বাহাত্তরে আওয়ামী লীগ প্রত্যাশায় করোনা চ্যালেঞ্জ

  মোঃ মশিউর রহমান

২৪ জুন ২০২০, ১০:০০ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের প্রাণ ৭২ বছরে পদার্পণ করছে ২৩ জুন, ২০২০। শতাব্দীর বৃহত্তম বটবৃক্ষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আগলে রেখেছে স্বাধীনতার লাল সবুজে মোড়ানো ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলে সতেরো কোটি মানুষকে। জাতির পিতার আদর্শের পতাকাবাহী সংঠনটি শুধু সর্ববৃহৎ, প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলই নয় এটা মানুষের আবেগ অনুভূতির পাওয়ার হাউজ। ইতিহাসের পরতে পরতে যার সুর সাধনা। গণতন্ত্র থেকে উন্নয়ন তারই সৃষ্টি। নির্যাতিত নিপীড়িত শোষিত মানুষের প্রত্যাশা পুরণে রোজ গার্ডেন থেকে জন্ম নেয়া ৭২ বছর বয়সী আওয়ামী লীগ আজও বাংলার মানুষের মুক্তির প্রতীক। দেশপ্রেমের দৃঢ় প্রত্যয় আর শত ঝড় ঝঞ্চা, ঘাত প্রতিঘাতে অদম্য প্রাণশক্তি নিয়ে জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা পূরনে সর্বত্র বলীয়ান থেকেছে দলটি। জন্মলগ্ন থেকে আজ অব্দি বাধা পেয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে, আবেগী হয়েছে অভিমানী হয়েছে কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা পূরণে থেমে থাকেনি এক মুহূর্তেও। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মূল হাতিয়ার হয়ে উঠে। আওয়ামী লীগ নামক পরীক্ষিত ও আদর্শ ধারণের  প্রতিষ্ঠানটি শানিত হয়ে হয়ে নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের প্রাণশক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সংগ্রামের মাধ্যমেই মুক্তি যার স্পন্দন তার জন্ম ১৫০ মোগলটুলীতে। 

অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার কথা বঙ্গবন্ধু এভাবে বলছেন, ১১৯ -১২১পৃ
'১৯৪৭ সালে যে মুসলিম লীগকে লোকে পাগলের মত সমর্থন করছিল, সেই মুসলিম লীগ প্রার্থীর পরাজয় বরণ করতে হল কি জন্য? কোটারি, কুশাসন, জুলুম, অত্যাচার এবং অর্থনৈতিক কোন সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ না করার ফলে। ইংরেজ আমলের সেই বাঁধাধরা নিয়মে দেশ শাসন চলল। স্বাধীন দেশ, জনগণ নতুন কিছু আশা করেছিল, ইংরেজ চলে গেলে তাদের অনেক উন্নতি হবে এবং শোষণ থাকবে না। আজ দেখছে ঠিক তার উল্টা। জনগণের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছিল।...।  পুরানা লীগ কর্মীরা মিলে এক কর্মী সম্মেলন ডাকল ঢাকায়—ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঠিক করার জন্য। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন সে সভা আহ্বান করা হয়েছিল।...।খবর দিয়েছিলাম, ‘আর মুসলিম লীগের পিছনে ঘুরে লাভ নাই, এ প্রতিষ্টান এখন গণবিচ্ছিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এরা আমাদের মুসলিম লীগে নিতে চাইলেও যাওয়া উচিত হবে না। কারণ এরা কোটারি করে ফেলেছে। একে আর জনগণের প্রতিষ্ঠান বলা চলে না। এদের কোনো কর্মপন্থাও নাই’। আমাকে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আমি ছাত্র প্রতিষ্ঠান করব, না রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠন হলে তাতে যোগদান করব? আমি উত্তর পাঠিয়েছিলাম, ছাত্র রাজনীতি আমি আর করব না, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানই করব। কারণ বিরোধী দল সৃষ্টি করতে না পারলে এ দেশে একনায়কত্ব চলবে।...।

যাহোক, কোথায়ও হল বা জায়গা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত হুমায়ূন সাহেবের রোজ গার্ডেন বাড়িতে সম্মেলনের কাজ শুরু হয়েছিল। শুধু কর্মীরা না, অনেক রাজনৈতিক নেতাও সেই সম্মেলনে যোগদান করেন।..।  সকলেই একমত হয়ে নতুন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠন করলেন; তার নাম দেওয়া হল, ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, জনাব শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং আমাকে করা হল জয়েন্ট সেক্রেটারি। খবরের কাগজে দেখলাম, আমার নামের পাশে লেখা আছে ‘নিরাপত্তা বন্দি’। আমি মনে করেছিলাম, পাকিস্তান হয়ে গেছে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দরকার নাই। একটা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হবে, যার একটা সুষ্ঠু ম্যানিফেস্টো থাকবে। ভাবলাম, সময় এখনও আসে নাই, তাই যারা বাইরে আছেন তারা চিন্তাভাবনা করেই করেছেন।' 

ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা এবং এর কর্মকান্ডের মাধ্যমে কিভাবে দুই সংগঠন গণ মানুষের আস্থার সংগঠনে পরিণত হয়। ভাষা থেকে দেশ দেওয়ার সমস্ত বিশুদ্ধ ইতিহাস অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং কারাগারের রোজনামচায় বঙ্গবন্ধু সুনিপনভাবে লিখেছেন।

৪৭ এ দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পাকিস্তানের সৃষ্টি। দূরদর্শী বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন এটা দিয়ে বাঙালিরা শুধু নির্যাতিত-নিষ্পেষিত হবে। বাঙালির পরাধীনতার শিকল ভাঙার গান তো আওয়ামী লীগই শুনেয়েছে মোড়ল বিশ্বকে। দেশভাগে বাঙালিদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বটে কিন্তু থেমেও থাকেনি আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনের ভূখণ্ড বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। রুঁখে দাঁড়ানোর হাতিয়ার তৈরির কাজে হাত দেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৪৮ সালে গঠন করেন ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ। মূলত ছাত্রলীগকে দিয়েই আওয়ামী লীগের ভেতরে প্রাণের সঞ্চার করত বঙ্গবন্ধু। আওয়ামী মুসলিম লীগ ছিল সাম্প্রদায়িক দল। সেই সাম্প্রদায়িকতার বেড়াজাল ভেঙ্গে অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগ দল গঠন করেই ডাক দেন স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন বাংলার।.....।  ত্যাগ, শ্রম, সততা, ভালবাসা, বিশ্বাস দিয়েই বঙ্গবন্ধু দ্রুত মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই ভাষা আন্দোলনে পূর্ব বাংলা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মায়ের ভাষা আদায় করে আনে। ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল বটে কিন্তু কাজের কাজ হতে দেয়নি পাকিস্তানীরা। তাই ৫৫ সালে ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। ৬২’র আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং ৬৪’র দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা নেতৃত্ব দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। ক্রমেই আওয়ামী লীগ হয়ে উঠেছিল বাংলার জনগণের অধিকার দায়ের প্রাণ শক্তি। বাঁচা-মরার মুক্তির সনদ ছয় দফা। যে ছয় দফা বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগকে দিয়ে প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে ছিলেন এবং মানুষের প্রত্যাশাকে জড়িয়ে স্বাধীনতার পথে হেঁটেছিলেন। সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ভেঙে ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান পাকিস্তানীদের কড়া বার্তা দিয়েছিল গো গো গো। ফলে জাতি ছিনিয়ে এনেছিল ৭০’র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে নিরঙ্কুশ বিজয়। 

বঙ্গবন্ধু তার একাগ্রতা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম, বিশ্বাস আর দূরদর্শিতায় হয়ে উঠেছিলেন বাঙালিদের বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস। বিশ্বাসে যা, ভাবনায়ও তাই, মুখেও যা বাস্তবতায়ও তাই। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর অলৌকিক শক্তি। ঐশ্বরিক শক্তি। এই বিশ্বাস দিয়েই বঙ্গবন্ধু ৪০ বছর বয়সে লক্ষ্য স্থির করেন স্বাধীন বাংলাদেশ। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আওয়ামী লীগের ভেতরে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন এবং সকল বাধা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন পুরোপুরি। বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বই আওয়ামী লীগ সকল সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম হয়েছিল।

বিশ্বে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যারা কিনা একটি জাতির ভাষার জন্য, পতাকার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের জন্যই আওয়ামী লীগ মানুষের আশা-ভরসা আর আস্থার আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল। যার ফলে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। তাই তো আওয়ামী লীগের কাছে বরাবরই মানুষের প্রত্যাশা অনেক অনেক বেশি।

বাহাত্তরে এসেও বাঙালির আবেগ এতোটুকু কমেনি আওয়ামী লীগের প্রতি। বরং প্রত্যাশা আরো বেড়েছে বহুগুনে। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি সমান্তরাল গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই আওয়ামী লীগের অদম্য ছুটে চলা। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের সংগ্রামে নিজেকে লিপ্ত করে বঙ্গবন্ধু যখন দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ঠিক এমনি এক অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি, দেশী বিদেশী অপশক্তি, মোশতাক, জেনারেল জিয়াউর রহমানের ষড়যন্ত্রে সংগঠিত হয় বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ট্রাজেডি ১৫ই আগষ্টের ঘৃণিত হত্যাকান্ড। হত্যা করে জাতীয় চার নেতাদের। ১৫ই আগস্টের রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্যত পরিণত হয় পাকিস্তানের নব্য সংস্করণে। প্রত্যাবর্তন ঘটে পাকিস্তানি আমলের চরম সাম্প্রদায়িক, প্রতিক্রিয়াশীল, সেনা আমলা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ধারা। পূনর্বাসিত হয় রাজাকার আলবদর যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম, নিজামীরা।

মেজর জিয়ার অবৈধ নিষেধাজ্ঞার জাল ভেঙ্গে 
৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা সমগ্র বাংলার মানুষের প্রত্যাশার কান্ডারি শেখ হাসিনা। তখন আওয়ামী লীগকে প্রায় ধ্বংসই করে ফেলেছিল খুনি মেজর জিয়া আর মোশতাকরা। আদর্শচ্যুত পথভ্রষ্ট বেইমান আওয়ামী লীগ নেতারা তো আছেই? নতুন প্রত্যাশা। নতুন জাগরণ। পুরনো পথে নতুন করে পথচলা। রিক্ত হাত। পুঁজি বলতে শুধু বাবার রেখে যাওয়া আওয়ামী লীগ আর জনগনের ভালবাসা। পিতা হারানো দিশেহারা জাতির মাথার উপর ছাতা হয়ে এলেন শেখ হাসিনা। দেশবাসীর মনে সঞ্চার হলো নতুন আশার। নতুন প্রত্যাশার।
ভোট ও ভাতের অধিকার। সেই সাথে বঞ্চিত জাতির স্বীয় অধিকার ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর শেখ হাসিনা। সংগ্রাম আর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দেশবাসীর ভালবাসা নিয়ে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তাদের প্রত্যাশার জবাব স্বরুপ বাংলার শাসন ব্যবস্থার স্বর্ণযুগ শুরু করলেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ বিরোধময় পার্বত্য শান্তিচুক্তি, বেকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রিলিফ-ভিজিএফসহ বিভিন্ন ভাতা চালু, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার ও স্বাক্ষরতার হার বাড়ানোসহ এক এক করে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাচ্ছিলেন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালের নির্বাচনে স্বাধীনতার দোসর জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট বাঁধা ক্যান্টনমেন্ট এর আস্তাকুঁড় থেকে জন্ম নেওয়া বিএনপি সরকার এসে সাময়িক ব্যহত করে প্রত্যাশা পূরণের এ অগ্রযাত্রা। জঙ্গিবাদ বিস্তার হতে থাকে দেশে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। লক্ষ্য  বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা করা, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা। ২০০৫ সালে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার মত বড় বড় জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা করেছিল স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে ধ্বংস করার সকল অপপ্রয়াস চালিয়েছে একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা। কিন্তু পারেনি। কারণ ষড়যন্ত্রকারীরা জানে না, আওয়ামী লীগের আদর্শই আওয়ামী লীগকে যুগ যুগ ধরে বেঁচে রাখবে। শত বাধা অতিক্রম করে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। ২০১৪, ২০১৮ সালেও জনগনের রায়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এটি সেই আওয়ামী লীগ, আদর্শ আর চেতনায় যাদের একাত্তর।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে জয় বাংলা, মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানে বঙ্গবন্ধু। সেটাই ধারণ করে আওয়ামী লীগ। যার বর্তমান অক্সিজেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা। সমস্ত গ্লানি কাটিয়ে, কলঙ্ক মুছিয়ে চার মেয়াদে দেশে  উন্নয়নের বিপ্লব। সংগ্রামের এই অধ্যায়ের নায়ক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। চার মেয়াদে হাজারো প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে, হচ্ছে। শক্ত হাতে জঙ্গি দমন, জাতির পিতা হত্যাকারীদের বিচার, স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার ও সাজা কার্যকর , অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা, উদ্যোক্তা তৈরি, বেকার সমস্যা দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুর মত স্বপ্নীল প্রকল্প, চাকরিজীবীদের দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ই-সেবা চালু, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা ও জীবন যাত্রার মান শতগুণ বাড়িয়ে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থার ঠিকানায় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। 

জাতির পিতার হাতে গড়া আওয়ামী লীগ আজও জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে। অনেক আওয়ামী লীগ নেতা বিভিন্ন সময় পথভ্রষ্ট হয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ কখনো পথভ্রষ্ট হয়নি। আওয়ামী লীগ বেঁচে থাকবে আওয়ামী লীগের আদর্শ দিয়েই। বাহাত্তরে বছরে এসেও বাঙালির আবেগ এতোটুকু কমেনি আওয়ামী লীগের প্রতি। বরং আওয়ামী লীগ সময় যত গড়িয়েছে ততই হয়েছে টেকসই আর  আদর্শ ততোই মজবুত হয়েছে।

মনে হয় মোশতাক পন্থী বেঈমানরাই আজ অনেক শক্তিশালী। তৃণমূলের কর্মীরা এই মোশতাক পন্থীদের হাতে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত নিষ্পেষিত হচ্ছে। তৃণমূলের এইসব নিবেদিত কর্মীদের প্রাণ বঙ্গবন্ধু কন্যা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাছে তথা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে ত্যাগী নিবেদিত কর্মীদের প্রত্যাশা হলো একটি বিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ। যে আওয়ামী লীগে থাকবে না অন্যদল থেকে আসা হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী আর ত্যাগী কর্মীদের রক্ত চোষা জোঁক। 

করোনার প্রাদুর্ভাবে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে দক্ষতার সহিত দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশ্বের বড় বড় মোড়ল রাষ্ট্রনেতারা যখন করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে তখন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ বিচক্ষণতার সহিত তা মোকাবেলা করছে। করোনা যেন উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে নতুন নতুন পরিকল্পনা, দুর্নীতি দমনে বিশুদ্ধ অভিযান শেখ হাসিনাকে গণ মানুষের ভালবাসার প্রতীকে পরিনত করেছে। ৭১ এর মতোই করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে সকল খাতকে একত্রিত করে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। পুরো জাতিকে সম্পৃক্ত করে যুদ্ধ জয়ের ডাক দিয়েছেন। নিজে দক্ষ নেতৃত্বে থেকে করোনা মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু কন্যা। দেশ যখনই কোন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে সাহস, মেধা এবং দক্ষতার সঙ্গে দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছেন শেখ হাসিনার দক্ষ আওয়ামী লীগ। করোনার এই প্রাদুর্ভাবে সম্ভব্য সকল রকমের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। মানুষের মনোবল চাঙ্গা রাখতে করোনার এই দুঃসময়ে করোনা যোদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে প্রতিমুহূর্তে নানারকম প্রণোদনা উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং সাহস যুগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা। ডাক্তার, নার্স, ব্যাংকার, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক পুলিশ প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের সকল সেবক বাহিনীদের এই যুদ্ধে সম্পৃক্ত করে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে থেকে। দিয়েছেন কৃষি বিপ্লবের ডাক। কোন মানুষ যাতে না খেয়ে থাকে সেজন্য সকল স্তরে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। ছিন্নমূল থেকে শুরু করে মসজিদ মাদ্রাসার ইমাম মোয়াজ্জেন কেউই বাদ পড়েনি এই সহযোগিতা থেকে। করোনা মহামারীর এই যুদ্ধে আমরা জয়ী হবোই। বঙ্গবন্ধু কন্যার দক্ষ নেতৃত্বে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠবই। আমরা বিজয়ী জাতি। করোনা যুদ্ধে যেসকল যোদ্ধা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। বাহাত্তরে বছরে আওয়ামী লীগের যে সকল নেতা কর্মী সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে দেশের জন্য, দলের জন্য জীবন দিয়েছে তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। বিনম্র শ্রদ্ধা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক গণিত বিভাগ, সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও পরিচালক, বঙ্গবন্ধু চর্চাকেন্দ্র বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ