এরশাদ : বিচিত্রগামী তাঁর ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতি

  আহমদ রফিক

১৮ জুলাই ২০১৯, ০৯:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নানা অভিধায় ভূষিত এক বিচিত্র চরিত্রের ব্যক্তিত্ব এরশাদের প্রধান পরিচয় তিনি শুরুতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সদস্য। পরে সেই সামরিক পদের শক্তিতে, চাণক্যসুলভ বুদ্ধিতে ব্যক্তিত্বের বিচিত্র প্রকাশ ঘটিয়ে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক শাসক, পরবর্তী পর্যায়ে রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রপ্রধান তথা প্রেসিডেন্ট। দেশ শাসন করেছেন শক্ত হাতে কঠোর নির্মমতায়। সেখানে তিনি একদিকে ঠাণ্ডা মাথার খুনি, কখনো রাজনৈতিক দাবার চালে অসাধারণ খেলোয়াড়, আবার ওই একই মানুষ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রোমান্টিক কবি, কাব্য প্রতিষ্ঠানের সংগঠক, এমনকি রবীন্দ্রানুরাগী। জাতীয় পর্যায়ে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের স্থায়ী ব্যবস্থাপক স্বৈরশাসক নামে পরিচিত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা বা প্রধানমন্ত্রী শেষোক্ত কাজটি করেননি।

বাংলা সাহিত্যের প্রতিভাবান ছড়াকার ও ‘ননসেন্স রাইমের’ প্রবর্তক সুকুমার রায়ের ‘ব্যাকরণ মানি না’ অনুসরণেই কি না জানি না, বাংলাদেশের মননশীল শিক্ষিত অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষকেও দেখেছি স্বৈরাচারী এরশাদের গায়ে ‘স্বৈরাচার’ শব্দটির ব্যাকরণবহির্ভূত তকমা লাগিয়ে দিতে। খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল শব্দটি ব্যাপক ব্যবহারে। এমনকি এখনো, তাঁর মৃত্যুর পরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ-শিরোনাম : ‘স্বৈরাচার থেকে রাজনীতিক’। আশ্চর্য আমাদের সাহিত্যবোধ!

ভাষা আন্দোলন ও ‘মহান একুশে’ নিয়ে গর্ব ও অহংকারের পরও বাংলা ভাষার ব্যবহারে ভুল বানান ও ভুল শব্দের প্রয়োগে আমাদের চমকপ্রদ দক্ষতা। যাই হোক স্বৈরশাসনের উদাহরণ, বিশেষ করে পাথুরে নির্মমতার প্রকাশ তো জেনারেল জিয়া, প্রেসিডেন্ট জিয়া কম রাখেননি। তাঁর বিরোধিতার কারণে বা নিছক সন্দেহে কত মুক্তিযোদ্ধা বাঙালি সেনা কর্মকর্তার প্রাণ নিয়েছেন সংগোপনে রাতের অন্ধকারে প্রেসিডেন্ট জিয়া, সে কথা কে বলে? শুধু জানেন ওই সব শহীদ সামরিক কর্মকর্তার পরিবার, তাঁদের শোক ও যন্ত্রণা চাপা রেখে। সেসবেরও বিচার হওয়া উচিত, ক্ষেত্রবিশেষে কোর্ট মার্শালের পুনর্বিচার।

দুই.

কঠিন পাথুরে মুখ, অভিব্যক্তিহীন মুখ জিয়াউর রহমানের তুলনায় এরশাদের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবিটা অনেক বর্ণবহুল, বিচিত্র, তেমনি বর্ণাঢ্য একান্ত ব্যক্তিক জীবন প্রেম ও পরিণয়ের বহু আলোচিত নৈতিকতা-অনৈতিকতায় মেরি বদরুদ্দিন, জিনাত, বিদিশা এমনি আরো কত নাম আছে কী নেই কে বলতে পারে? অদ্ভুত ঘটনা হলো, এসব নিয়ে একসময় ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও এরশাদ সাহেবের কোনো বিকার প্রকাশ পায়নি। তিনি নির্বিকার। ঘটনাগুলো একসময় প্রবল বিস্ফোরণ ঘটালেও একপর্যায়ে চাপা পড়ে গেছে। তাঁর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি নানা চমক সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতাচ্যুত এরশাদ রাজনৈতিক অঙ্গনে কত ঘটনার যে নায়ক, সাধারণত এমনটা দেখা যায় না।

আমার বিশ্বাস, নায়ক হওয়ার একটি প্রগাঢ় প্রবণতা এরশাদের চেতনায় বরাবর প্রকট শক্তি বা অবসেশন হিসেবে কাজ করেছে—যেমন রাজনৈতিক-শাসনগত ক্ষেত্রে তেমনি ব্যক্তিক জীবনে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যেটার প্রকাশ একনায়কি চরিত্রে। সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কোনো প্রক্রিয়াই তাঁর কাছে অন্যায় বা অনৈতিক বিবেচিত হয়নি।

তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের ইতিহাস, পরবর্তী ঘটনাবলি তেমন সত্যই প্রমাণ করে। সে ইতিহাস রাজনীতির যুক্তি ও ন্যায়নীতি মেনে চলেনি, যেমন চলেনি খন্দকার মোশতাক বা জিয়াউর রহমানের ক্ষেত্রে। এ প্রসঙ্গে একটি কথা আমি বরাবর বলি, যা যুক্তিহীন নয়। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতি পাকিস্তানি রাজনীতির অপসাংস্কৃতিক প্রভাব থেকে নিজেকে পুরোপরি মুক্ত রাখতে পারেনি। খন্দকার, জিয়া, এরশাদ প্রমুখ তার প্রমাণ। উদাহরণ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সেক্যুলার গণতন্ত্রকে তারা নির্বাসনে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরশাদের ক্ষমতায় আসীন হওয়ার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিটি মোটেই গণতান্ত্রিক ও ন্যায়নীতিসম্মত ছিল না। তাঁর প্রাক ক্ষমতাগ্রহণ পর্বের চাণক্যবৃত্তির ভূমিকাও স্বচ্ছ, সুস্থ ও যুক্তিসংগত ছিল না। বিষয়টি নিয়ে অনেক প্রশ্ন, যা এক দীর্ঘ রহস্যময় ইতিহাস, যা উদ্ঘাটিত হয়নি, বোধ হয় কখনো হবে না। কারণ শাসনকর্তারা তা চাননি। যেমন—জিয়া হত্যা, মঞ্জুর হত্যা রহস্য। অবাক হই ভেবে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাঁর স্বামীর হত্যারহস্যের বিচার দূরে থাক, কোনো তদন্তই শুরু করাননি। এরশাদের প্রতি তাঁর কঠোর আচরণে বোঝা যায়, হয়তো বা এরশাদকে তিনি দায়ী মনে করতেন। তাহলে ডিজিএফআইকে দিয়ে তদন্ত করাননি কেন? এটাও এক রহস্য। এসব দিক থেকে বাংলাদেশ পাকিস্তানি ধারার অনুসারী। তদন্ত হলে কি অবাঞ্ছিত কিছু বেরিয়ে আসত?

তিন.

আমাদের জাতীয় জীবনে, রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক কিছুতেই গোড়ায় গলদ। স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক বাহিনী গঠনেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সামরিক বাহিনী গঠন করাই তো স্বাভাবিক ছিল, পাকিস্তান থেকে আগতদের যথারীতি প্রাপ্য সহযোগে অবসরে পাঠিয়ে। তাতে বাহিনী গঠন ধীরগতিতে বিলম্বিত হলে ক্ষতি ছিল কী। বাংলাদেশের তো আক্রান্ত হওয়ার ভয় ছিল না। কিন্তু তা হয়নি। তাই দুই পক্ষে দ্বন্দ্ব অন্তর্নিহিত হলেও অনিবার্য হয়ে ওঠে। ভাবা উচিত ছিল যে পাকিস্তানি সামরিক সংস্কৃতি (অপসংস্কৃতি) থেকে তখনো আমরা পুরোপুরি মুক্ত নই। তাই মুক্ত থাকতে পারিনি ষড়যন্ত্র জাল থেকে। এটাও বাংলাদেশের ভবিতব্য। না হলে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এখানে সামরিক অভ্যুত্থান ও শাসন শুরু হবে কেন? সেই সঙ্গে সেক্টর কমান্ডারদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এসব ঘটনার সুযোগ নেন এরশাদ, সদ্ব্যবহারও করেন ভালোভাবে।

বিরাজমান সামরিক-রাজনৈতিক নৈরাজ্যের সুযোগ নিয়ে সামরিক শাসকদের ঐতিহ্যবাহী ধারায় জেনারেল এরশাদও বলেন, জনগণকে নৈরাজ্য থেকে মুক্ত করতে তাদের ইচ্ছা পূরণে সামরিক শাসন জারি করতে হয়েছে (১৯৮২)—জিয়া হত্যা, মঞ্জুর হত্যার প্রেক্ষাপটে ঘোষণা সেনাপ্রধান এরশাদের। তিনি হন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। অবশ্য স্বঘোষিত শাসক, একনায়ক। ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি (বিচারপতি) আবদুস সাত্তারকে বিএনপির তৎকালীন নড়বড়ে শাসনের অবসান ঘটিয়ে।

তখনো তিনি নেপথ্য শাসক, নেপথ্য নায়ক। এরপর রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে সরিয়ে দিয়ে এরশাদ রাষ্ট্রপতির আসনে বসেন। শুরু হয় তাঁর প্রকাশ্য শাসন (১৯৮৩)। এরশাদের শাসনকাল নিরুপদ্রব ছিল না। ছাত্র আন্দোলন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি, এমনকি জামায়াতের আন্দোলন তাঁর শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে চেষ্টা করেছে। সামরিক শাসক এরশাদ, প্রেসিডেন্ট এরশাদ সেসব আন্দোলন কঠিন হাতে দমন করেছেন। তাঁর হাত রঞ্জিত হয়েছে ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের রক্তে।

শুরু ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই পর্ব থেকে পর্বান্তরে। তাঁর শাসনামলে পুলিশ মিছিলে ট্রাক তুলে দিয়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে দ্বিধা করেনি। ফলে কয়েকজন প্রতিবাদী কর্মী শহীদ (১৯৮৪)। এ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি ও ঘোষণা ছিল গণতন্ত্র উদ্ধারের। এক কলামিস্টের লেখায় দেখছি প্রশ্ন : এখন কি গণতন্ত্র ব্যাবহারিক অর্থে মুক্তি পেয়েছে?

রাজনৈতিক দল মাত্রেই চায় শাসনক্ষমতা। স্বভাবত তারা পৃথকভাবে বা জোটবদ্ধ হয়েছে এরশাদ শাসনের পতন ঘটাতে। এরশাদের চেষ্টা যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখা। সেই সঙ্গে তাঁর আমলে শাসনব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ (উপজেলা ব্যবস্থা) এবং তা তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়া, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও মহাসড়কের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ইত্যাদি ইতিবাচকতা। তবে যে কথাটি কয়েকটি লেখার কোথাও উল্লিখিত নয়, তা হলো তাঁর হাতে জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন যা জনবান্ধব হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছে। পরবর্তীকালে এ নীতি অনুসরণ করেছে অনেক দেশ।

ব্যক্তি এরশাদ বুদ্ধিমান। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্রের দাবি মেটাতে নিজের নেতৃত্বে রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি গঠন করেন (১৯৮৬) এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওই পার্টির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। সেই সঙ্গে সংসদীয় নির্বাচনেও যথারীতি তাঁর দল জয়ী। আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নেয়। এবার হতাশ বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। চলে লাগাতার আন্দোলন। ১৯৮৭ সালের নভেম্বরে স্মরণীয় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন : ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক/গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন, ক্ষেতমজুর নেতা টিটো প্রমুখের আত্মদান। এরপর ১৯৯০ সালের নভেম্বরে আন্দোলনের পেশাজীবী ডাক্তার মিলনের মৃত্যু অজ্ঞাত আততায়ীর গুলিতে। এবং এরশাদ শাসনের ইতি।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে কারো মতে বিএনপির অবিশ্বাস্য বিজয়। এরশাদ দুর্নীতি মামলায় কারাগারে। খালেদা জিয়ার ইচ্ছাপূরণ। কারাগারে যখন জন্ডিসে আক্রান্ত এরশাদের রক্তে বিলুরুবিন ভয়াবহ মাত্রায় ওঠে তখনো তাঁকে জেলের বাইরে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়নি। বলতে হয়, সামরিক সদস্য বলেই বোধ হয় সে যাত্রা বেঁচে যান এরশাদ। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এরশাদ জেলে আটক থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পাঁচটি আসনে জয়ী হন, বিস্ময়কর ঘটনা।

একনায়কি শাসকের পতনের পর তাঁকে পরবর্তী সময় রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা যায় না। ব্যতিক্রম এরশাদ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে সক্রিয়, কখনো এককভাবে, কখনো জোটবদ্ধ হয়ে। অনেক দুর্নীতির মামলা ঘাড়ে থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বাধীনভাবে হাত-পা খেলাতে পারেননি এরশাদ।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে, এমনকি সমাজেও ‘স্বৈরাচার’ (স্বৈরাচারী শাসক) রূপে পরিচিত। আমার এক একান্তজনের নিভৃত প্রশ্ন : ‘ক্ষমতা হাতে পেলে এ দেশে কোন গণতন্ত্রী স্বৈরতন্ত্রী না হয়?’ এ মতামত কি সর্বাংশে উড়িয়ে দেওয়া যায়?

নির্মোহ, নিরপেক্ষ বিচারে এরশাদ ভালোমন্দে মেশা এক স্ববিরোধী চরিত্র ইতি ও নেতির সমন্বয়ে। নেপথ্যে ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষা সব কিছুকে ছাড়িয়ে যায়। আদর্শিক বিচারে ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যবাদী, ধর্মকে যিনি ক্ষমতা রক্ষার প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। দেশের প্রথম সেক্যুলার সংবিধান খণ্ডিত করে তাতে ধর্মবাদী চরিত্র আরোপ করেন জিয়া, তাতে একধাপ এগিয়ে এরশাদ সংযুক্ত করেন ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’। আমার ধারণা, জনচিত্ত জয়ের উদ্দেশ্যে কিন্তু এভাবে কি ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা যায়?

দলীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে এরশাদের একটি নেতিবাচক দিক ক্রমাগত সিদ্ধান্ত বা মত পরিবর্তন। অস্থির চিত্ততায় এক ডাল থেকে আরেক ডালে। সেই সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে উদ্ভট আচরণ। যেসব কারণে তাঁর জাতীয় পার্টি শক্ত ভিক্তিতে দাঁড়াতে পারেনি।

তাঁর অবর্তমানে জাতীয় পার্টি কতটা বিভাজনের সম্মুখীন হবে তা অদূর ভবিষ্যৎই বলে দেবে। জাতীয় পার্টি এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল অনেকটা বিএনপির মতো, তবে বিএনপির তৃণমূল বিস্তার অধিকতর। মূল নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে দুর্নীতিমুক্ত সুস্থ বিরোধী দল গড়ে ওঠেনি ক্ষমতাসীন দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশি রাজনীতির।

শেষ কথা, অপ্রিয় শোনালেও সত্য যে ইতি ও নেতিতে রাজনীতিক এরশাদ, নেতির অংশটি যদিও বেশি। বঙ্গবন্ধুর অনুকরণে তিনি জনরাজনীতির চেষ্টায় ‘পল্লীবন্ধু’ হতে চেয়েছিলেন, সফল হননি। কিন্তু জনস্তরে কিছু প্রভাব তৈরি করতে পেরেছিলেন সীমাবদ্ধ পরিসরে। তারাই তাঁকে নিঃস্বার্থভাবে মনে রাখবে। জি এম কাদের কি পারবেন তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করতে কিংবা তাঁর প্রথম স্ত্রী? এর ওপর নির্ভর করছে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ। তাঁদের দুয়ের মিলে নির্ভরশীল সে ভবিষ্যৎ।

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী

এই বিভাগের আরো সংবাদ