অবশেষে আলোচনার টেবিলে তুরস্ক-গ্রিস

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:২৯

উত্তেজনা নিরসনে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর সোমবার আলোচনার টেবিলে পরস্পরের মুখোমুখি হলো তুরস্ক ও গ্রিস। দুই দেশের মধ্যকার এই বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।

পূর্ব ভূমধ্যসাগর ইস্যুতে দুই দেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। গত কয়েক মাস ধরেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক পর্যায়ে আঙ্কারার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির হুঁশিয়ারি দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার ইস্তাম্বুলে মুখোমুখি আলোচনায় বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

দীর্ঘদিনের বিরোধ একটা বৈঠকেই মিটে যাবে এমনটা প্রত্যাশা করা কঠিন। কিন্তু এই বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনার প্রক্রিয়া আবার শুরু হলো। এর ফলে নতুন করে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। দুই দেশই আলোচনার টেবিলে বসে একটা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তারা এখন সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজবে।

যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে এই বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে। আর জার্মানি বলেছে, তারা বেশ কিছুদিন ধরেই এই বৈঠকের অপেক্ষায় ছিল। এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ।

ভূমধ্যসাগরে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন নিয়েও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। দুই দেশই দাবি করে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় গ্যাস তোলার ও খোঁজার অধিকার তাদের আছে। তাছাড়া জলসীমা নিয়েও বিরোধ শুরু হয়।

বিরোধপূর্ণ এলাকায় তুরস্ক গ্যাস অনুসন্ধানকারী জাহাজও পাঠিয়ে দেয়। গ্রিসের বন্ধু দেশগুলো এথেন্সের সমর্থনে এগিয়ে আসে। দুই দেশই সামরিক মহড়া শুরু করে দেয়। এক পর্যায়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান ঘোষণা করেন, তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য ইউরোপের দরজা খুলে দিয়েছেন। তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের ২০০ কিলোমিটারের সীমান্ত আছে। তারপর গ্রিসে শরণার্থীদের ঢল নামে।

তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার ব্লকটির ২৬টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভার্চুয়াল বৈঠকও করেন। পরে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেন, নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে।

গত সপ্তাহেই তুরস্ক সফরে যাওয়া জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করিনি। কারণ, আমরা দেখছি কিছু ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। ভূমধ্যসাগরের বিতর্কিত জায়গায় তুরস্কের কোনও জাহাজ নেই। তুরস্ক ও গ্রিস এখন সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজছে। এগুলো হলো ইতিবাচক দিক। আর এই আলোচনা শুরুর জন্য জার্মানি বেশ কিছুদিন ধরেই অপেক্ষা করছিল।’

তুরস্কের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সিগডেম নাস ডিডব্লিউ-কে বলেন, ‘এই আলোচনা শুধু যে দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাই নয়, বরং ইইউ-র সঙ্গে তুরস্কের সুসম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটি বড় ভূমিকা নেবে।’
সূত্র : ডিডব্লিউ

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ