খ্রিস্টাব্দ তথা ইংরেজি নববর্ষ

  মোঃ আব্দুল বাকী চৌধুরী নবাব

৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

এটা শাশ্বত সত্য যে, নতুনকে সবাই আলিঙ্গন করে ও কাছে টেনে নেয়। কারণ এর বৈচিত্র্যময়তায় মানুষকে বিভিন্নভাবে আনন্দ দিয়ে থাকে। এ বিশ্বে একই জিনিস চিরস্থায়ী নয়। এক সময়ে তা পুরাতন হয়ে বিদায় নেয়। আবার নতুনের আমেজে সেই জায়গা আরেকটি দখল করে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে কালের পরিক্রমায় সময়ও (Period) নতুন হিসেবে মানুষের মননশীলতায় অনন্য সুন্দর হিল্লোল বয়ে নিয়ে আসে। এখানে নব-সময় বলতে বিভিন্ন সালের প্রথম দিন হিসেবে নববর্ষকে বুঝানো হচ্ছে। কিন্তু এ সময়কে ঘিরে সৌর (Solar) এবং চান্দ্র (Lunar) ভিত্তিক সাল বিভিন্ন জাতি অনুসরণ করে থাকে, যেমন- বঙ্গাব্দ, হিজরি, খিস্টাব্দ ইত্যাদি। 

বর্তমানে এ বিশ্বে যত প্রচলিত সাল আছে, তার মধ্যে ইংরেজি সাল এ অবনীর ২০৭টি দেশে যতখানি রেখাপাত করে থাকে, অন্যগুলো ততটা নয়। ইংরেজি নববর্ষের এ বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার পেছনে হয়তো উপনিবেশবাদ বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, এ ইংরেজি ক্যালেন্ডার বছর (জানুয়ারি টু ডিসেম্বর) প্রবর্তিত হয়েছে যীশুখ্রিস্টের (হযরত ঈসা আঃ) জন্মকে ঘিরে। এ সাল শুরুর ব্যাপারে অনেক বির্তক আছে। যতদূর জানা যায়, এ খ্রিস্ট বছরের গণনা শুরু হয়, তার জন্মের ৫২৫ বছর পর। এ ক্ষেত্রে রোমান স¤্রাট জুলিয়াস সিজার ও পোপ অষ্টম গ্রেগরিসহ অনেকের অবদান প্রণিধানযোগ্য। 

অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে বর্তমানে এ ইংরেজি বছরে পর্যবসিত হয়েছে। মূলত ইংরেজি ১২ মাসের নাম পৌরাণিক রোম ও গ্রিসের ভিন্ন ভিন্ন দেব-দেবীর নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা হয়েছে। সাধারণত যীশুখ্রিস্টের জন্ম থেকে তৎপর সময় কে AD (Anno Domini) এবং জন্মের আগে BC (Before Christ) বলে অভিহিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে শূন্য (০) থেকে আরম্ভ করা হয়নি। তাই AD ও BC  ১ (এক) পর ১ (এক) ধরা হয়েছে। যদিও এ বিষয়টি সমালোচিত। যা হোক বর্তমান যে ইংরেজি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি, আসলে এটি সৌর বছরভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। এতে অধিবর্ষের ক্ষেত্রে ৪০০ দ্বারা বিভাজ্যর নিয়ম চালু করা হয়েছে। সাধারণত অধিকাংশ দেশে সময় গণনার ক্ষেত্রে ইংরেজী ক্যালেন্ডারের সুবিধা ছাড়াও অর্থবছর হিসেবে যুগপৎ ব্যবহার হয়ে আসছে বিধায় তারা দুই দিকের সুবিধা একসাথে পাচ্ছে। 

২০১৯ সালকে বিদায় দিয়ে ২০২০ ইংরেজি সাল বরণ ডালায় সাজানো হবে। এর জন্যে মূলত আমরা যদি স্মরণকালের নানা সালের নববর্ষের দিকে তাকাই, তা হলে দেখি প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ব্যাবিলনে নববর্ষ উদযাপিত হতো, আর তার স্থায়িত্ব ছিল একটানা ১১ দিন। যা হোক, খ্রিস্টান জগতে ইতোমধ্যে সাজসাজ রব রব পড়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে অন্য ধমালম্বীরা পিছিয়ে নেই, তারাও নতুন বছরের স্বাদ গ্রহণের অপেক্ষায় আছে। কেননা এই ইংরেজি নববর্ষের সময় গণনা সবারই ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবন থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে আষ্টেপিষ্টে বেঁধে আছে। এটা সর্বজন বিদিত যে ইংরেজি সালের প্রথম মাস জানুয়ারি। আর এর প্রথম দিন ১ জানুয়ারি অর্থাৎ ইংরেজি নববর্ষ। এদিকে জানুয়ারি সম্পর্কে রোমানদের উপখ্যানে একট সুন্দর কাহিনি প্রচলিত আছে। উল্লেখ্য যে, দুমুখ সংবলিত রোমান দেবতা জানুসের (Janus) এর নাম অনুসারে জানুয়ারির মাসের নামকরণ করা হয়েছে। এ দেবতা ছিলেন স্বর্গের পাহারাদার। তার একটি মুখ ছিল জরাজীর্ণ-পুরাতন এবং অপরটি ছিল নব সুন্দর ও লাবণ্যময়। সেই হিসেবে পুরাতন কে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ হিসেবে বিবেচিত। এই জানুয়ারি মাস তথা ১ জানুয়ারি বা ইরেজি নববর্ষের সূত্র ধরে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বিভিন্ন আঙ্গিকে আর্কষণমূলক নতুন বছরের ক্যালেন্ডার প্রনয়ন করে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে সম্যক ধারণার জন্য সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, ইংরেজি অধিকাংশ শব্দ এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে। সেই আবর্তে ল্যাতিন Calendarium শব্দের অপভ্রংশ হয়ে উদ্ভব হয়েছে Calendar নামক বহুল জনপ্রিয় ও ব্যবহৃত শব্দটি, যার আদি অর্থ হলো Account-Book। 

যা হোক, আসুন আমরা পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছর অর্থাৎ ২০২০ ইংরেজি বছর কোলে তুলে নেই, যাতে থাকবে না অসুন্দর, হিংসা-বিদ্বেষ। শুধু থাকবে একে অন্যের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং গঠনমূলক চিন্তাধারা ও মননশীলতা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ