আত্মীয় না হলেও দেয়া যাবে কিডনি, আদালতের রায়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৮

বাংলাদেশে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ১৯৯৯ এর তিনটি ধারাকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে জারি করা রুলের ওপর আজ আদালত কিডনি দান করার বিধান রেখে আইন সংশোধনের রায় দিয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, নিকটাত্মীয় ছাড়া বন্ধুবান্ধব বা মানবিক ও সহানুভূতিশীল যে কেউ চাইলে কিডনি দান করতে পারবে।

২০১৮ সালে আইনের একটি সংশোধনী অনুযায়ী ২৩ জন নিকট আত্মীয়ের বাইরে একজন রোগীকে কেউ কিডনি দান করতে পারতো না।

এবার আরেক দফা ঐ আইন সংশোধনের পর কিডনির প্রতিস্থাপন আগের চাইতে সহজ হবে বলে মনে করেন রিটকারী আইনজীবী রাশনা ইমাম।

রাশনা ইমাম বলেন, "আইনে এতোদিন বলা হয়েছে নিকট আত্মীয় ছাড়া কেউ অঙ্গ দান করতে পারবেনা। অনেক সময়ই নিকটাত্মীয়দের মধে ম্যাচ পাওয়া না যেতে পারে। আবার ম্যাচ পাওয়া গেলে তাদের সদিচ্ছার অভাব থাকতে পারে।"

তবে এই সুযোগের যেন অপব্যাবহার না হয় সেক্ষেত্রে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং এই ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বল মনে করেন আইনজীবী রাশনা ইমাম।

বাংলাদেশে কিডনি সংক্রান্ত রোগের চিত্র

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা যায় কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে। কিডনি অকেজো হয়ে পড়লে একে কৃত্রিমভাবে চালু রাখা বা ডায়ালাইসিসে যে পরিমাণ খরচ হয় তার চাইতে সহজ উপায় কিডনি প্রতিস্থাপন।

কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ কম ও এটি স্থায়ী সমাধান হলেও দাতা পাওয়া যায়না।

এই ভোগান্তির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে কিডনি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যানে, যেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ছে।

গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগের প্রধান তাজুল ইসলাম বলেন, "দেশে কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত ৪০ হাজার রোগী। এরমধ্যে প্রতিস্থাপন যোগ্য রোগী ২৫ হাজার। কিন্তু দেশের ভেতরে ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয় মাত্র ২৫০টি। দেশের বাইরে হয় ১২০০-১৫০০। চাহিদা ও যোগানে ব্যাপক ফারাকের কারণ দেশের প্রচলিত আইন।"

"যদি সবাই স্বেচ্ছায় বা মরনোত্তর কিডনি দিতে পারতো, দেশে এ নিয় ডাটাবেজ থাকতো, এবং অরগান ব্যাংক থাকতো তাহলে চাহিদা ও যোগানে ভারসাম্য আনা যেত।"

কডনি বাণিজ্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা

আইনের বাইরে তালিকাভুক্ত আত্মীয় স্বজনের বাইরে অন্য কারও থেকে কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাণিজ্য শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের কিডনি বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল আলম।

কিডনি প্রতিস্থাপন বৈধতা পাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষজন অভাবের তাড়নায় কিডনি বিক্রি করতে আগ্রহী হতে পারেন বলে মন্তব্য করেন রফিকুল আলম।

"উন্নত দেশগুলোয় ৭০-৯০% কিডনি প্রতিস্থাপন হয় 'ব্রেনডেড' রোগীর থেকে। এদিকে আমরা এক শতাংশ সক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি। এদিকটায় আমরা মনোযোগ দিতে পারি।"

ডাক্তার রফিকুল আলমের মতে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিকল্প দিকগুলোর দিকে মনযোগ দেয়া উচিত বাংলাদেশের।

'অর্গ্যান সোয়াপিং' বা অঙ্গ বিনিময় পদ্ধতিও কাজে আসতে পারে। ধরেন এই ফ্যামিলির কারও কিডনি দরকার কিন্তু তার পরিবারের যিনি দিতে আগ্রহী তারটা ম্যাচ হচ্ছেনা। সেটা আবার অন্য রোগীর সাথে ম্যাচ হচ্ছে। তখন সেটা ফেয়ার ডোনেশনের ভিত্তিতে দেয়া যায়।"

ডাক্তার রফিকুল আলমের মতে, এই আইনের যেন বাস্তবায়ন হয় তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে নজরদারির জন্য আলাদা ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। সংশোধিত নতুন আইনে আরো সুস্পষ্ট নীতিমালাও সংযুক্ত করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ