সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি দেবে ইউনিলিভার, নিউজিল্যান্ডে ট্রায়াল

  সিএনএন

০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৩:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

কর্মঘণ্টার ব্যাপারে শিথিলতা নিয়ে বহুদিন ধরেই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারীকালে এই পদক্ষেপ আরো গতি পেয়েছে। এই তালিকায় এবার যুক্ত হলো বহুজাতিক কনজিউমার পণ্য প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার। এই পরীক্ষার ফলাফল ‘প্রতিশ্রুতিশীল’ হলে ব্যাপকভিত্তিক প্রয়োগের উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছে তারা।

আজ মঙ্গলবার লিপটন চা, ডাভ সাবান এবং বেন অ্যান্ড জেরির আইসক্রিমের পরিবেশকরা জানিয়েছে তারা, নিউজিল্যান্ডের তাদের সমস্ত কর্মচারীদের জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবে। কর্মীরাই ঠিক করে নিতে পারবেন তারা প্রতি সপ্তাহে কোন চার দিন কাজ করতে চান।

চলতি মাসে এই পরীক্ষাটি শুরু হয়েছে, চলবে এক বছর। নিউজিল্যান্ডে কনজিউমার জায়ান্ট ইউনিলিভারের ৮১ জন স্টাফ রয়েছেন। এই পরীক্ষার আওতায় তারা দৈনিক চার ঘণ্টা করে কাজ করবেন। আর সমীক্ষাটি দেখভাল ও পর্যালোচনা করবে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি। কর্মঘণ্টা কমলেও তারা সম্পূর্ণ বেতনভাতাই পাবেন। 

ইউনিলিভার বলছে, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং সমীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে তারা পুরো প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ঢেলে সাজানোর কথা বিবেচনা করবে।

ইউনিলিভার নিউজিল্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিক ব্যাঙ্গস এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা আশা করি, এই সমীক্ষার ফলে ইউনিলিভারই প্রথম কোনো বহুজাতিক সংস্থা হিসাবে কাজের পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনবে যা কর্মী ও ব্যবসার জন্য সুস্পষ্ট ইতিবাচক হবে।

অবশ্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে কাজ করার বিষয়ে নিউজিল্যান্ডে ইউনিলিভারই প্রথম পরীক্ষা চালাচ্ছে এমন নয়। ২০১৮ সালে, স্থানীয় সংস্থা পার্পেচুয়াল গার্ডিয়ান, যারা মক্কেলদের অছিয়ত (উইল) এবং সম্পদ বণ্টন ও পরিচালনায় সহায়তা করে, এই ধারণার দুই মাসব্যাপী একটি ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষা চালায়। কোম্পানিটি বলেছে, এটি এতটা সফল হয়েছে যে পর্যায়ক্রমে এই পদ্ধতিকেই স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

ব্যাঙ্কস বলছেন, পার্পেচুয়াল গার্ডিয়ানের সেই পরীক্ষার ফলাফল দেখেই তারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। 

এমনকি ওই সময় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নও কর্মঘণ্টা কমানোর ধারণার সমর্থন করে বলেছেন, এটি করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে।

গত মে মাসে দেশীয় পর্যটনকে পুনরুজ্জীবিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করার সময় এমন মতামত ব্যক্ত করেন আরডার্ন।

নিউজিল্যান্ডের বাইরে বড় কোম্পানিগুলো এই ট্রেন্ডে যোগ দিতে শুরু করেছে গত বছর। গত আগস্টে জাপানে মাইক্রোসফ্ট প্রতি শুক্রবার অফিস বন্ধ রেখে এবং সমস্ত কর্মীকে প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত ছুটি দেয়ার মাধ্যমে সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা কমানোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিল। তাদের ফলাফলও বেশ আশাপ্রদ ছিল।

ওই সময় মাইক্রোসফট বলেছিল, কর্মঘণ্টা কমানোর ফলে উত্পাদনশীলতা বেড়েছে- আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ গড় বিক্রয় বেড়েছে। জাপানে এ নিয়ে আরো ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষা চালানো ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট।

এদিকে কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বহু কোম্পানি অফিসের বাইরে থেকে কর্মীদের কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। আজ জাপানি সংস্থা নমুরা হোল্ডিংস বলেছে, তারা একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে বিবেচনা করছে, তাদের কর্মীরা মাসিক কর্মঘণ্টার ৬০ শতাংশ অফিসের বাইরে থেকে কাজ করবেন।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ