রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে চলতে হবে নিজের টাকায় : অর্থমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৩৪

রাষ্ট্রীয় সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী রাষ্ট্রায়ত্ত এ চার ব্যাংকে আর রিফাইন্যান্সিং (পুনঃঅর্থায়ন) করা হবে না। বাজেটেও এসব ব্যাংকের জন্য বরাদ্দ থাকবে না। এসব ব্যাংককে নিজের টাকায় চলতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মন্ত্রী বলেন, এবার বাজেটে ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ আছে। তবে সামনে আর বরাদ্দ রাখা হবে না। জনগণকে সেবা দিয়ে আয় করেই ব্যাংকগুলোকে চলতে হবে। চার ব্যাংককে সাতদিনের কর্মপরিকল্পনা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাতদিন পর তারা ব্যাংকের কর্মপরিকল্পনা আমার কাছে নিয়ে আসবে। সরকার এগুলো দেখবে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। আমরা তাদের অর্থায়ন ছাড়া অন্য সহায়তা করবো।

ব্যাংকগুলো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চারটি ব্যাংকের এলাকা অনেক বড়, প্রায় ২৫ শতাংশ। চারটি ব্যাংককে লোকসান কমিয়ে এনে ১৫ শতাংশ লাভ করতে হবে। জনগণকে সেবা দিয়ে মুনাফা বাড়াতে হবে। অর্থনীতি মানুষের জন্য। সরকার এমন কিছু করবে না, যাতে জনগণের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। 

তিনি আরো বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার বিষয়ে শিগগরিই সার্কুলার জারি করা হবে।

দেশে খেলাপি ঋণ এখনই কমার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নন-পারফর্মিং লোন (খেলাপি ঋণ) আমাদের এখানে কমার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, নন-পারফর্মিং লোন কমানোর জন্য যে অ্যাক্সিট প্ল্যান দিয়েছিলাম, সেটা এখনও কার্যকর করতে পারি নাই।’

আজ রোববার (২৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও সিইও/ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে এক আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় এক সংবাদকর্মী প্রশ্ন করেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই বলেছিলেন, খেলাপি ঋল এক টাকাও বাড়বে না। এখন এর ব্যর্থতার দায় স্বীকার করবেন কি না?

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়বে না। খেলাপি ঋণ বাড়ছে -এটা আমি মানব না। যেদিন আমি বলেছিলাম খেলাপি ঋণ বাড়বে না, সেদিনই আমি বলেছিলাম একটা অ্যাক্সিট প্ল্যান রাখব। সেই অ্যাক্সিট প্ল্যান কার্যকর হলে বলবেন যে, বাড়ছে কি বাড়েনি।’

শুধু কি অ্যাক্সিট প্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়াই খেলাপি ঋণ না কমার কারণ? এমন প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অবশ্যই। ব্যবসায়ীরা তো এখন টাকাই দিচ্ছে না। এমন কি যারা দিত, তারাও এখন দিচ্ছে না। তারা এ সুযোগ নেবে, তারা তো ব্যবসায়ী।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাড়াতাড়ি এর সুরাহা করব। সুরাহা করলে আমাদের অবস্থা আপনারাই মূল্যায়ন করতে পারবেন। আপনারা খুশি হবেন। তখন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের চিত্রই বদলে যাবে।’

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ