গর্ভবতী ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করবে যুক্তরাষ্ট্র

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৩৬ | আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:০১

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর গর্ভবতী নারীদের শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য আমেরিকায় ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন কিছু নিয়ম চালু করেছে।

নীতিটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হয় এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম দেয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ নামে পরিচিত এই বিধিকে একটি কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

নতুন এই নিয়মে একজন গর্ভবতী নারী যদি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ভিসার জন্য আবেদন করেন, তা হলে তাকে এটা প্রমাণ দিতে হতে পারে যে মার্কিন মাটিতে সন্তান জন্ম দেওয়া ছাড়া তার ভ্রমণের নির্দিষ্ট অন্য কারণ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সব শিশু দেশটির নাগরিকত্ব পায়- যে আইনের সমালোচনা করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন ভ্রমণ নীতি প্রণয়ন জরুরি।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যেখানে ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা আইনগতভাবে সক ব্যক্তিকে’ নাগরিকত্ব প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

তথাকথিত অ্যাংকর শিশুদের যাদের মায়েরা ভিন্ন দেশের নাগরিক কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় সেখানে সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, তাদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে কনজারভেটিভরা। যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের স্বজন থাকার ভিত্তিতে ভিসা পাওয়ার প্রথাটি ‘চেইন মাইগ্রেশন’ নামে পরিচিত, ট্রাম্প এই নীতিরও সমালোচনা করেন।

নতুন নিয়ম কী আছে?
বি ভিসাপ্রত্যাশী ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়মটি প্রযোজ্য হবে, যা অনভিবাসীদের জন্য জারি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ‘প্রাথমিক উদ্দেশ্য’ সেখানকার কাগজপত্র পাওয়ার আশায় সন্তান জন্ম দেয়া হলে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। নতুন এই বিধিতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এই অনুমতি দেয়া হয়েছে।

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে ইচ্ছুকদের জন্যও এটি বিধির নিয়মগুলোকে আরও কড়া করা হয়েছে। ভিসা আবেদনকারীদের এখন প্রমাণ করতে হবে যে তাদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করার ‘উপায় এবং উদ্দেশ্য’ আছে এবং একজন কনস্যুলার কর্মকর্তাকে বোঝাতে হবে যে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ইচ্ছুক এমন একজন ডাক্তারের ব্যবস্থাও তিনি করে রেখেছেন।

হোয়াইট হাউস নতুন এই বিধিমালার প্রশংসা করেছে। 

প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি স্টিফানি গ্রিশাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বার্থ ট্যুরিজম শিল্প’ হাসপাতালের ওপর বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি অপরাধমূলক কার্যকলাপকে উসকানি দিতে পারে।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ