কাশ্মীর ইস্যুতে সরকারকে আরও সময় নিতে বললেন আদালত

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:৩৩

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুটি ভীষণ সংবেদনশীল; যে কারণে এ বিষয়ে সরকারের আরও সময় নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যটির একটি আঞ্চলিক দলের করা পিটিশনের জবাবে আজ মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) আদালত এমনটাই জানিয়েছেন বলে দাবি গণমাধ্যম 'এনডিটিভি'র।

বিচারকের করা মন্তব্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, 'আমরা সব সময়ই এক স্বাভাবিক অবস্থা প্রত্যাশা করি। যদিও এক রাতের মধ্যেই সব কাজ করা সম্ভব নয়। কেউ জানে না আগামীতে ঠিক কী হবে। এখন সরকারের ওপরও কাউকে না কাউকে নির্ভর করতেই হবে। আর এটা (কাশ্মীর) খুবই সংবেদনশীল একটি ইস্যু। তাই সরকারেরও একটু সময় নেওয়া উচিত।'

ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটির বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও রাজ্যটিকে দুইভাগে বিভক্ত করে ক্ষমতাসীন মোদী সরকার পার্লামেন্টে একটি বিল পাস করেছিল। গত শনিবার (১০ আগস্ট) সেই বিলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে কাশ্মীরের আঞ্চলিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের পক্ষ থেকে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়।

মূলত সেই পিটিশন দাখিলের তিনদিন পর সুপ্রিম কোর্টে এ নিয়ে প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে আদালত সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান। যদিও শুনানিটি শেষে বিচারক দুই সপ্তাহ পর এর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে গত ৫ আগস্টের পর কাশ্মীরে যেসব আঞ্চলিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল; এই শুনানিতে তাদেরও মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ১০ আগস্ট ন্যাশনাল কনফারেন্সের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা পিটিশনে বলা হয়, 'সংবিধানের ৩৭০ (১) (ঘ) অনুচ্ছেদে জম্মু ও কাশ্মীরের সংবিধানকে পাইকারিভাবে পুনস্থাপিত করার কোনো ক্ষমতা দেয়া হয়নি।' যে কারণে সুপ্রিম কোর্টকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

আদালতে কাশ্মীরি এই পার্টির করা পিটিশন অনুযায়ী, রাজ্যের মানুষ এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের (কাশ্মীরের বিধানসভা) সঙ্গে আলোচনা ও কোনো ধরনের সম্মতি না নিয়েই অঞ্চলটির দীর্ঘ দিনের বিশেষ মর্যাদা একতরফাভাবে রদ করা হয়েছে। মূলত যার মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং স্বাধীনতাকে সামান্যতম মূল্যায়ন করা হয়নি; যা কখনোই মেনে নেওয়ার মতো নয়।

এর আগে গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন; আর ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ