গরীবের নায়ক জসিমের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:২৬


ঢাকাই চলচ্চিত্রে নন্দিত কিংবদন্তি নায়ক জসিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৮ অক্টোবর। ১৯৯৮ সালের আজকের এই দিনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি মারা যান।


আজ এই অভিনেতার ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী। জসিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে কোরআন খতম ও দোয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে জানান সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

এ প্রসঙ্গে জায়েদ খান বলেন, ‘ঢাকাই চলচ্চিত্রে নায়ক জসিমের অনেক অবদান রয়েছে। তিনি অনেক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম বাংলা সিনেমায় অ্যাকশন নিয়ে আসেন। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য ছিলেন না জসিম, তারপরও আজকের এই দিনে আমরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

জসিম ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার কেরানীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। লেখাপড়া করেন বিএ পর্যন্ত। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে একজন সৈনিক হিসেবে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। ১৯৭৩ থেকে তার অভিনয় জীবন শুরু। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন।

একাধারে তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, ফাইট পরিচালক ও একজন মুক্তিযোদ্ধা। অনেকেই তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের অ্যাকশনের পথপ্রদর্শক হিসেবে মনে করেন। তিনি প্রখ্যাত অভিনেতা আজিমের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন। ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার।

‘দেবর’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখলেও দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ ছবির মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। ‘দোস্ত দুশমন’ হিন্দি ‘শোলে’ ছবির রিমেক। এখানে জসিম গব্বর সিংয়ের খলনায়ক চরিত্রটি রূপদান করে ব্যাপক আলোচিত হন। এর পর খলনায়ক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন একক রাজত্ব করেন ঢালিউডে। 

তারপর বেশ কয়েক বছর পর দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর পরিচালনায় ‘সবুজ সাথী’ চলচ্চিত্রে প্রথম নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। আশির দশকের প্রায় সকল জনপ্রিয় নায়িকার বিপরীতেই অভিনয় করেছেন এই অ্যাকশন অভিনেতা। তবে শাবানা-রোজিনার সঙ্গে তার জুটিই সবচেয়ে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তবে শাবানা-রোজিনা এর সঙ্গে তার জুটিই সবচেয়ে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাকে শোষিত-বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা যেত।

জসিম অভিনয় দিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন- ‘স্বামী কেন আসামি’, ‘লাল গোলাপ’, ‘দাগী’, ‘টাইগার’,‘হাবিলদার’, ‘ভালোবাসার ঘর’,‘রংবাজ’, ‘তুফান’, ‘জবাব’, ‘নাগ নাগিনী’, ‘বদলা’, ‘বারুদ’, ‘সুন্দরী’,‘কসাই’, ‘লালু মাস্তান’, ‘নবাবজাদা’, ‘অভিযান’, ‘কালিয়া’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘গরিবের ওস্তাদ’, ‘ভাইবোন’, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘পরিবার’, ‘রাজা বাবু’, ‘বুকের ধন’, প্রভৃতি সুপারহিট সিনেমা দিয়ে। সবমিলিয়ে প্রায় দুই’শ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ