রাজনীতি জীবনধারণের পেশা হতে পারে না

  খায়রুল হাসান জুয়েল

২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পাঠ এবং ছাত্র রাজনীতির পাঠ শেষ করে রাজনীতির পাশাপাশি জীবন জীবিকার তাগিদে এদ্বার ওদ্বার ঘুরে শতভাগ নিয়ম নীতি মেনে ছোট ছোট কাজ দিয়ে আমি ব্যবসা শুরু করি। আমি মনে করি রাজনীতি জীবনধারনের কোন পেশা হতে পারেনা-এজন্য আমার মত মানুষের সংসার এবং জীবিকা নির্বাহে কাজের বিকল্প কিছু নেই।আর রাজনীতির কোন অভিধানে লেখা নেই যে নিয়ম মেনে সৎ ভাবে ব্যবসা করা যাবেনা। যদি থাকতো তাহলেও হয়তো কিছু করার ছিলনা, কারন হাত পেতে লিল্লায় তো জীবন ধারণ করা সম্ভব হবেনা তাছাড়া যখন ছাত্ররাজনীতি ছেড়েছি তখন সরকারী চাকুরীর বয়সও ছিলনা তাই ব্যবসাটাই বাধ্যতামূলক ছিল।

সারা জীবন একটা আদর্শ এবং সততা নিয়ে চলার চেষ্টা করেছি; এখনো যখন কর্মক্ষেত্রে যাই তখন নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের পোশাক খুলে ঢুকি। দরকার হলে পিয়ন-দাড়োয়ান দেরও স্যার বলতে কুণ্ঠাবোধ করিনা, অফিসার ইন্জিনিয়ার তো আছেই; এসব নিয়ে হেজিটেশন করলে তো আর কাজ করা যাবেনা। এভাবে ব্যবসা করি প্রায় এক দশক যাবত, এই সময়টা অনেক লম্বা।

ছাত্র রাজনীতি ছাড়ার পরে জীবনটা অনেক কঠিন, সেই বাস্তবতায় পা দিয়ে কঠোর ভাবে যা বুঝায় সেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করি। সারাদিনে ৪ ঘন্টা বিশ্রামের বাইরে কাজ ব্যাতিত একটি মিনিটও অযথা ব্যয় করিনা; যারা আমাকে কাছে থেকে দেখেন তার অবাক হয়ে যায় এতো পরিশ্রম একটা মানুষ কিভাবে করে! সংসারে স্ত্রী-সন্তান, স্বজনদেরও একই অভিযোগ; কাউকেই তার প্রাপ্য সময়টুকু দেইনা। আমি ভাবি পরিশ্রম তো সারা জীবন করা যাবেন; সুস্থতা আল্লাহর নিয়ামত যতদিন এই নিয়ামতের মধ্যে থেকে পরিশ্রম করা যায়। কারন আমি জানি আল্লাহ ছাড়া আমাদের ভাগ্য উন্নয়নে আর কেউ সহায়তা করবেনা তাই আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত এবং মা- বাবা’র দোয়া সাথে ছিল বলেই সৎ ভাবে কাঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি দিবানিশি।

আর দশজন সাধারন ব্যবসায়ী যেই নিয়মে ব্যবসা করে আমিও সেই নিয়মেই করি, কারন রাজনৈতিক মুল্যায়নে আমাদের দেশে কেউ কাজ দেয়না। আমাদের লাইসেন্সের সক্ষমতাও তেমন হয়ে ওঠেনি, ব্যাংক গুলো টাকা ওয়ালা এবং ঋণ খেলাপিদের আরো টাকা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে; তাছাড়া পিপিআর এর কর্তারাও বড় লাইসেন্সধারী মানুষদের আরো বড় হওয়ার জন্য নীতিমালা তৈরী করে রেখেছে। এজন্য এদেশের ৯০ শতাংশ ব্যবসা এখনও বিএনপি জামায়াতের সক্ষম লাইসেন্সধারীরাই করে যাচ্ছে...!
এরা মাঝে মধ্যে কিছু উচ্ছিষ্ট দিয়ে আওয়ামীলীগ এর উপর ভর করে, মূল ব্যবসা এখনো তাঁরাই করে, অফিসার এবং কর্তাব্যক্তিরাও তাদের সাথে কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, আমি শুরু থেকেই এসবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শিক্ষানবিস হিসেবে নিজের লাইসেন্সে ছোট ছোট কাজ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে আমার এক অভিভাবক-তুল্য বড় ভাই এর সহযোগীতা নিয়ে তার সাথে জয়েন্ট-ভেঞ্চারে করে কাজ করেছি; কারন ক্লাস ওয়ান থেকে তো একসাথে আর মেট্রিক পাশ করা যায়না।

গত পাঁচ বছরে সিটি কর্পোরেশনের কাজে শতভাগ ইজিপি সিষ্টেম চালু আছে; এই সিষ্টেমে কোথাও টেন্ডার জমা দিতে বাধা প্রাপ্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই; কারন সব কার্যক্রম অনলাইনেই করা যায় এজন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে বিশ্বের যেকোন স্থান থেকে যে কেউ কাজে অংশগ্রহন করতে পারে আর দরপত্র মুল্যায়নের শতভাগ এখতিয়ার ডিপার্টমেন্টের মুল্যায়ন কমিটির হাতেই থাকে এখানে টেন্ডারবাজীর কোন সুযোগ নেই ।

এমন ইজিপি তে উন্মুক্ত দরপত্র এখন প্রায় সব ডিপার্টমেন্টেই চালু আছে; টেন্ডারবাজী শব্দটি এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে অমূলক বিষয় হয়ে গেছে; একটি কাজে অংশগ্রহনের কিছু পূর্বশর্ত থাকে তা হলো এই কাজ করতে লাইসেন্সের বিগত পাঁচ বছরে একটি বড় টার্নওভার থাকতে হবে, ৬০- ৮০% সমমুল্যের কার্যাদেশ থাকতে হবে, অনলাইনে ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে, ব্যাংকের লিকুইড সার্টিফিকেট অর্থাৎ কাজটি ফেইল করলে ব্যাংক’কে এর দায় নিতে হবে মর্মে সার্টিফিকেট দিতে হবে এবং একাধিক দরদাতা থাকলে মেট্রিক্স পদ্ধতিতে তার মুল্যায়ন করে কাজের সিদ্ধান্ত নিতে হয়; দেয়া না দেয়ার সম্পূর্ন এখতিয়ার এখন সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে; কাজ সমাপ্তির পরে যথাযথ মুল্যায়ন শেষে ঠিকাদারী কাজে বিল হওয়ার আগেই সরকারী কোষাগারে ১৫% আয়কর এবং ভ্যাট কেটে ১০০ টাকার কাজের বিপরীতে ৮৫ টাকা বিল পরিশোধিত হয়। এখানে কেউ প্রকৃত ব্যবসায়ী না হলে নিজের নামে কাজ করার কোন সুযোগ নেই; কারো কথায় কেউ কাজ দেয়না।

যারা বড় ঠিকাদার তারাও কিন্তু একদিনে সক্ষমতা অর্জন করেনি; ধীরে ধীরে কাজের ক্ষেত্রে ক্লাস ওয়ান থেকে পর্যায়ক্রমে এমএ পাশ করে আজকের অবস্থানে এসেছে। রাজনীতি করা লোকেরা ব্যবসা করতে পারবেনা এমন নিতিমালা থাকলে আমার হয়তো নিজের ব্যাক্তি জীবন ধ্বংস করে ব্যবসা করতে যেতে হতোনা।

তখন হয়তো আমাদের সন্তানরা স্কুলে বা সমাজে অন্য মানুষের সন্তানদের সাথে সম্পর্ক করতে অথবা আলাপচারিতায় যদি কেউ জানতে চায় যে তোমার বাবা কি করে ?

সন্তান’রা হয়তো বলতো আমার বাবা রাজনীতি করে।

তোমাদের সংসার কেমনে চলে এমন প্রশ্নের জবাবে হয়তো বলতো বাবা ধান্দাবাজী-তদবির অথবা দালালী করে অথবা চিটারি করে সংসার চালায়!

হয়তো এভাবেই সমাজে কুকুর বিড়ালের মতো পরিচয় দিয়ে বড় হতে হতো আমাদের সন্তান’দের! এটাতে নিশ্চয়ই তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতো না; আমি জানিনা যেসকল রাজনীতিবিদের ট্রেড লাইসেন্সও নেই অথচ বিলাসবহুল জীবন যাপন করে; তাদের সন্তান’রা সমাজে বাবা’র এই পরিচয় দিয়ে কতটুকু স্বাচ্ছন্দবোধ করে..! জানলে হয়তো সব কিছু বিচার বিবেচনা করেই চলার পথ বেছে নিতাম এবং দিনরাত পরিশ্রম না করে অথর্ব পরশ্রীকাতর মানুষের গাল ভরা গল্পের মধ্যমনিতে পরিণত হতাম।

আমি মনে করি কোন ব্যবসায়ীকে টেন্ডারবাজ বানানোর চেষ্টা পরশ্রীকাতর মানুষের ঘোলাপানিতে মাছ স্বীকারের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুইনা, কাউকে নিয়ে সংবাদ প্রচারের কিছু নিয়ম নীতি থাকা উচিত; কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে প্রমান ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া একপেশে মনগড়া সংবাদ পরিবেশন কোন শিষ্টাচার হতে পারেনা।

রাজনীতি অঙ্গনে এবং ব্যবসায়ী অঙ্গনে আমাকে ঘিরে একটি মহল সবসময়ই ষড়যন্ত্র করে আসছে আর সম্মেলন বা প্রতিযোগিতামূলক কিছু সামনে থাকলে তো কথাই নেই...

এই সময়ে ঐসব পরশ্রীকাতর দাঁতে বিষ ওয়ালা পিচাষ‘দের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। অথচ আমার জীবনে আমি কারো ক্ষতির কারন হইনি; এমনকি যারা প্রকাশ্যে অনবরত আমার ক্ষতি করে আসছে তাদেরওনা; মনের কষ্ট গুলোর বিচারের ভার আমি আল্লাহর উপর দিয়ে রাখি। আল্লাহ নিশ্চই প্রতিটি পাপ পূন্যের হিসেব নেবেন।

পরশ্রীকাতরতা নয়; আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করি। মানুষ যখন অন্যের সমালোচনায় মক্ত থাকে আমি তখন শ্রমিকের ন্যায় দিন রাত নিজের কাজে ব্যস্ত থাকি; অন্যের টাকার হিসেব করে আমি নিজের ক্যালকুলেটর ভাঙ্গিনা। যেটা আমার টপিক্স না আমি সেটা নিয়ে সময়ও নষ্ট করিনা। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি এবং পরশ্রীকাতর এইসব দাঁতে বিষওয়ালা অপকর্মের হোতা’দেরও জানা উচিত:

“নেতৃত্ব, নেক হায়াত এবং নেক রিযিক আল্লাহর দান।”

“থাকিলে নসিবে আপনা আপনিই আসিবে”

কপালে থাকলে পয়সা খরচ করে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করিয়ে সেটা ঠেকানো যাবে না।

আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি আমি জীবনে নিজের কষ্টার্জিত টাকা ছাড়া কোন অসৎ পথে অর্জিত টাকা, টেন্ডারের ভাগের টাকা, তদবিরের টাকা কিছুই কোনদিন নেই না। ইজিমানি রোজগারে আমি বিশ্বাসি নই; শতভাগ নিয়ম মেনেই আমি ব্যবসা করি। কঠোর পরিশ্রমের এই অর্জন আমার পরম পাওয়া। কিছু মানুষ থাকে যাদের চরিত্রই ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করা। সাংবাদিক ভাইদের বলবো কোন কিছু লেখার আগে সত্যতা যাচাই করুন শতভাগ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিন। কেউ আমার সম্পর্কে কানে কানে বললো আর আপনি ঝাপিয়ে পড়লেন এই অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। প্রয়োজনে আমার কাছে জানতে চান, একতরফা অভিযোগে তো কোন নিউজ হতে পারে না।

আমি আগেই বলেছি কাউকে কাজ পাইয়ে দেয়ার সুযোগ আমার কেন, কারোরই নেই। এর এখতিয়ার শুধুই প্রকিউরমেন্ট এন্টিটি’র অর্থাৎ ক্রয় দাতার; অর্থাৎ ডিপার্টমেন্টের; ডিপার্টমেন্টের কর্তা তো আমার আত্মীয় লাগেনা যে আমার কথায় অন্যকে কাজ দেবে ! নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী বছরে যে কয়টা কাজে অংশগ্রহন করি তা নিজের জন্যেই করি; আমার নিজের কাজের বাইরে অন্য কারো কাজ নিয়ে মাথা ঘামানো আমার কাজ না। আমার সম্পর্কে হয়তো আপনি জানেন না তাই কান কথা শুনেই লিখে দিলেন।

আদর্শচ্যুত কাজের সুযোগ থাকলেও আমি এই সুযোগ গ্রহন করিনা। হলফ করে বলতে পারি জীবনে করবোও না। নিজের কষ্টার্জিত উপার্জনের বাইরে অন্যের টাকার লোভ আমার কোনদিনই নেই। তবুও আমাকে আপনার প্রমান দিতে হবে; আমি কাকে কাজ পাইয়ে দিতে সুপারিশ করেছি? যদি প্রমাণ করতে পারেন তাহলে ব্যবসা ছেড়ে আপনার গোলামী খাটবো আর যদি প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে এই সংবাদে আমাকে যতটুকু হেয়প্রতিপন্ন করেছেন একদিন আপনাকেও নিজের স্ত্রী- সন্তান এবং পরিবারের সামনে হেয় প্রতিপন্ন হতে হবে। আল্লাহর কাছে আমার এই আবেদন থাকলো।

বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে আমার দীর্ঘদিনের রাজনীতির সুনাম নষ্ট করতে যারা সক্রিয় তাদের বিচারও একদিন হবেই হবে।

আমি আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাসী, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মানুষ; আমি জানি আজকের বাংলাদেশে আমাদের কোন মুল্যায়ন হবে না কারন এখন ১৭ কোটি জনগনের মধ্যে ১৮ কোটি আওয়ামীলীগার। আমাদের যৌবন কেটেছে বিরোধী দল করে। ১৯৯৩ সালে মাদারীপুরে ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি; কলেজ পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ফজলুল হক মুসলিম হলের ক্রিড়া সম্পাদক ছিলাম পরবর্তীতে একই হলের সাধারন সম্পাদক। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম; তারপর আবার ষড়যন্ত্রকারীদের বিষ দাঁতের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদক পদে যেতে পারিনি। এরপর জননেত্রী শেখ হাসিনা আপার একজন কর্মী হিসেবে জায়গা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগে।

একটি পরিচ্ছন্ন সংগঠন হিসেব সুনামের সাথে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি; এই দীর্ঘ ২৬/২৭ বছরের রাজনৈতিক পথ চলায় সুনাম অক্ষুন্ন রাখার অসম যুদ্ধে কখনও জিতেছি কখনও শিখেছি হারিনি কভু...

অনেক ঘাত প্রতিঘাতে কেটেছে জীবন; ছাত্রদলের হামলা পুলিশের প্রহার কারাগারে থেকে বিগত ১/১১ তে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে দীর্ঘ এক বছর ডিটেনশনে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থেকে হারিয়েছে যৌবনের সুবর্ণ দিনগুলো। একবছরের কারা জীবন কেড়ে নিয়েছে আমার পিতা মাতার সুস্থ জীবন এবং অকালে ঝড়ে গেছে তাদের জীবন প্রদ্বীপ। তারপও দলের কাছে প্রত্যাশা নেই, জননেত্রী শেখ হাসিনা অনেক দিয়েছেন, স্নেহ মমতা সর্বপরি একটি পরিচয়,
নেত্রীর প্রতি অসিম কৃতজ্ঞতা। মহান আল্লাহ তাকে সুস্থতা এবং নেক হায়াত দান করুন।

১২ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়; এরমধ্যে কোনদিন একটা কাজ অথবা তদবির নিয়ে কোন মন্ত্রী-এমপি, আমলা-কামলা সাহেব’দের কাছে যাইনি। সারা জীবনে সচিবালয়ে গিয়েছি ৪/৫ দিন।পরিচয় দিয়ে কোথাও কাজ করার চিন্তাও করিনি,
কারন আমি জানি আজকের বাংলাদেশে একজন কনষ্টেবলও দলীয় পরিচয়ে মুল্যায়ন করেনা সেখানে কাজ পাওয়া তো দূরের কথা। আমি সব জেনেশুনে এই অপচেষ্টা কোন সময় করিনা। ১/১১ তে অসহ্য নির্যাতন সহ্য করেছি-অনেক বড় নেতারা যখন নেত্রীর প্রশ্নে আপোষ করেছে, নেত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তখন নিজের শরীরে অমানুষিক টর্চার সহ্য করেও নীতির সাথে বেইমানি করিনি। বঙ্গবন্ধু আর তার কন্যার সততাই আমার প্রধান অনুসরণ। হালাল রুজিতে নিজে আর পরিবারের মানুষ খেয়ে বেঁচে আছি। আমার ব্যাবসায় নামার প্রথম দিনের শপথ ছিলো- সেই সব কাজ আমি কখনোই করবো না, যে রোজগারের হিসাব ইহকালে ও পরকালে মহান আল্লাহর কাছে দিতে পারবো না। আজো সেই নীতি মেনে চলি- আল্লাহ যতোদিন হায়াত রেখেছেন, ততদিন আমার এই নীতির বদল হবে না।

লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ