স্বপ্ন দেখতেও সাহস লাগে

প্রভাষ আমিন, ০৪ জুন, এবিনিউজ : ঢাকার জন্য আমার বড় আফসোস হয়। ঢাকা আসলে সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব এক দান। চারপাশে চারটি নদী, বুকজুড়ে শতাধিক খাল এমন অসাধারণ শহর বিশ্বের আর কোথায় আছে? কিন্তু সেই ঢাকার আজ প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। পানি সরার জায়গা নেই। থাকবে কিভাবে, ঢাকার খালগুলো যে আমরা অনেক আগেই দখল করে ফেলেছি অথবা বক্স কালভার্ট বানিয়ে ফেলেছি। নিম্নাঞ্চল, জলাধার ভরাট করে উঁচু উঁচু ভবন বানিয়েছি। পানি সরার জায়গা রাখিনি। ঢাকাকে বালতি বানিয়ে ফেলার দায় যতটা সরকারের, ততটাই আমাদের। আমাদের সবার সম্মিলিত পাপে ঈশ্বরের আশীর্বাদ ঢাকা আজ পরিণত হয়েছে অভিশাপে।

গত কয়েকবছর ধরে একটু টানা বৃষ্টি হলেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানি আটকে থাকে। জলজট আর যানজট মিলে নাকাল হয় নগরবাসী। আমি বারবার লিখেছি, জলাবদ্ধতার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। স্থায়ী সমাধান শুধু কঠিন নয়, প্রায় অসম্ভব। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হলো ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার, বক্স কালভার্টগুলো ভেঙে ফেলা। এটা বলা যতটা সহজ, করা ততটাই অসম্ভব।

আমি অনেকবার খাল উদ্ধারের কথা লিখেছি বটে, কিন্তু স্বপ্ন দেখিনি। কারণ স্বপ্ন দেখতেও সাহস লাগে। আমার অত সাহস নেই। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার সেই সাহস উস্কে দিয়েছেন। ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

নদী ড্রেজিং নিয়ে কথা বলতে বলতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা থেকে শুরু করে সব নদীকে ড্রেজিং করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খাল কাটার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার পান্থপথ কিন্তু একটা খাল। আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে বক্স-কালভার্ট সব ভেঙে ফেলে দেব। প্রয়োজনে আবার খাল খনন করব আর খালের ওপর দিয়ে রাস্তা বানিয়ে নেব। শান্তিনগর খাল, সেগুনবাগিচা খাল থেকে শুরু করে যত খাল আছে, এই সব খুলে দেব। খালে পানি যাবে, নৌকা যাবে আর তার ওপর দিয়ে রাস্তা হবে। ‘আহা প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে আমি স্বপ্নাতুর হয়ে গেছি।

এমন একটা স্বপ্ন আমি অনেকদিন ধরেই দেখছি। নিচে নৌকা ওপরে গাড়ি- আহা ভাবতেই ভালো লাগছে। জলাবদ্ধতা থাকবে না। কমে যাবে যানজটও। এক হাতিরঝিল আমাদের ঢাকার রূপ কতটা বদলে দিয়েছে। আর সবগুলো থাল পুনরুদ্ধার করে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে কী অসাধারণ গঠ ঘটবে ভাবা যায়। ঢাকা তখন সত্যি সত্যি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর শহরগুলোর একটি হবে। ভাবনাটা আকাসকুসুম মনে হচ্ছে। আমার কাছেও মনে হতো। কিন্তু শেখ হাসিনা বলেছেন বলে তেমন মনে হচ্ছে না। শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই অনেক অসম্ভব সম্ভব করে দেখিয়েছেন।

নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করার কথা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ বিশ্বাস করেননি, এমনকি অর্থমন্ত্রীও না। কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ ফুট এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে ১০০ ফুট খাল খননও আমার কাছে প্রায় অসম্ভব মনে হয়েছিল। এখন সেটা বাস্তব। পার্বত্য শান্তিচুক্তি, স্থলসীমান্ত চুক্তি, সমুদ্রসীমা জয়, নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন, সাবমেরিন কেনা, স্যাটেলাইট স্থাপন- এমন অনেক অসম্ভবই সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার কারণে। তাই ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধারকরে নিচে নৌকা ওপরে গাড়ি চলার রাস্তা এই স্বপ্নও আমি দেখা শুরু করলাম। শেখ হাসিনার কাছে অসম্ভব বলে কোনো বিষয় নেই।

সংগৃহিত

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ