মান্না ছিল আপাদমস্তক চলচ্চিত্রের মানুষ: মিশা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০১৮, ১৮:৫৮

ঢাকা, ১৬ মে, এবিনিউজ : বাংলা সিনেমায় নায়ক মান্না এক অসাধারণ ব্যক্তি। সুপারস্টার নায়ক মান্না আজ নেই। তবে তাঁর অবদান রয়ে গেছে চলচ্চিত্রে। শুধু কাজ নয়, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এবং এখানকার মানুষদের মন-প্রাণ উজার করে ভালোবাসতেন মান্না। তেমনিভাবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মানুষরাও তাকে ভালোবাসতেন। আজও তার স্মৃতি বুকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তারা।


বাংলা ছবির সুপারস্টার নায়ক মান্না ও দাপুটে খল-অভিনেতা মিশা সওদাগরের মধ্যে বন্ধুত্বের কথা ইন্ডাস্ট্রির কম বেশি সবারই জানা। মিশার সেই প্রিয় বন্ধুটি আজ পৃথিবীতে নেই। তবে আজও বন্ধুর নানা স্মৃতি হাতরে বেড়ান তিনি।


২০০৬ সালে পরিচালক এফআই মানিক জানালেন, ‘পিতা-মাতার আমানত’ নামে ছবি নির্মাণ করবেন। ছবির নায়ক মান্না। আরও থাকবেন মিশা সওদাগর। শুটিংয়ের তারিখ ও লোকেশন সবকিছু ঠিকঠাক। এমন সময় মিশা সওদাগর মান্নাকে জানালেন, ছবিটি তিনি করতে পারবেন না। কারণ তিনি হজ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


সেসময় একটি হাদিসে কী পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে হজ করা ফরজ এটা দেখার পর সিদ্ধান্তটি নেন মিশা। মান্নাকে তিনি জানান, তার পরিবর্তে অন্য কাউকে নিয়ে কাজটি করার জন্য। তবে মান্না সেটি করলেন না। ৩৫ দিন ছবিটির শুটিং পিছিয়ে দেন তিনি।


মিশা সওদাগর বলছিলেন, ‘মান্না তখন সুপারস্টার। তার শিডিউল পাওয়াটা ছিল দুষ্কর। এমন অবস্থায় কোনও ছবির শুটিং ৩৫ দিন পিছিয়ে দেয়াটা ছিল কঠিন সিদ্ধান্ত।’


তিনি আরও বলেন, ‘হজ থেকে যখন দেশে ফিরলাম মান্নাই প্রথম হাজি বলে সম্বোধন করে আমাকে। অসম্ভব ভালোবাসা ছিল আমাদের। মান্না কোন ছবির কাজ করবে, কোন ছবি করবে না- দুজনে বসে বসে সিদ্ধান্ত নিতাম। মান্না ছিল আপাদমস্তক চলচ্চিত্রের মানুষ। ফিল্মই ছিল ধ্যান-জ্ঞান। তার মতো করে চলচ্চিত্রকে কেউই ভালোবাসতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।’


২০০৬ সালে এই নায়ক-ভিলেন জুটির ‘পিতা-মাতার আমানত’ ছবিটি তুমুল ব্যবসা সফল হয়। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৪৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দর্শকনন্দিত নায়ক মান্না। তার প্রতি বন্ধু মিশার এই শোকগাথা শুনে বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় একটি গানের কলিই বারবার মনে পড়ছে-
‘একটাই কথা আছে বাংলাতে
মুখ আর বুক বলে একসাথে
সে হলো..
বন্ধু, বন্ধু আমার’... ।


এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ