, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তার মানসিকতা। এ জন্যেই তিনি চালু করেছেন স্কুল ব্যাংকিং। প্রিমিয়ার ব্যাংক বাংলাদেশের স্কুল ব্যাংকিংয়ে পাইওনিয়র। এ পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৭৪৩ টি স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায়। তাদের ডিপোজিটের পরিমানও ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকার উপরে। এই ডিপোজিট তারা জমা করছে তাদের টিফিনের টাকা সেভ করে। এই ব্যাংকের উদ্যোগেই শিশু কিশোররা ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতি আস্থাবান হচ্ছে, নিজেদেরকে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। করোনা মহামারির কালেও এ ব্যাংকটি দেশের অর্থনেতিক কার্যক্রমে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।

সরকার করোনাভাইরাস সংক্রমনজনিত অর্থনৈতিক সংকট সামলাতে গার্মেন্টসহ রপ্তানি খাতের জন্যে প্রণোদনা হিসেবে ৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণের দায়িত্ব দিয়েছে ব্যাংকিং খাতকে। প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রায় ৪০ হাজার গার্মেন্টস শ্রমিকের অ্যাকাউন্ট খুলেছে এবং এপ্রিল-মে-জুন এই তিন মাসের বেতন উক্ত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিতরণ করেছে। এই কর্মীরা এখন ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরেছে এবং আধুনিক ব্যাংকিং করার সুযোগ পাচ্ছে।
এই ব্যাংকটি সরকারের নির্দেশনার আলোকে ১০ টাকার ব্যাংক হিসাবও খুলেছে এবং কৃষকরা এই হিসাবের মাধ্যমে সরকারের সহায়তা লাভ করছে। কৃষকদের ৪ হাজার অ্যাকাউন্টে এখন প্রায় দেড় কোটি টাকা ডিপোজিট রয়েছে।

প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড এসএমই খাতকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ব্যাংকের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী মনে করেন, আজকের সফল এসএমই ঋণ গ্রহীতারাই আগামী দিনের বৃহৎ কর্পোরেট গ্রাহক হিসেবে উঠে আসবে। সেই সাথে দেশের অর্থনীতিও বিস্তৃতি লাভ করবে, কর্মসংস্থানের উন্নয়ন ঘটবে এবং জাতীয় উৎপাদনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রিমিয়ার ব্যাংক শুরু থেকেই ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আত্মস্থ করে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে সেই ধারা আরো বেগবান হয়েছে, ফলে গ্রাহক সেবার মানও বেড়েছে। চসড়হবু’র মাধ্যমে ঘরে বসেই গ্রাহকরা লেনদেনসহ নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারছেন। এটি দেশের ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকি এর সাথে সম্পৃক্ত করছে এবং উন্নত দেশের ব্যাংকিংয়ের সমমর্যাদায় প্রতিষ্ঠা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, আলোকিত ব্যাংকার ব্যক্তিত্ব এম. রিয়াজুল করিম, এফসিএমএ বলেন, “আমাদের পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ এইচ.বি.এম. ইকবালের সুদক্ষ নেতৃত্বে এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দূরদর্শিতায় আমরা আমাদের করনীয় ঠিক করে অগ্রসর হচ্ছি এবং এরই ধারাবাহিকতায় করোনায় ব্যতিক্রমি কর্মপরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। যখন যেখানে জনবল প্রয়োজন হচ্ছে সেখানে আমরা নিয়োগ দিচ্ছি; নিয়মমাফিক সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট প্রদান সহ সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রয়েছে। করোনা সৃষ্ট মন্দা কাটাতে এবং রাষ্ট্রীয় ঋণ প্রণোদনা সহ অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।”

বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকটি অত্যন্ত আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ধারাবাহিক আর্থিক ফলাফল, কর্পোরেট সুশাসন, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় যথাযথ পরিপালনের দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হয়েছে। এসব অর্জনের পেছনের মূল মানুষটি হলেন পরিচালনা পর্ষদের দক্ষ চেয়ারম্যান ডা. এইচ. বি. এম. ইকবাল। তিনি এ ব্যাংকটিকে অভিভাবকের মতো আগলিয়ে রাখেন। তিনি বলেন, আমরা ব্যাংকের উদ্যোক্তা, ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি সত্য কিন্তু আমরা এ ব্যাংকের মালিক নই; মালিক এর গ্রাহক যারা এখানে ডিপোজিট করেছে। তাদের সেই আস্থাকে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব আমাদের। তিনি প্রতিনিয়ত ব্যাংক নির্বাহীদের এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশকে স্বাধীন করে দিয়েছেন বলেই আমরা ব্যাংকের উদ্যোক্তা হতে পেরেছি, আপনারা ব্যাংকের এমডি, ডিএমডিসহ অফিসার হতে পারছেন। দেশ স্বাধীন না হলে কেরানী হয়ে থাকতে হতো। এতো উন্নয়ন, এতো ব্যাংক এতো শিল্প প্রতিষ্ঠান করা সম্ভব হতো না।

সুতরাং সকলকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। তাঁর দিক-নির্দেশনায় প্রিমিয়ার ব্যাংক গণমানুষের ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভে সক্ষম হচ্ছে। গ্রামের কৃষক-শ্রমিক এমনকি হতদরিদ্ররাও এই ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ পাচ্ছেন এবং ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে জীবন মানের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হচ্ছেন। সময়ের আধুনিক ব্যাংক প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠার একুশ পেরিয়ে বাইশ বছরে পদার্পণ করছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে সবাইকে শুভেচ্ছা...।
 

এবিএন/তারেক উদ্দিন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ